Panchayat Election: ভাঙড়ের ঘটনায় তৃণমূলের হাত নেই, নাম না করে নৌশাদকে নিশানা মমতার
পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্বে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বারবার সন্ত্রস্ত হয়েছে। মনোনয়নের শেষ দিনে সেখানে হিংসা চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। আর এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের কোনো হাত নেই বলে নবজোয়ারের সমাপ্তি অনুষ্ঠান থেকে গর্জে উঠলেন মমতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, একজন বিধায়ক শুধু বড়ো বড়ো কথা বলে চলেছেন। আর ইন্ধন দিয়েছেন হিংসায়। বিরোধী চারটি দল মিলে ভাঙড়কে উত্তপ্ত করেছে। বিধায়ককে সামনে রেখে বিরোধীরা এইসব করেছে। যার জন্য প্রাণ পর্যন্ত চলে গিয়েছে এক কর্মীর।

শেষ দিনে চার জনের মৃত্যু হয়েছে বাংলার পঞ্চায়েত ভোটের গোটা মনোনয়ন পর্ব। মনোনয়ন পর্ব জুড়েই প্রাক নির্বাচনী সন্ত্রাসে তপ্ত ছিল বাংলা। তারপরও এদিন নামখানায় নবজোয়ারের সমাপ্তি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এত শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন এর আগে হয়নি।
এদিন অতীতের তিনটি পঞ্চায়েত ভোটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি মৃতের সংখ্যাও তুলে ধরেন। এমনকী বাংলায় পরিবর্তনের পর ২০১৩ সালের নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আর পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি জানান, এবার ভাঙড়ে যে লাগাতার হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তার দায় বিরোধীদেরই।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কোচবিহার থকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত যে নবজোয়ার কর্মসূচি চলছিল, এদিন তার সমাপ্তি হল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে নামখানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের একহাত নেন। তিনি বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসকে একহাত নিয়ে আক্রমণ শানান।
তিনি আক্রমণ শানান আইএসএফকেও। আফএসএফ বা নৌশাদ সিদ্দিকীর নাম না করে তিনি বলেন, চারটি দল এক হয়ে রাজ্যে অশান্ত করছে। এক বিরোধী বিধায়ক তো ইন্ধন দিয়েই চলেছেন। কিন্তু বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা করলেও কিছু হবে না। বাংলার মানুষ তৃমমূলকে দু-হাত তুলে আশীর্বাদ করবেন।
এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান. বাংলায় মোট ২ লক্ষ ৩১ হাজার মনোনয়ন জমা পড়েছে। তার মধ্যে তৃণমূল ৮৩ হাজার মনোনয়ন জমা দিয়েছে। বাকি দেড় লাখ মনোনয়ন বিরোধীদের। তবু তারা বলছে মননোয়ন জমা দিতে পারেননি।
মমতার কথায়, তৃণমূল একা নির্বাচনে লড়ছে আর বিরোধীরা লড়ছে এক হয়ে। দেড় লক্ষ মনোনয়নের পরও তাঁরা অভিযোগ তুলছে। কিন্তু এ কথা হলফ করে বলা যায়, এত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এর আগে হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি পূর্বের তিন নির্বাচনের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।
মমতা বলেন, ২০০৩ সালে ৭০ জন মারা গিয়েছিলেন, ২০০৮ সালে মারা গিয়েছিলেন ৩৬ জন। আর ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এবারও বিরোধীদের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, মণিপুরেও তো কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে যাওয়া হল, তারপর কী হল? সেন্ট্রাল মিনিস্টারের বাড়িই জ্বালিয়ে দেওয়া হল। কিছুই করতে পারেনি কেন্দ্রীয় বাহিনী।












Click it and Unblock the Notifications