বাংলায় বিজেপিকে আটকাতে মোক্ষম চাল দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বাম-কংগ্রেসকে সরিয়ে উঠে এসেছে বিজেপি।
বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বাম-কংগ্রেসকে সরিয়ে উঠে এসেছে বিজেপি। গত দুই তিন বছরে এমন চিত্র দেখা গিয়েছে বাংলার রাজনীতিতে। যা এখানকার রাজনীতিতে নতুন ও চমকপ্রদও বটে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই রাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছে। বলা যায়, একেবারে শূন্য থেকে বিজেপি আচমকাই আকাশ ছুঁতে শুরু করেছে।

বাংলায় থাবা বিজেপির
এই অবস্থায় ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে গেরুয়া শিবির। আর সেজন্যই কিছুটা চাপে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা নির্বাচনে ৪২ টির মধ্যে ১৮টি আসন দখল করেছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল ৩৪ থেকে নেমে গিয়েছে ২২ টি আসনে।

২০২১ লক্ষ্য দুই দলের
সামনেই রয়েছে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। একদিকে বাড়ছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চ্যালেঞ্জ তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখা। এই অবস্থায় আগামী বিধানসভা নির্বাচন যে দুই দলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ঘুঁটি সাজাচ্ছে দুই দলই
সেজন্যই এখন থেকেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে দিয়েছে দুই দলই। বিজেপি রাজ্য জুড়ে সদস্যতা অভিযানে নেমেছে। এবং অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে রাজ্যে। প্রায় কোটিখানেক সদস্যপদ জোগাড় করে ফেলেছে তারা। যা দেখে পিছিয়ে নেই তৃণমূলও। তারাও দিদিকে বলো কর্মসূচি থেকে শুরু করে একাধিক উপায়ে তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ শুরু করেছে।

দুর্গাপুজোকে হাতিয়ার করে জনসংযোগ
এর মধ্যে এসে উপস্থিত হয়েছে দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজার মত বড় ইভেন্টকে হাতছাড়া করতে রাজি নয় কোন দলই। তৃণমূল শাসক দল হিসেবে রাজ্যে অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে বিজেপি টানাটানিতে নেমে পড়েছে। গত বছর পর্যন্ত তৃণমূলের দখলে থাকা দুর্গাপুজোর বেশ কিছুটা অংশ বিজেপি নিজেদের করে নিতে পেরেছে। সে জন্যই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মন্ত্রীদের ছুটির আবেদন কার্যত বাতিল করে দিয়েছেন।

নেতাদের নির্দেশ তৃণমূল সুপ্রিমোর
তিনি জানিয়েছেন উৎসবের মরসুমে নিজের সংসদ বা বিধানসভা এলাকার বাইরে যাওয়া যাবে না। শুধু ছাড় দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে।
শুধু মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদদের নির্দেশ দেওয়াই নয়, তৃণমূল নেত্রী মমতা কালীঘাটে নিজের বাড়িতে চারদিন থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। রাজ্যের কোথায় কী ঘটছে তার দিকে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।

পরিকল্পনা মমতার
লোকসভা নির্বাচনে যেভাবে বিজেপি একের পর এক এলাকার দখল নিয়েছে, ভোট শতাংশ বাড়িয়ে নিয়েছে, তা তৃণমূলের কাছে যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। সেটা বুঝতে পেরেই উৎসবের দিনগুলোকেও যাতে বিজেপি নিজেদের দখলে নিতে না পারে, সেজন্য এগিয়ে এসেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলনেত্রীর নির্দেশ
বিজেপি ইতিমধ্যে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে পুজো উপলক্ষে ১ হাজার়টি স্টল বসিয়েছে। যে উপায়ে একসময় বামেরা জনসংযোগ করে মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে, সেই উপায় এখন বিজেপির হাতিয়ার। দিলীপ ঘোষ, অমিত শাহ থেকে শুরু করে একাধিক নেতা মিলে বাংলা জুড়ে শ'দুয়েকের বেশি পুজোর উদ্বোধন করে ফেলেছেন। আর সেজন্যই তৃণমূল নেত্রী মমতা বিজেপির বাড়বাড়ন্ত রুখতে দলের নেতাদের নিজের এলাকায় জনসংযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

তৃণমূল-বিজেপি টক্কর
তৃণমূল নেতাদের কথায়, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের নিজের এলাকা ছেড়ে যেতে বারণ করেছেন। দুর্গাপুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। এই সময় বিজেপি যাতে কোনওভাবে এটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় দখল করতে না পারে, সেজন্য মন্ডপে মন্ডপে গিয়ে জনসংযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মানুষের মধ্যে থেকে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে জনসংযোগের নির্দেশ রাজ্যের বিধায়কের দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications