সর্বকনিষ্ঠ সাংসদ থেকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, মমতার ভরসার নাম অভিষেক
সর্বকনিষ্ঠ সাংসদ থেকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, মমতার ভরসার নাম অভিষেক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে অভিষেকের অবস্থান নিয়ে চর্চা চলে এসেছে সর্বদাই। দিদির দলে ভাইপোই সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। সেই অঘোষিত সেকেন্ড ইন কম্যান্ডকে এবার আক্ষরিক অর্থেই সেকেন্ড ইন কম্যান্ড করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবথেকে কম বয়সি সাংসদ থেকে অভিষেক হয়ে উঠলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

মমতা যুবা সংগঠনের মাথায় বসিয়েছিলেন ভাইপো অভিষেককে
এখন প্রশ্ন, কেন বারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? ২০১১-তে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুব সংগঠনের পাশাপাশি যুবা সংগঠন তৈরি করেছিলেন। সেই সংগঠনের মাথায় বসিয়েছিলেন ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপর ২০১৪ সালে ২৬ বছরের তরুণ-তুর্কি নেতাকে লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে টিকিট দিয়েছিলেন।

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হওয়ার পর যুবর দায়িত্বে
আর শুরুতেই অভিষেক কিস্তিমাত করে দিয়েছিলেন। ডায়মন্ড হারবার থেকে জিতে তিনি সবথেকে কম বয়সি সাংসদ হয়েছিলেন। তার পরই তিনি যুব সংগঠনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সেই থেকে এতদিন যুব সভাপতির দায়িত্ব সামলে এসেছেন তিনি। এর মাঝে যখন যে দায়িত্ব দিদি দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব পালন করেছেন অভিষেক।

বিজেপির গেরুয়া হাওয়া শুষে নিতে পেরেছিলেন অভিষেক
তার মধ্যে সবথেকে বড় দায়িত্ব এবারের বিধানসভা নির্বাচন। দল ভেঙে ছত্রখান হয়েছে, প্রচারের মুখ হয়ে উঠে তিনি গড় রক্ষা করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন সেকেন্ড ম্যান। বিজেপির হাওয়া যে তিনি শুষে নিতে পেরেছিলেন তা বোঝা গিয়েছিল ২ মে ইভিএম খোলা হতেই। তৃণমূলের সবুজ ঝড়ে হাওয়া হয়ে গিয়েছিল গেরুয়া।

অভিষেকের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরেই মুকুল বিজেপিতে, মনে করেন অনেকে
এর মাঝখানে দলের দুই মহাতারকার সঙ্গে সংঘাত বেঁধেছিল অভিষেকের। যুব সংগঠনের সভাপতি হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। আর ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর মুকুল রায়ের সঙ্গে। তৃণমূলের দ্বিতীয় প্রভাবশালী কে সেই প্রশ্নে অভিষেকের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরেই মুকুল বিজেপিতে চলে যান বলে মনে করেন রাজনৈকিক মহলের অনেকে।

শুভেন্দু দল ছাড়ার পর মমতার একুশের সেনাপতি অভিষেক
আর শুভেন্দু অধিকারী অভিষেকের সঙ্গে সংঘাত থাকলেও ২০২০ পর্যন্ত দলে টিকেছিলেন। তিনি ২০২১-এর নির্বাচনের আগে দল ছাড়েন। তিনিও বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁদের পিছনে পিছনে দল ছাড়েন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতাও। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগী হিসেবে একা অভিষেকের কাঁধে ভার পরে তৃণমূলকে ভোট বৈতরণ পার করার।

২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশের কোনায় কোনায় তৃণমূল
মুকুল, শুভেন্দু, রাজীবরা না থাকা সত্ত্বেও যে কঠিন পরিস্থিতি অবলীলায় পেরিয়ে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারই পুরস্কার পেলেন তিনি। এবার তাঁকে দেওয়া হল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দলকে, দলের বার্তাকে দেশের কোনায় কোনায় পৌঁছে দেওয়ার গুরু দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব নিয়ে তিনি এবার সর্বভারতীয় নেতা হয়ে উঠতে চলেছেন।

২০১৯-এর ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলতে তিনি সর্বতো চেষ্টা অভিষেকের
মোদী-শাহরা বাংলার নির্বাচনে মমতার পাশাপাশি সবথেকে বেশি আক্রমণ করেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। স্বভাবতই তাঁর জাতীয় স্তরে মূল্য অনেক বেড়ে গিয়েছে। সেই গুরুত্ব নিয়েই এবার দলকে বাংলার বাইরে সংগঠিত করার কাজ করবেন তিনি। ২০১৯-এর ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলতে তিনি সর্বতো চেষ্টা করবেন।












Click it and Unblock the Notifications