বিনয়ের পর ‘টার্গেট’ রোশন! পাহাড়ে গুরুংকে মাত দিতে নয়া ‘ঢাল’ মমতার
হয় গুরুংকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসুন, নতুবা গুরুং-শিবির ছেড়ে বেরিয়ে আসুন তিনি। দুই শর্ত পূরণ করতে না পারলে গ্রেফতারি অনিবার্য রোশনের।
বিনয় তামাংয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টার্গেট মোর্চা সম্পাদক রোশন গিরি। তাঁকেই এবার টোপ দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের তরফে। সেই কারণেই বাগে পেয়েও রোশনকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে একাংশের মত। আসল এটা প্রশাসনের একটা চাল। তাঁকে পরিকল্পিতভাবেই গ্রেফতার করা হয়নি।

কিন্তু কী সেই পরিকল্পনা- যাতে বাগে পেয়েও লুক আউট নোটিশ থাকা আবার ইউএপিএ ধারায় অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হল? বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসন চাইছে গুরুংকে বুঝিয়ে শর্তহীনভাবে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসুন রোশন। তা না হলে গুরুং-শিবির ছেড়ে বেরিয়ে আসুন তিনি। দুই শর্ত পূরণ করতে না পারলে গ্রেফতার করা হবে তাঁকে।
গুরুংকে আলোচনার টেবিলে আনা নতুবা একেবারে একা করে দেওয়ার এই নয়া পরিকল্পনা এবার করা হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এটা মমতার নতুল কূটনৈতিক চাল বলে মনে করা হচ্ছে। রোশন গিরিকে বাগে পেয়েও ছেড়ে দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে গুরুংকে বুঝিয়ে রাজি করাও, না হলে তোমাকেও শ্রীঘরে যেতে হবে।
সম্প্রতি রোশন গিরির নেতৃত্বেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন মোর্চা নেতারা। বিমল গুরুংয়ের প্রেরিত দূত হিসেবেই এই মোর্চা নেতারা গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে কেন্দ্রের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। এদিকে মমতা চাইছেন গুরুং আলোচনায় আসুন, কিন্তু গোর্খাল্যান্ড দাবি বাদ দিয়ে হবে আলোচনা। এ বিষয়ে কোনও শর্ত তিনি মানবেন না। পড়ে রয়েছে ফৌজদারী মামলা। তা বিবেচনা করা যেতে পারে।
সেই কারণেই রোশন গিরিকে এবার মধ্যস্থ করে গুরুংয়ের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে চাইছে প্রশাসন। গুরুংও সন্ধির প্রস্তাব ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে জড়িয়ে রয়েছে গোর্খাল্যান্ড। তা কিছুতেই মানবেন না মমতা। এদিকে রাজনাথের সঙ্গে মোর্চার বৈঠক ভালোভাবে নেননি তিনি। তাই সিআইডি পাঠিয়ে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনজন গুরুংঘনিষ্ঠ নেতাকে পাকড়াও করেছেন। শুধু ছেড়ে দিয়েছেন রোশন গিরিকে। তাঁকে এবার ঢাল করে অন্য খেলায় নেমেছে মমতার প্রশাসন।
রাজ্য প্রশাসন ঠিক করেই ফেলেছে, দু-টি শর্ত দেওয়া হয়েছে রোশন গিরিকে। তা মানলে ভালো নতুবা পুজোর পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। এরই মধ্যে মোর্চা সম্পাদকের বিবৃতিতে নয়া জল্পনা তৈরি হয়েছে। রোশন গিরি বিবৃতি দিয়েছেন, 'আমাদের সমর্থনে সিকিমবাসী মুখ খুললেও, মোর্চা সিকিমের সঙ্গে দার্জিলিংয়ের সংযুক্তিকরণ চায় না। সমর্থনও করে না। আমরা পৃথক গোর্খাল্যান্ডের পক্ষে ঠিকই কিন্তু সিকিমের ইচ্ছার সঙ্গে সহমত নন তাঁরা।' তাঁর এই কথায় বিনয়ের সুর ধরা পড়েছে এদিন।












Click it and Unblock the Notifications