বীরভূমে বাউল অ্যাকাডেমি ও বিশ্বমানের প্রদর্শনী কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা মমতার
বাউল অ্যাকাডেমিকে বিশ্বমানের প্রদর্শনী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি, যেখানে বিদেশ থেকেও পর্যটকরা আসবেন। সেইসঙ্গে জঙ্গলে ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বীরভূম, ১০ জানুয়ারি : বীরভূমে বাউল অ্যাকাডেমি গড়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় বাউলশিল্পীদের সুযোগ দিতেই এই পরিকল্পনা রাজ্যের। এই অ্যাকাডেমিতে বাউল গান ও গানের কথা নিয়ে গবেষণা হবে বলেও জানান তিনি।
তথ্য সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী ও সচিবকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বাউল অ্যাকাডেমিতে বিশ্বমানের প্রদর্শনী কেন্দ্রও গড়ে তুলতে চান তিনি, যেখানে বিদেশ থেকেও পর্যটকরা আসবেন। সেইসঙ্গে জঙ্গলে ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলার কথাও এদিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবার বীরভূমের কেন্দুলিতে জয়দেব মেলা ও বাউল ও লোক উৎসবের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন উৎসবের কথা তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাউল শিল্পীরা এক অনন্য প্রতিভার অধিকারী। এঁরা শুধু একটা একতারা নিয়ে গলায় সুর তোলেন। গলা সাধতে হয় না, উন্নতমানের গলা নিয়েও এঁরা জন্মগ্রহণ করেন। তাই এঁদের প্রতিভাকে স্বীকৃতি দিতেই সরকার পরিকল্পনা নিচ্ছে বাউল অ্যাকাডেমি গঠন করার।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই পৌষ মাস নতুন ধান ঘরে তোলার সময়। এই সময়েই বাংলার ঘরে ঘরে পিঠে-পুলি উৎসব হয়। তেমন আর এক মাটির উৎসব এই বাউল উৎসব। এতে মাটির গন্ধ মিশে রয়েছে। তাই তো একতারার গান না শুনে বীরভূম সফর সম্পূর্ণ হয় না। বাংলার বুকে বাউলকে ছড়িয়ে দিতেই এদিন বাউল অ্যাকাডেমির শিলান্যাস হল। সাতদিনের মধ্যেই এই কাজ শুরু হবে। বাংলার হাত ধরে বাউল পৌঁছে যাবে বিশ্বের দরবারে।
আগেই ঘোষণা হয়েছে বীরভূমে বিশ্ব বাংলা বিশ্ব বিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। সেই কাজও শুরু হয়েছে। মমতা বলেন, লোক শিল্পীদের জন্য আমরা লোক প্রসার প্রকল্প শুরু করেছি। প্রায় ৮০ হাজার লোকশিল্পী এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন।
এদিনও নোটকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর সরকারকে তুলোধনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'ক্ষমতা ছাড়া হয়ে এবার প্লাস্টিকের ব্যবসা করতে হবে নরেন্দ্র মোদীকে। মনে রাখবেন, মোদী চলে যাবে, মমতাই কিন্তু থাকবে। তিনি আরও বলেন, 'মোদীর কালো হয়ে গেল ভালো। আর জনগণের সাদা টাকা কেড়ে নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ট্যাক্সও কাটবে আবার টাকাও কেড়ে নেবে? তা চলতে পারে না। এমন নির্লজ্জ, তুঘলকি সরকার আগে দেখিনি। এই সরকারকে চলে যেতেই হবে।
নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি আরও বলেন, দেশের ৯৩ শতাংশ গ্রামে ব্যাঙ্ক নেই। কৃষক মজুরের পেটে খাবার জুটছে না। ১২০ জন মারা গিয়েছে সারা দেশে। তাদের দায় কি নেবেন মোদীবাবু? এরপরই তিনি প্রশ্ন ছোড়েন, মোদীবাবু, মানুষ কি তাহলে প্লাস্টিক খাবে? আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনি প্লাস্টিকের ব্যবসা শুরু করেছেন।
তিনি কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রসের আমলে একটাও চিটফান্ড হয়নি। হয়েছে সিপিএমের আমলে। পার্ল-সহ একাধিক চিটফান্ডে নাম জড়িয়েছে বিজেপির। সিপিএম বা বিজেপি- কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। মমতার দল নোট বাতিলের বিরোধিতা করেছিল, তাই শুধু তার দলের নেতাদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে।
আবারও মোদীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা বলেন, 'মাথাটা হয়ে গিয়েছে ক্রিমিনাল বেল্ট। শুধু ষড়যন্ত্র আর ষড়যন্ত্র। মধু-বিধু দুই ভাই ম্যানেজ করে সরকার চালাচ্ছে। মানুষের সর্বনাশে ওনাদের বিজেপির মধুমাসে পরিণত হয়েছে। এক সময় দাঙ্গার জনক ছিলেন। ভেবেছিলাম ক্ষমতায় এসে পরিবর্তন হবে। কিন্তু পরিবর্তন হল না। আসলে ওনার মনটাই অপরাধী হয়ে গিয়েছে। তাই ক্ষমতার দম্ভ শুধু ষড়যন্ত্র করে চলেছেন।
তিনি কটাক্ষ করেন, এবার যাওয়ার সময় হয়ে গেছে ওনার। এবার গাইতে হবে- 'হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হল, পার কর আমারে।' মোদী চলে যাবেন, কিন্তু মমতাই থাকবে। ক্ষমতা ছাড়া হতেই হবে মোদীকে। মানুষ ওনাকে আর ক্ষমতায় রাখবেন না। তিনি এদিনের বাউল উৎসবের মঞ্চ থেকে সিপিএম ও বিজেপির বিষদাঁতকে উপড়ে ফেলার ডাক দেন।












Click it and Unblock the Notifications