ভয়াবহ আর্থিক পরিস্থিতিতে কর্মীদের মাইনে নিয়ে প্রশ্ন এবার মমতার মুখে! কেন্দ্রের কাছে একাধিক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনের পরেই জ্বালানির লাগাতার মূল্য বৃদ্ধি হল রিটার্ন গিফট। নরেন্দ্র মোদীর (narendra modi) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কিছুই করছে না। এদিন নবান্নে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বৈঠকে এমনটাই ম
পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনের পরেই জ্বালানির লাগাতার মূল্য বৃদ্ধি হল রিটার্ন গিফট। নরেন্দ্র মোদীর (narendra modi) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কিছুই করছে না। এদিন নবান্নে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বৈঠকে এমনটাই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee)। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলির আর্থিক অবস্থা (economic condition) নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

ফের একমাসের দুয়ারে সরকার
এদিন মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক করেন। তারপরেই তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ৫ মে থেকে ৫ জুন ফের দুয়ারে সরকার বসতে চলেছে। তৃতীয় তৃণমূল সরকারের একবছর পূর্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক মানুষ এই দুয়ারে সরকার থেকে উপকৃত হয়েছেন। সেই কারণেই এই ব্যবস্থা।

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নজরদারি
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকার টাস্কফোর্স নজরদারি চালাবে। তিনি বলেন, রাজ্যে মাছ, ডিম এবং পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে। তবে আলু প্রসঙ্গে বলেন, এবার অসমে বৃষ্টির কারণে প্রায় ২৫ শতাংশ আলু নষ্ট হয়ে যাওয়াতেই বিপত্তি। তবে আলুর দাম কম রাখতে সরকার চেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও বেশি সুফল বাংলার স্টল
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে আরও বেশি সুফল বাংলার স্টল তৈরি করা হবে। এই মুহূর্তে রাজ্যে ৩৩২ টি সুফল বাংলার স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ টি রয়েছে বিভিন্ন জেলায়। বাকিগুলি মোবাইল ভ্যান। প্রয়োজনে এই ভ্যানের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এবং সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ৫০০ করা হবে কবলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে রেহাই দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন রমজান মাস চলছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনকে বিপুল দামে ফল কিনতে হচ্ছে। সুফল বাংলার স্টলের মাধ্যমে ফল বিক্রি করে কিছুটা রেহাই দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। সেখান থেকে কম দামে কলা, খেজুড়, তরমুজ বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যগুলি মাইনে দিতে পারবে কিনা সন্দেহ
মুখ্যমন্ত্রী এদিন গত ১৬ দিনে ১৩ বার পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ৮০০ টি ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সরকার সেস বসিয়ে পুরো টাকাটাই তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ট্যাক্স বসাচ্ছে না। কারণ ট্যাক্স বসালে তাতে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েরই ভাগ থাকবে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কার অবস্থা খারাপ, আর ভারতের অবস্থা? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যগুলির আর্থিক অবস্থা এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা ভবিষ্যতে সরকারি কর্মীদের মাইনে দিতে পারবে কিনা সন্দেহ।

কেন্দ্রের কাছে মমতার দাবি
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের কাছে দাবি তোলেন, অবিলম্বে অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। আর কিছু সময়ের জন্য ভিন্ন রাজ্য থেকে ফল ও শাকসবজি নিয়ে আসা ট্রাকগুলি থেকে টোলট্যাক্স নেওয়া বন্ধ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় দায় কেন্দ্রীয় সরকারের। রাজ্যের হাতে এব্যাপারে ক্ষমতা সামান্যই বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications