শাসকদলই যখন অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করে...! মণিপুর-কাণ্ডে বিজেপিকে নিশানা মমতার
শাসকদলের কাজ শান্তি বজায় রাখা। কিন্তু শাসক দলই যখন অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করে তখন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। মণিপুরের হিংসা নিয়ে বিজেপিকে এই ভাষাতেই নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মণিপুর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোদী-শাহের চুপ থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, উত্তর-পূর্ব রাজ্যের এমন পরিস্থিতি। হিংসা ছড়া্চ্ছে, পরাণহানির ঘটনা ঘটছে। আর সেই আশান্তির মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাক। অমিত শাহ এখন মণিপুর সফরে না গিয়ে বাংলায় সফরে আসছেন!

অমিত শাহের বঙ্গ সফর নিয়ে অসন্তষ্ট মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারত জ্বলছে। আমরা এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। এখন রাজনীতি না করে মানুষের কথা ভাবুন। মানুষের পাশে দাঁড়ান। মমতা বলেন, রাজনীতি আগে নাকি মানুষ আগে, সেটা ভাবা উচিত শাসক দল বিজেপির।
মণিপুর হিংসার এখনও পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হিংসায় মৃত্য়ু পাশাপশি সরকারের দেখামাত্রা গুলি চালানোর নির্দেশের জেরেও মৃত্যু হয়েছে অনেকের। কিন্তু মণিপুরে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা গোপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মণিপুরে হিংসায় ৫৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। হিংসার পাশাপাশি সরকারের দেখামাত্র গুলির করার নির্দেশের জেরেও মৃ্ত্যু হয়েছে অনেকের। কিন্তু মণিপুরে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা কত, তা গোপন করছে কেন্দ্র। এমনই অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বাংলায় কিছু না হলেও ১৫১টা কেন্দ্রীয় দল পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মণিপুরে এখনো কোনো কেন্দ্রীয় দল গেল না। কেন্দ্রের সরকার এ ব্যাপারে নির্লিপ্ত। তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি মমতা বলেন, বাংলা মণিপুরে আটকে থাকা রাজ্যের বাসিন্দাদের ফিরিয়ে এনেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এখনও অশান্তি চলছে। মণিপুরে ৬৮ জন পড়ুয়া এখনো আটকে রয়েছেন। তাঁদেরকেও নিরাপদে ফেরানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু বাংলা নয়, তাঁরা অন্য রাজ্যের পড়ুয়া ও বাসিন্দাদেরও উদ্ধার করে আনছে। এবং রাজ্যে আশ্রয়ও দেওয়া হচ্ছে।
এই অবস্থায মণিপুরে না গিয়ে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেন বঙ্গসফরে আসসেন, তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, মণিপুর জ্বলছে। মণিপুরে সবার আগে যাওয়া উচিত। যাওয়া উচিত মণিপুরকে শান্ত করতে। কিন্তু তা না করে তিনি বাংলায় রাজনীতি করছেন।
মমতা বলেন, নির্বাচন আসবে যাবে, কিন্তু মানুষের জীবন আগে। ভোট নিয়ে বিজেপি যতটা ব্যস্ত মণিপুর নিয়ে ততটা ব্যস্ততা নেই। মণিপুর আগে গিয়ে বাংলায় তো পরেও আসা যেত। উত্তর-পূর্বের পরিস্থিতিত নিয়ে উদ্বেব প্রকাশ করে কেন্দ্রকে তিনি তুলোধনা করলেন।












Click it and Unblock the Notifications