ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ, সুপ্রিম কোর্টে গেল মমতার সরকার
পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় (oist poll violence) নতুন মোড়। হাইকোর্টের (high court) বৃহত্তর বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে (supreme court) আবেদন রাজ্য সরকারের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের
পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় (oist poll violence) নতুন মোড়। হাইকোর্টের (high court) বৃহত্তর বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে (supreme court) আবেদন রাজ্য সরকারের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee)সরকারের তরফে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।

৩১ টি মামলা দায়ের সিবিআই-এর
হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার দেশের বিভিন্ন রাজ্যের আইপিএস আফিসারদের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে চারটি দল গঠন করে বিভিন্ন জায়গায় ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগের তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ইতিমধ্যে সিবিআই-এর দল নন্দীগ্রাম এবং শীতলকুচিতেও গিয়েছে। সিবিআই-এর তরফে এখনও পর্যন্ত দায়ের করা এফআইআর-এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ টি। সিবিআই-এর তরফে শনিবার ১০ টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। রবিবার দায়ের করা হয়েছিল ৭ টি মামলা। মঙ্গলবার দায়ের করা হয় আরও তিনটি মামলা।

সিট গঠন নিয়ে কড়া বার্তা
১৯ অগাস্টের আদেশের পর প্রায় দুসপ্তাহ কেটে গেলেও অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে রাজ্য সরকার কেন সিট গঠন করল না তা নিয়ে মঙ্গলবার কড়া বার্তা দেয় হাইকোর্ট। সিবিআই তদন্ত শুরু করে দিলেও, রাজ্য সরকার কেন সিট গঠন করল না তা নিয়ে হাইকোর্টে মামলাকারীরা প্রশ্ন তুলতেই কড়া বার্তা দেয় হাইকোর্ট।

১৯ অগাস্ট হাইকোর্টের রায়
ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়েছিল। সেই বেঞ্চের বাকি বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন, বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি সুব্রত তালুকদার। ১৯ অগাস্টের রায়ে তাঁরা ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে খুন, ধর্ষণ, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তের ভার সিবিআইকে দিয়েছিলেন তাঁরা। বলা হয়েছিল হাইকোর্টে নজরদারিতে সিবিআই তদন্ত চলবে। প্রসঙ্গত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই ধরনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ যেমন ছিনতাই, লুট, বাড়ি ভেঙে দেওয়ার মতো ঘটনায় আইপিএস সোমেন মিত্র, সুমনবালা সাহু-সহ তিনজনকে নিয়ে সিট গঠন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই সিটের তদন্ত সুপ্রিম কোর্টে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে করার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি এইসব হিংসা ঘটনায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছিল বৃহত্তর বেঞ্চ। পরবর্তী সময়ে এই মামলার শুনানির জন্য অন্য একটি ডিভিশন বেঞ্চ তৈরির কথাও বলা হয়েছিল।

বুধবার হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য
হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চের রায়ের পরেই তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছিল, রায়ের বিরোধিতা করে সরকারের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া উচিত। বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই কাজই করল। এদিন পিটিশন দাখিল করে রাজ্য সরকারের তরফে বলা হয়েছে, সিবিআই কেন্দ্রের হয়ে কাজ করছে। সেখানে স্বচ্ছ তদন্ত আশা করা যায় না। সেই কারণেই এই পিটিশন দাখিল করা হল বলেও জানানো হয়। যদিও রাজ্য সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে এই সম্ভাবনায় মামলাকারীদের তরফে সুপ্রিম কোর্টে আগে থেকেই ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়েছে। এই মামলার শুনানির দিন এখনও ধার্য করা হয়নি।

হাইকোর্ট মানবাধিকার কমিশনকে নির্দেশ দেয় ১৮ জুন
২০২১-এর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয় ২ মে। সেদিন থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি শুরু হয়ে যায়। বিজেপির তরফেই এব্যাপারে অভিযোগ করা হয়। দলের নেতা-কর্মী সমর্থকরা বাড়ি ছেড়ে ভিন রাজ্যে গিয়ে আশ্রয় নেন বলে দাবি করে গেরুয়া শিবির। এছাড়াও খোদ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের কর্মীকে হত্যা, প্রার্থীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। দলের মহিলা সমর্থকরা ধর্ষণের শিকার হন বলেও অভিযোক করে বিজেপি। রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ জমা না পড়লেও হাইকোর্টে বেশ কিছু আবেদন জমা পড়ে। ১৮ জুন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের তরফে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে মানবাধিকার কমিশন তরফে রিপোর্ট তৈরি করে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট বলে শুনানিতে অভিযোগ করে রাজ্য সরকার। যদিও তারপরেই হাইকার্টের বৃহত্তর বেঞ্চের তরফে সিবিআইকে তদন্ত ভার দেওয়া হয়।












Click it and Unblock the Notifications