মেরে ফেললেও দলের কিছু হবে না, চারটে প্রজন্ম তৈরি! অভিষেককে সামনে এনে প্রমাণ করলেন মমতা
একটা সময় অনেকেই বলত যে তৃণমূল মানেই একটাই পোস্ট আর বাকি সব ল্যাম্প পোস্ট! নেত্রীর বাইরে গিয়ে কারোর কিছু বলার অধিকার ছিল না। পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে দলের বহু বর্ষীয়ান নেতারা ভরসার জায়গা হলেও প্রত্যেককেই মমতার ছত্রছায়াতেই
একটা সময় অনেকেই বলত যে তৃণমূল মানেই একটাই পোস্ট আর বাকি সব ল্যাম্প পোস্ট! নেত্রীর বাইরে গিয়ে কারোর কিছু বলার অধিকার ছিল না। পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে দলের বহু বর্ষীয়ান নেতারা ভরসার জায়গা হলেও প্রত্যেককেই মমতার ছত্রছায়াতেই কাজ করত। ফলে মমতার জমানা শেষ হয়ে গেলে তৃণমূল দলটার কি হবে তা নিয়ে অনেক সময়ে প্রশ্ন উঠছিল। জয়ললিতার মৃত্যুর পরে এআইএডিএমকে-র পরিণতি দেখে স্বভাবতই কৌতূহল বাড়ছে মমতার উত্তরসূরী কে হবেন, তা নিয়ে।
তবে শনিবারের বৈঠক প্রমাণ কার্যত প্রমাণ করে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রজন্ম সত্যিই তৈরি হচ্ছে। মাত্র বছর ৩৩ এর অভিষেককে দলের সর্বভারতীয় পদে দায়িত্ব দিয়ে সম্ভবত সেটাই মনে করিয়ে দিলেন মমতা।

মুকুলে আস্থা!
প্রথম থেকেই তাঁর লড়াই ছিল বিজেপির সঙ্গেই। যদিও বাজপেয়ী আমলে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তৃণমূলে সেই সময় মমতার পরেই ছিলেন মুকুল রায়। অনেকেই তাঁকে বলতেন দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ভরসার জায়গা ছিলেন তিনি। এক কথায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলে আসলেও মুকুলকে দায়িত্ব দেন। শুধু একবার নয়, একাধিকবার মুকুলের উপরেই ভরসা রেখেছেন মমতা। অনেকেই ভাবতেন দিদির পরে হয়তো দলের রাশ থাকবে মুকুলের হাতেই। যদিও মুকুল রায় নিজেকে দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে বারবার দাবি করেছেন। আর এরপরেই দলে অভিষেকের উত্থান কার্যত চিন্তা বাড়ায় মুকুলেরও। একটা সময় দল ছাড়তে বাধ্য হন। আর দল ছেড়েই প্রথমে তাই অভিষেককেই আক্রমণ করেন মুকুল। যদিও ঢপে টেকেনি তাঁর অভিযোগ।

আমাকে মেরে ফেললেও দলের কিছু হবে না!
জয়ললিতার মৃত্যুর পর কার হাতে থাকবে ক্ষমতার রাশ তা নিয়ে যেভাবে দন্দ তৈরি হয় তা দেশের মানুষ দেখে। স্বভাবতই মমতার উত্তরসূরী কে হবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন জাগে। সেই সময় এক প্রশ্নের জবাব স্পষ্ট করে মমতা বলেণ, ''আজ বিজেপি আমাকে মেরে ফেললেও দলের কিছু হবে না। আমার চারটে প্রজন্ম তৈরি।''অথচ গত বিধানসভা ভোটেও ২৯৪টা কেন্দ্রেরই তিনিই তৃণমূলের প্রার্থী বলে প্রচার করেছেন মমতা। প্রত্যেক নেতাই তাঁর নাম ও ছবি দেখিয়ে ভোট-বৈতরণী অতিক্রম করেন বলে দলেই শোনা যায়। অথচ মমতার মুখেই চারটে প্রজন্মের কথা শুনে দলেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তা হলে কি মমতার ভাইপো অভিষেকই আগামী দিনে দলের কাণ্ডারী হবেন?

অভিষেক সামান্য কর্মী!
যদিও প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়েছিলেন সেই সময়। শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন যে, ''অভিষেক সামান্য কর্মী। সবে এসেছে। আরও অনেক পথ ওঁর বাকি।'' তবে আগামী দিনে দলের নেতৃত্বে নতুন মুখ তুলে আনার উপরে যে জোর দেওয়া হচ্ছে, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর আরও বক্তব্য, ''ছাত্র ও তরুণ প্রজন্মকে তুলে এনেছি। তাই নবীন ও প্রবীণ মিলেমিশেই যাতে কাজ হয়, সেই মতো সকলকে দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ধাপ তৈরি করা রয়েছে।'' আগামীর কথা ভেবে তাঁর তৈরি করা এই ভবিষ্যৎ কর্মীরাই ৪০ বছর এ রাজ্যে নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে তৃণমূল নেত্রীর আশা।

তবে শেষ বেলাতে সেই অভিষেকেই আস্থা!
২০২১ বিধানসভা নির্বাচন । বাংলা জুড়ে প্রবল বিজেপি হাওয়া। কিন্তু সেই হাওয়াকে কার্যত রুখে দিয়েছেন অভিষেক। গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলা জুড়ে বিজেপির জয়জয়কার। সেখানে দাঁড়িয়ে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে এসে অভাবনীয় তৃণমূলের ফল অনেককেই অবাক করে। বলা প্রয়োজন দলে প্রশান্ত কিশোরকে আনা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সাংসদকে। প্রাইভেট কোম্পানি থেকে শুরু করে পিসি ভাইপোর দল বলেও তীব্র আক্রমণ এসেছে। কিন্তু মাথা ঠান্ডা রেখে যেভাবে বাংলায় তৃণমূল ফের ফিরে এসেছে তাতে অনেকেরও মুখ বন্ধ হয়ে যায়। কার্যত তৃতীয়বারের জন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নবান্নে ফেরানোটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আর সেই চ্যালেঞ্জ জিতে প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনিই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যোগ্য।












Click it and Unblock the Notifications