বাংলায় আদিবাসীদের জমি কেড়ে নেয় না সরকার, বিজেপিকে কটাক্ষ মমতার
কৃষকদের জমি কেড়ে নিয়ে এ রাজ্যে শিল্প করার প্রয়োজন হয় না। তাই আদিবাসীদের জমি হারানোর ভয় নেই তাঁর সরকারের আমলে, বার্তা মমতার।
বাংলায় জমি কেড়ে নেওয়া হয় না। বাংলায় কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত দেওয়া হয় কৃষকদের। তাঁর সরকার দেখিয়ে দিয়েছে, শিল্পের জন্য কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত দেওয়া যায়। শিল্প করার জন্য সরকার জমি ব্যাঙ্কিং করেছে। কৃষকদের জমি কেড়ে নিয়ে এ রাজ্যে শিল্প করার প্রয়োজন হয় না। তাই আদিবাসীদের জমি হারানোর ভয় নেই তাঁর সরকারের আমলে। পুরুলিয়ার সভা থেকে কৃষিজমি নিয়ে বিজেপিকে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডের উদাহারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'পাশের রাজ্যে প্রাকৃতিক সম্পদ অনেক বেশি, তবু দেখুন সে অর্থে উন্নয়ন হয়নি। আর আমাদের রাজ্যে দেখুন উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে।' প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পাশের রাজ্যে বিজেপির সরকার চলছে। তাই বিজেপির নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রী পাশের রাজ্যের উদাহরণ তুলে ধরলেন।
তিনি বলেন, 'আদিবাসী ছেলে-মেয়েদের জন্য পড়াশোনার বন্দোবস্ত থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য- সর্বত্রই উন্নয়ন ঘটিয়েছে তাঁর সরকার। বিভিন্ন ভাতা থেকে শুরু করে সবুজ সাথী, শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী-সহ বিভিন্ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের জন্য। কন্যাশ্রীরা তো আমাদের গর্বের আসনে বসিয়েছে।'
এদিন তিনি বলেন, 'রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে মিথ্যে প্রচার করছে একটা শ্রেণি। যাঁরা উল্টো-পাল্টা কথা বলছেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত, এ জেলায় উন্নয়নের ঝড় বইছে। সবথেকে বড় কথা এই জেলায় শান্তি ফিরে এসেছে। এখন আর পুরুলিয়ায় আসতে মানুষ ভয় পান না। মানুষ রাস্তায় বের হতেও ভয় পান না। পুরুলিয়ায় আর মাওবাদী নেই। ফলে রক্তও ঝরে না। এখন লাল রক্তের বদলে গোটা পুরুলিয়ায় সবুজে সবুজ হয়ে গিয়েছে।'
তাঁর কথায়, 'শুধু পুরুলিয়াই নয়, পুরো জঙ্গলমহলে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে ছাত্রছাত্রীরা স্কলারশিপ পাচ্ছে। কালচারাল অ্যাকাডেমি তৈরি হচ্ছে। পুরুলিয়ায় দুটি মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হয়েছে। আরও একটি মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের শিলান্যাস হল পুরুলিয়ায়। তারপর অযোধ্যা পাহাড়ের চারপাশে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। পুরুলিয়ায় চালু হয়েছে ইকো-ট্যুরিজমও।'
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'তারই ফলে নানা জায়গা থেকে মানুষ বেড়াতে আসছেন বাঁকুড়া-পুরুলিয়ায়। পুরুলিয়া জেলাকে মানুষ ভালোবাসে বলেই আসছে। এমন প্রাণোজ্ব্ল, প্রাকৃতি শোভা আর কোথায় পাবেন মানুষ! আমরা পুরুলিয়াকে সেই অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে পেরেছি, এটাই আমাদের সাফল্য।'
এদিন ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'কৃষি জমির খাজনা মকুব করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। শুধু সেচের জলের একটু সমস্যা রয়ে গিয়েছে। সেচ-ব্যবস্থার কাজের বরাত নিয়েছে জাপানি সংস্থা। সেই কাজে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা অন্য প্রকল্প থেকে টাকা বাঁচিয়ে তাই জলের সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছি।' বন্যা খরায় ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য করা হবে বলেও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications