কে এগিয়ে! দুয়ারে সরকারে যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ স্বাস্থ্যসাথী বনাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
একুশের নির্বাচনের আগে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল বাংলায়। সেই ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প। এই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করাতে উপভোক্তাদের মধ্যে আগর্হ ছিল সবথেকে বেশি।
একুশের নির্বাচনের আগে 'দুয়ারে সরকার' কর্মসূচি শুরু হয়েছিল বাংলায়। সেই 'দুয়ারে সরকার' কর্মসূচিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প। এই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করাতে উপভোক্তাদের মধ্যে আগর্হ ছিল সবথেকে বেশি। সেইসময় বেশিরভাগ মানুষই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন দুয়ারে সরকারে। এবার স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে হাজির লক্ষ্মীর ভাণ্ডারও। কে কাকে টেক্কা দিল সেই লড়াইয়ে?

ভোটের আগে দুয়ারে সরকারে স্বাস্থ্যসাথীর মাত
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মতো তৃতীয়বার সরকারে আসার পর দুয়ারে সরকার কর্মসূচি শুরু করেছেন। তার আগে নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিমতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছেন। আর নির্বাচনের আগে সবার জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ঘোষণায় ভোটের আগে দুয়ারে সরকারে ভিড় জমিয়েছিলেন বাংলার মানুষেরা।

দুয়ারে সরকারে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সবথেকে আকর্ষণীয়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলায় সরকার গড়তে দুয়ারে সরকার ও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প সহায়ক হয়ে উঠেছিল। তাই কথামতো বছরে দুবার দুয়ারে সরকার আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প এনে ফের ঝড় তুলে দিয়েছে তৃণমূল। এবার দুয়ারে সরকারে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ছিল সবথেকে আকর্ষণীয়। কিন্তু স্বাস্থ্যসাথী কার্ডও সমানে পাল্টা দিয়ে যাচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে।

দুয়ারে সরকারের শিবিরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের চাহিদা
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রতি মাসে পরিবারপিছু প্রত্যেক সাধারণ ক্যাটাগরির মহিলা ৫০০ টাকা করে পাবেন আর তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা পাবেন হাজার টাকা করে। এই প্রকল্পের ফর্ম তোলা ও জমা দেওয়া নিয়ে বিপুল উৎসাহ দেখা গিয়েছে এলাকায় এলাকায়। দুয়ারে সরকারের শিবিরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের চাহিদাই সবথেকে বেশি। এবার তা স্বাস্থ্যসাথীকেও অতিক্রম করে গিয়েছে।

প্রকল্প-পরিষেবায় আকর্ষণের বিচারে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
দুয়ারে সরকারের প্রকল্প-পরিষেবায় আকর্ষণের বিচারে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবার এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আগ্রহ দেখিয়েছেন ৯৪.৩০ লক্ষ মানুষ। তুলনায় এবার স্বাস্থ্যসাথী অনেক পিছিয়ে ২৬.১৬ লক্ষ। উল্লেখ্য, ভোট-পূর্ব দুয়ারে সরকারে সিংহভাগ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হাতে পেয়েছিলেন উপভোক্তারা। তাই এবার চাহিদা একটু কম।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম স্বাস্থ্যসাথী কার্ড
প্রথম দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে সমস্ত আবেদনকারীর মধ্যে ৮৫.১৩ লক্ষ মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আর এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সেই সংখ্যাকেও পেরিয়ে গিয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আবেদন ৯৪.৩০ লক্ষ মানুষের। আর এবারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আবেদন হিসেব করলে মোট স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আবেদন এখন পর্যন্ত ১১১.২৯ লক্ষ অর্থাৎ ১ কোটি ১১ লক্ষ ২৯ হাজার। সেই বিচারের এখনও অনেকটাই এগিয়ে স্বাস্থ্যসাথী।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়েও আগ্রহ
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নথিভুক্ত হতে গেলে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড আবশ্যক। সেই কারণে এবারও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করছেন মানুষ। যে সব উপভোক্তা কার্ড পাননি বা কার্ডে সংশোধন প্রয়োজন, তাঁরা এবার স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য বিভিন্ন শিবিরে যোগাযোগ করছেন। ফলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে এবারও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের সংখ্যার নিরিখে
রাজ্য সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের সংখ্যার নিরিখে প্রথম পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও নদিয়া। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আবেদন ৩.১১ লক্ষ, মুর্শিদাবাদে ২.২৩ লক্ষ, উত্তর ২৪ পরগনায় ২.০৪ লক্ষ, পূর্ব মেদিনীপুরে ১.৭১ লক্ষ এবং নদিয়ায় ১.৫৫ লক্ষ উপভোক্তা স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আবেদন করেন।

পরিষেবা প্রদানের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে
তবে পরিষেবা প্রদানের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। ১৬ অগাস্ট থেকে যে দুয়ারে সরকার শুরু হয়েছে, এখন পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৫৩ হাজারের বেশি উপভোক্তাকে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। তারপরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪৪ হাজার মানুষ পরিষেবা পেয়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনায় পরিষেবা পেয়েছেন ৩৭ হাজার। হুগলিতেও ৩৭ হাজার মানুষ পরিষেবা পেয়েছেন এবং হাওড়ায় পরিষেবা পেয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ।

স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের যুদ্ধ দুয়ারে সরকারে
এখন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের এই যুদ্ধ ঘিরে দুয়ারে সরকারে চলছে বিশেষ তৎপরতা। মানুষ দুই প্রকল্পের পরিষেবা নিতে লাইনে দিচ্ছেন। বহু ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলাও চোখে পড়ছে। কিন্তু দিনের শেষে পরিষেবা পাচ্ছেন মানুষ। দুই প্রকল্পই পরল্পর জড়িয়ে রয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আবেদন করতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড আবশ্যক। তাই দুই প্রকল্প নিয়ে এখন মানুষের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা।












Click it and Unblock the Notifications