দার্জিলিংয়ে অশান্তি ছড়িয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে কেউ, সাবধান করলেন মমতা
টানা ১০৩ দিনের বনধের পর প্রথম পাহাড়ে পা রেখে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন পাহাড়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে কেউ।
'দার্জিলিং আমাদের ভালোবাসার জায়গা। পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখতে আমরা কখনই পাহাড়ের কাজে হস্তক্ষেপ করি না। কখনই পাহাড়ের কাজে নাক গলায় না রাজ্য। সেই জন্যই জিটিএ গড়েছি।' টানা ১০৩ দিনের বনধের পর প্রথম পাহাড়ে পা রেখে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ম্যালের সভা থেকে বলেন, 'পর্যটকরা পাহাড়ের লক্ষ্মী। সাড়ে তিন মাসের বনধে পাহাড় থেকে সেই পর্যটকরাই সরে গিয়েছেন। বনধ হলে কী করে পর্যটকরা আসবে! তাই বলছি, বনধের খেলা বন্ধ করুন। পাহাড়ে বনধ হলে দার্জিলিংয়ের ক্ষতি। ব্যবসার ক্ষতি। দার্লিংয়ের ক্ষতি হলে বাংলার সে অর্থে কোনও ক্ষতি হরবে না। তবে হৃদয়ে ব্যথা লাগবে।'
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা চাই- দার্জিলিংয়ের মানুষ শান্তিতে থাকুক। সে জন্য রাজ্য ফের পাহাড়ের লক্ষ্মীশ্রী ফেরানোর চেষ্টা করছে। পাহাড়ের জন্য আমরা সব দেব। পাহাড়বাসী শুধু শান্তিতে থাকবে, অশান্তি করবেন না, এই কথাটুকু দিক। মনে রাখবেন, আমি ভোট চাইতে পাহাড়ে আসি না। পাহাড়কে ভালবাসি, তাই আসি। বাম আমলে তো কেউ আসতেন না। আমি দুমাস অন্তর এসেছি। এবার পাহাড় অশান্ত ছিল, তাই অশান্ত পাহাড়কে শান্ত করে পাহাড়ে আসতে আট মাস সময় লাগল।'
এদিন পাহাড়ে কেন অশান্তি, তা স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, 'অনেকে চান দার্জিলিংয়ের খ্যাতি কমাতে। সেই কারণেই তাঁরা পরিকল্পিতভাবে অশান্ত করছেন। দার্জিলিংকে অশান্ত করছে প্রতিবেশী সিকিম। কেননা দার্জিলিং অশান্ত হলে সিকিমের ফায়দা। দার্জিলিং অশান্ত হলে কিছু লোক ফায়দা লুঠতে পারবে। টাকা ছড়িয়ে দার্জিলিংয়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আপনারা যদি সজাগ থাকেন, সেই অশুভ শক্তি পাহাড়ে ঢুকতে পারবে না।'
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সেই সঙ্গে মনে রাখা জরুরি সিকিমের থেকে কম সুন্দর নয় দার্জিলিং। দার্জিলিং সুইজারল্যান্ডের মতোই সুন্দর। এই সুন্দর দার্জিলিংকে টাকা দিয়ে কেনা যাবে না, দার্জিলিং হৃদয় দিয়ে জয় করতে হবে। আর এই দার্জিলং বিশ্বের সেরা জায়গার মধ্যে অন্যতম। আমাদের সেই বিশ্বের দরবারে তাকে তুলে ধরতে হবে। তাই এমন কিছু করব না, যাতে দার্জলিংয়ের বদনাম হয়।'
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য জিটিএ গঠন হয়েছে। তাঁর মাথায় বসেছেন বিনয় তামাং। তিনি দার্জিলিং গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। আমরা তাঁকে সর্বান্তকরণে সাহায্য করব। বিনয় তামাং আমাকে কিছু উন্নয়ন রূপরেখা দিয়েছেন। যেমন- দার্জিলিংয়ে শিল্প সম্মেলন করা, ক্রীড়া হাব তৈরি করা, ইত্যাদি। আমরা সেগুলি করার চেষ্টা করব। আমরা ডিভাইন্ড অ্যান্ড রুল চাই না। ডিভাইন্ড অ্যান্ড রুল করে একটি ভোটে জেতা যায়, মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না। আমরা চাই পাহাড়বাসীর হৃদয় জয় করতে।'












Click it and Unblock the Notifications