গুরুঙ্গদের গড়ে আজ মমতার মন্ত্রিসভার বৈঠক, চ্যালেঞ্জের মুখে মোর্চা
গত তিন দিন ধরেই পাহাড়ে মোর্চার উদ্দেশে একের পর এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার রাজ্যের মু্খ্যমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ দার্জিলিঙের বুকেই মন্ত্রীসভার বৈঠকের আয়োজন।
গুরুং-রা যখন পাহাড়ে ফের বিভাজন তাস ফেলেছেন, তখন মমতার একটাই স্লোগান- 'পাহাড় বাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ।' আর তা বোঝাতেই পাহাড়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের আয়োজন করেছেন তিনি।মমতার এই কৌশলে মোর্চা যেমন ঘোর বিপাকে পড়েছে, বিজেপিও কোমর বেঁধে বিরোধিতায় নামতে পারছে না। গলায় কাঁটার মতো বিঁধছে গোর্খ্যাল্যান্ড ইস্যু।
উপায় না দেখে কলকাতায় এসে মোর্চা নেতৃত্ব বিজেপি-র স্মরণ নিলেও একপ্রকার নিরাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে। তাই বাংলা ভাষা নিয়ে আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে মোর্চাকে। জিটিএ ছেড়ে গোর্খ্যাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলনের পথে নামার হুমকি দিলেও তা যে কার্যকর হবে না তা নিয়ে যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী মমতার প্রশাসন।

দার্জিলিঙে এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠক উপলক্ষ্যে তিনদিন আগেই পাহাড়ে পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪৫ বছর পর পাহাড়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক বলে কথা! দার্জিলিংয়ে তাই সাজো সাজো রব। মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা প্রায় সকলেই পৌঁছে গিয়েছেন মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিতে।
পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড়। এই অবস্থার মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বারবার তাঁর প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন এই বৈঠকের জন্য যেন কোনওভাবেই পর্যটকদের অসুবিধা না হয়। প্রয়োজনে সমস্ত মন্ত্রীদের শিলিগুড়িতে থাকার কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের দিন শুধুমাত্র দার্জিলিঙে আসার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। তবে, মন্ত্রিসভার কোনও সদস্যরা যদি তাঁদের বন্ধুদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে নেন তাহলে শিলিগুড়িতে গিয়ে থাকতে হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছিলেন।
এর আগেও গোর্খাল্যান্ড স্লেগান উঠেছিল, আবারও উঠেছে। তবু পাহাড়ে তৃণমূলের উত্থান ঠেকানো যায়নি। সম্প্রতি পাহাড়কে আবার রাজ্যসভার সাংসদও উপহার দিয়েছেন মমতা। তিনি বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন, শুধু কলকাতায় বসে তিনি পাহাড় 'শাসন' করতে চান না। তিনি পাহাড়ে এসেই শাসনকার্য চালাবেন। তারই মহড়ায় এই মন্ত্রিসভার বৈঠক।
যদিও এই মন্ত্রিসভার বৈঠককে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না মোর্চা সুপ্রিমো। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পাহাড় পর্যটনের এই ভরা মরশুমে বিপুল খরচ করে গোটা মন্ত্রিসভাকে পাহাড়ে আনার যৌক্তিকতা কী। তাঁর দাবি, যে টাকা এই বৈঠকে খরচ হচ্ছে, সেই টাকায় পর্যটকদের আরও পরিষেবা দেওয়া যেত।
কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সব অভিযোগ কানেও তুলছেন না। তিনি আগেই ঘোষণা করেছিলেন পাহাড়ে বছরে অন্তত দু'টো মন্ত্রিসভার বৈঠক তিনি করবেন।তাঁর যুক্তি, পাহাড়ে বসে গোটা রাজ্যের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করার তাৎপর্য রাজ্য রাজনীতিতে অসীম। পাহাড় আর সমতল যে ভিন্ন নয়, দুই-ই এই বাংলার অঙ্গ তা দার্জিলিঙে আজ হতে চলা মন্ত্রিসভার এই বৈঠকে আরও স্পষ্ট হবে বলেই মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications