তৃণমূলকে সহায় দেওয়া আইপ্যাক কি ফিরবে পশ্চিমবঙ্গে? মমতা কথায় অবস্থান স্পষ্ট
তৃণমূলকে সহায় দেওয়া আইপ্যাক কি ফিরবে পশ্চিমবঙ্গে? মমতা কথায় অবস্থান স্পষ্ট
গত সপ্তাহে প্রশান্ত কিশোরকে (Prashant Kishor) থ্যাঙ্ক ইউ (Thank You)বলেছিলেন তৃণমূল (Trinamool Congress) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গিয়েছে। তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু আইপ্যাক (IPAC) কি পশ্চিমবঙ্গে ফের তৃণমূলের হয়ে কাজ করবে, এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। তবে এব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গিয়েছে।

মমতার সঙ্গে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক
সূত্রের খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে আইপ্যাকের চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছে ডিসেম্বরে। তবে অন্য রাজ্যে তা এখনও বলবত রয়েছে। তবে এনিয়ে ঠিক কোন অবস্থা রয়েছে তা জানে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং আইপ্যাক। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে আসন খুইয়ে ২০২২-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সহায় দেওয়া আইপ্যাক কি ফের তৃণমূলের জন্য কাজ করবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের সাত শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ওই নেতাদের তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলবেন।

সিদ্ধান্ত নেমেন মমতাই
তৃণমূলের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, কিংবা কী কী কাজ করার কথা ছিল, সেই কাজের কতটা বাকি রয়েছে, এব্যাপারটি তিনি নিজেই বুথে নিতে চাইছেন বলে জানা গিয়েছে। শুধু সৌগত রায়ই নন, তৃণমূলের অনেকেই মানছেন ২০২২-এ তৃণমূলের নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় ফেরার পিছনে আইপ্যাকের অবদানের কথা। সেই কারণে তৃণমূলের নেতা ও কর্মীদের মধ্যে আইপ্যাককে নিয়ে কৌতুহল রয়েছে।

অভিযোগের জেরে বিরক্ত ছিলেন মমতা
আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে যাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ আইপ্যাকের কাজ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী প্রথমের দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেউই বিষয়টিকে পাত্তা দিতে চাননি। পরবর্তী সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাত্তা না দিলেও তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতারা বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিষয়টি নিয়ে দরবার করেছিলেন। যার জেরে তৃণমূল সুপ্রিমো নিজেও বেশ কিছুটা বিরক্ত ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে এবারের প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ার জেরে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। টুইটার আনফলো ফলোর পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন পুরো বিষয়টি নিজের হাতেই রেখেছেন বলে জানা গিয়েছে।

মমতার সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের সম্পর্ক বেশ পুরনো
বর্তমান পরিস্থিতির জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর প্রশান্ত কিশোরের মধ্যে যাই হোক না কেন, দুজনের সম্পর্ক বেশ পুরনো। ২০১৫ সালে পটনায় নীতীশ কুমারের শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে দুজনের আলাপ হয়। ওই বছরে বিহারের নির্বাচনে নীতীশ কুমারের জয়ে বিশেষ ভূমিকা নেওয়া প্রশান্ত কিশোর পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের জন্য কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। পরের বছরের শুরুতে তিনি কলকাতা এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করলেও, বিষয়টি সেরকম এগোয়নি। এরপর ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে আসন হারানোর পরে তৃণমূলের তরফে যোগাযোগ করা হয় প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে। প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ এবং পরে ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং গোয়ার জন্য চুক্তি হয় আইপ্যাকের সঙ্গে।












Click it and Unblock the Notifications