রামপুরহাটের বগটুই প্রসঙ্গে ‘লাটসাহেব’কে নিশানা মমতার, রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে
রামপুরহাটের বগটুই প্রসঙ্গে ‘লাটসাহেব’কে নিশানা মমতার, রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে
রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের ঘটনা পরম্পরা নিয়ে রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাত আরও চরমে উঠল। চিঠির পাল্টা জবাব পেয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালকে 'লাটসাহেব' বলে অভিহিত করলেন। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন প্রশাসনিক প্রধান। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তরজায় জড়িয়ে চিঠি চালাচালিতেই সমীবদ্ধ রইল না বিবাদ, প্রকাশ্যেই মুখ খুললেন তাঁরা।

রাজ্যে একজন লাটসাহেব রয়েছেন!
বুধবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্য সরকারের বিধবা ভাতা প্রদানের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্যো্যপাধ্যায় নাম না করেই আক্রমণ শানান রাজ্যপালের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, রাজ্যে একজন লাটসাহেব রয়েছেন। সেই লাটসাহেব কথায় কথায় বলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নেই। কিন্তু তিনি নিজে দিব্যি ঘুরে বেড়ান জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং সর্বত্রই।

দেশলাই জ্বালালে নিজের ঘরও পুড়বে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বলেন, বিজেপিশাসিত রাজ্যে এর চেয়ে অনেক বেশি হিংসার ঘটনা ঘটে। তার মানে এঠা নয় যে. আমরা রামপুরহাটের ঘটনাকে সমর্থন করছি। রামপুরহাটের বগটুইয়ের ঘটনায় দোষীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবেন। নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় সাবধান করে বলেন, মনে রাখবেন, অন্যের ঘরে দেশলাই জ্বালালে নিজের ঘরেও তা উড়ে এসে পড়তে পারে।

‘অনেক নষ্টামি অনেক দুষ্টুমি দেখেছি’
তিনি বলেন, আসলে এখানে দাঙ্গা করতে পারছে না। লোকেরা খেতে পারছেন না, সেটাও বলতে পারছে না। মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারছে না, সে কথাও বলতে পারছে না। তাই দেশলাই জ্বালানো খুব সহজ। দেশলাই জ্বালাতে চক্রান্তকারীদের জুড়ি নেই। অনেক নষ্টামি অনেক দুষ্টুমি দেখেছি। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপই নেওয়া হবে।

পাল্টা জবাব যা বলেন জগদীপ ধনখড়
মঙ্গলবার রামপুরহাটের বগটুই নিয়ে রাজ্যপালের বিবৃতির পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া চিঠি দিয়েছিলেন। তার পাল্টা জবাব দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রামপুরহাট প্রসঙ্গে মমতার অতীত আন্দোলন মনে করিয়ে রাজ্যপাল চিঠিতে লেখেন, এই নির্মম ঘটনার পর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারি না। রামপুরহাটের ঘটনায় তাঁর বিবৃতিকে অযৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নে তোলপাড়
রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে ৫-৭টি বাড়িতে আগুন ও ১০ জনকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনার পারদ ফুটতে শুরু করেচিল রাজ্য রাজনীতিতে। ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এক খুনের পর আরও ৮ মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়ে যায় রাজ্যকে। তারপর পুলিশ নিস্ক্রিয়তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে দার্জিলিং থেকেই কড়া বিবৃতি দেন রাজ্যপাল। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খোদ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় মুখ্যসচিবের রিপোর্ট চেয়ে পাঠান।

রাজ্যপালের বিবৃতি অযৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা
রাজ্যপালের সেই মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে ব্যাখ্যা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবারই চিঠি লেখেন রাজ্যপালকে। রাজ্যপাল সাংবিধানিক পদে থেকে অসাংবিধানিক কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পাল্টা দিয়ে এদিন রাজ্যপাল চিঠি লেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ক। রাজ্যপাল সেই চিঠিতে উল্লেখ করেন, তাঁর বিবৃতিকে অযৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, আপনি যে ধরনের মন্তব্য করেছেন তাতে তদন্তও প্রভাবিত হবে। এটা কার্যত অসাংবিধানিক।

নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকব না
ধনকড় তাঁর জবাবে লিখেছেন, তাঁর বিবৃতির যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবাঞ্ছিত। রাজ্যপালের কথায়, রামপুরহাটের এই ঘটনার পর রাজভবনে আমি নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকতে পারি না। মুখ বুজে থাকবও না। এই জঘন্য ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তারপরই নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চ থেকে রাজ্যপালকে লাটসাহেব বলে কটাক্ষ করে কড়া বিবৃতি দেন মমতা।












Click it and Unblock the Notifications