মোদী সরকারের প্রকল্প আর এড়িয়ে চলবে না বাংলা, হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত মমতার
মোদী সরকারের প্রকল্প আর এড়িয়ে চলবে না বাংলা, হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত মমতার
মোদী সরকারের কোনও প্রকল্পকেই সেভাবে মান্যতা দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্তত কেন্দ্রের মোদী সরকার সাত বছরের ইতিহাসে এমনটাই দেখা গিয়েছে। কিন্তু আর নয়, এবার মোদী সরকারের প্রকল্প এড়িয়ে চলবেন না তিনি। এতদিন কেন্দ্রের প্রকল্পের সুবিধাকে থোড়াই কেয়ার করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সে সব অতীত করে দেওয়ার পিছনে কারণ কী, তা নিয়েই শুরু হয়েছে চর্চা।

এখন কেন কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর ভাবনা রাজ্যে?
বাংলা যেমন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেছিল, চালু করেছিল কৃষক বন্ধু প্রকল্প, তেমনই কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী মোদীও চালু করেছিলেন আয়ুস্মান ভারত পিএম কিষাণ যোজনা। তখন রাজ্য বলেছিল, কেন আমরা কেন্দ্রের প্রকল্প নেব, আমাদের তো ওই সব প্রকল্প আগেই চালু রয়েছে। একথা সত্যিই যে স্বাস্থ্য প্রকল্প বা কৃষকদের জন্য প্রকল্প আগে থেকেই চালু আছে রাজ্যে। তাহলে এখন কেন কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর ভাবনা?

কেন্দ্রের প্রকল্পের প্রতি অনীহা কাটিয়ে উঠেছে রাজ্য!
কেন্দ্রের প্রকল্প এতদিন এড়িয়ে চলাই ছিল রাজ্যের লক্ষ্য। তার জন্য অনেক যুক্তিও সাজানো হয়েছিল মমতার সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু তৃণমূল এখন কেন্দ্রের প্রকল্পের প্রতি অনীহা কাটিয়ে উঠেছে। তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল সরকার অন্যরকম ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে। ভিন্ন পরিকল্পনা করছে মানুষকে পরিষেবা প্রদান করার জন্য।

সামাজিক প্রকল্প রূপায়ণ করতে গিয়ে চাপে
তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার আগেই দুয়ারে সরকারের কর্মসূচি চালু করেছিল। সেখানে সবাইকে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আনার অভিযান হয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রতিশ্রুতি মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এইসব সামাজিক প্রকল্প রূপায়ণ করতে গিয়ে প্রবল আর্থিক চাপে পড়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, এমনটা মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ব্যাপারে একটু নমনীয় হচ্ছে রাজ্য।

রাজ্যের কোষাগারের চাপ কমাতে পরিকল্পনা
নিত্যনতুন সামাজিক প্রকল্প মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মুকুটে নতুন নতুন পালক যোগ করেছে ঠিকই, কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গিয়ে যে আর্থিক বোঝা সরকারের উপরে চেপেছে, তা থেকে লাঘবের উপায় খোঁজাই এখন দস্তুর হয়ে উঠেছে। রাজ্যের কোষাগারের চাপ কমাতে চাই কেন্দ্রের প্রকল্পের সুবিধা বিবেচনা করার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন।

কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সুবিধার খোঁজে রাজ্য
এই ভাবনায় এখন বাধ সেধেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি। কেন্দ্রের প্রতিটি প্রকল্পেই এখন মোদীর ছবি থাকছে। তাই রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কি রাজি হবেন মোদীর ছবি দেখাতে? কেন্দ্রের প্রকল্প চালুর অনুমোদ তাই এখনও পুরোপুরি লাগু হয়েছে বলা যাবে না। রাজ্যের প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায় কি না, সেটাই খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের।

কেন্দ্রের প্রকল্প নিয়ে ভাবনা-চিন্তা রাজ্যের
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বড় অংশীদারিত্ব গ্রহণ করেছে রাজ্য। পিএম কিষাণ নিয়েও প্রথমে নাক তুললেও পরে তাতে সায় দিয়েছে রাজ্য। এখন দেখছে অন্যান্য প্রকল্পগুলি চালু করা যায় কি না। কেন্দ্রের ফসল বিমা যোজনা থেকে সরে এসে, কৃষকদের শস্য বিমা দিচ্ছে রাজ্য। কেন্দ্রের ফুড প্রসেসিং এন্টারপ্রাইজে এখনও সায় দেয়নি রাজ্য। কিছু প্রকল্পে কেন্দ্রের তুলনায় রাজ্যের বরাদ্দ বেশি হওয়ায় প্রকল্প চালু করতে অন্তরায় হয়ে উঠেছে।

কেন্দ্রের প্রকল্পে নাম বিতর্কে রাজ্যের যুক্তি
এদিকে প্রকল্পে নাম-বিতর্কে রাজ্য আবার পৃথক যুক্তি খাঁড়া করেছে। রাজ্যের যুক্তি, কেন্দ্র সরকার তাদের প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি বা নাম দিচ্ছে। যে সমস্ত প্রকল্পে রাজ্য বেশি টাকা দেয় বা সমান সমান টাকা দেয়, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ও নাম থাকবে না কেন? সেক্ষেত্রে তো রাজ্যের নাম ও ছবি থাকা অনৈতিক নয়। নীতিগত এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

রাজ্যগুলির কাছ থেকে কর, নবান্নের যুক্তি
নবান্ন বলেছে, যে সব প্রকল্পে কেন্দ্রের অংশীদারি পাওয়া সম্ভভ, তা অবহেলা করার কোনও যুক্তি নেই। রাজ্য আবার এমন যুক্তিও খাঁড়া করছে, কেন্দ্র তো নিজেরা টাকা দেয় না। রাজ্যগুলির কাছ থেকে কর বাবদ তারা যে অর্থ আদায় করে, তারই ভাগ দেয়। ফলে রাজ্যের টাকাই রাজ্যের হাতে ফিরে আসে। তাহলে বাধা কোথায়। তারা কেন্দ্রের প্রকল্পে তাই কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়ের নাম ও ছবি থাকার সওয়াল করেছে।












Click it and Unblock the Notifications