হৃদয়ের কথায় পাহাড় জয়ের ছক মমতার, ফের মাস্টারস্ট্রোকে মাত বিজেপি ও গুরুং
কেউ ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি প্রয়োগ করতে চাইছেন। কিন্তু আমরা চাই হৃদয় দিয়ে পাহাড় জয় করতে। বনধের পর পাহাড়ের মন জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
কেউ টাকা ছড়িয়ে অশান্তি ছড়াচ্ছে ফায়দা তোলার জন্য। আবার কেউ ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি প্রয়োগ করতে চাইছেন। কিন্তু আমরা চাই হৃদয় দিয়ে পাহাড় জয় করতে। বনধ-হিংসার রাজনীতিতে দার্জিলিং স্তব্ধ থাকার পর প্রথম পাহাড়ে পা রেখে পাহাড়বাসীর মন জিততে হৃদয়ের কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন নাম না করেই বিমল গুরুং ও বিজেপির কঠোর সমালোচনা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী দার্জিলিংয়ে পা রাখলেন আট মাস পর। আর দার্জিলিংয়ে পা দিয়েই তিনি পাহাড় জয়ের রূপরেখা তৈরি করে রাখলেন। পাহাড়ে শান্তি স্থাপন করতে ধৈর্য ও স্থৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন। তারপর মাস্টারস্ট্রোকে দার্জিলিং থেকে অপশক্তিকে দূর করেছেন। এবার তিনি দার্জিলিংকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার বার্তা দিলেন।
দার্জিলিংকে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, 'আমাদের দার্জিলিং কারও চেয়ে কম সুন্দর নয়। কিন্তু সিকিম চেষ্টা করছে দার্জিলিংকে অশান্ত করে ফায়দা তুলতে। কেউ কেউ ইন্ধন দিচ্ছে এই কাজে। কেউ টাকা ছড়াচ্ছে দার্জিলিংকে অশান্ত করতে।' এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'টাকা দিয়ে কেনা যাবে না দার্জিলিংকে, দার্জিলিংকে হৃদয় দিয়ে জয় করতে হবে। আর সেই কাজ একমাত্র করতে পারেন তাঁরাই।'
এদিন বিমল গুরুং বা বিজেপি কারও নাম একবারের জন্যও করেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল প্রয়োগ করে ভোট জেতা যায়। কিন্তু মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা পাওয়া যায় না। আমরা পাহাড়বাসীর মনে পাকাপাকি জায়গা করে নিতে চাই।'
তিনি অভিযোগ করেন, 'কেউ কেউ দার্জিলিংয়ের সুনাম নষ্ট করতে চাইছে পরিকল্পিত উপায়ে। সে জন্য টাকাও ছড়ানো হচ্ছে। দার্জিলিং অশান্ত হলে পর্যটকরা সিকিমমুখী হবে, লাভবান হবে অন্য রাজ্য। ক্ষতির মুখে পড়বে দার্জিলিং।' এ ব্যাপারে দার্জিলিংবাসীকে সাবধান করে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি চাই সিকিমও ভালো থাকুক, দার্জিলিংও ভালো থাকুক।'
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কেন্দ্রের কাছে ভিক্ষা চাইতে যাবেন না। চিন্তা নেই, আমিই আপনাদের দাবি মেটাব। যা চাইছেন সব দেব। পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় আমি করে দেব আপনাদের।' তিনি আরও বলেন, 'পাহাড়ে উন্নয়নের লক্ষ্যেই জিটিএ হয়েছিল। কিন্তু সবাই পদত্যাগ করল। আমরা ফের জিটিএ চালানোর দায়িত্ব দিয়েছি বিনয় তামাং-অনীত থাপাকে। বিনয়-অনীতরা, পাহাড়কে সাজিয়ে চোলার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করছে। শিল্প ভাবনাও রয়েছে পাহাড়ের জন্য।'












Click it and Unblock the Notifications