সুখবর রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য, পঞ্চায়েতের আগে বড় ঘোষণায় ‘কল্পতরু’ মমতা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি পাকা হতে চলেছে। সেইসঙ্গে বেতন বৃদ্ধিও হচ্ছে কয়েক হাজার কর্মীর।
পঞ্চায়েত ভোটের আগে ফের সুখবর সরকারি কর্মীদের জন্য। এবার অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণের কথা ঘোষণা করল রাজ্যের তৃণমূল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি পাকা হতে চলেছে। সেইসঙ্গে বেতন বৃদ্ধিও হচ্ছে কয়েক হাজার কর্মীর। রাজ্যের অর্থ দফতরের এই ঘোষণায় খুশির হাওয়া অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে। তবে এই ঘোষণাকে ভোটের বাদ্যি বলেই মনে করছেন বিরোধীরা। পঞ্চায়েত ভোটের দিকে চেয়েই এই ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

দীর্ঘদিন ধরে চুক্তির ভিত্তিতে কিংবা দৈনিক মজুরিতে হাজার হাজার অস্থায়ী কর্মী কাজ করছেন বিভিন্ন দফতরে। তার মধ্যে সেচ দফতের একটা বিরাট অংশ অস্থায়ী শ্রমিক। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এতদিন পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের সরকার তাঁদের স্থায়ীকরনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। একইসঙ্গে বেতন বৃদ্ধিও করছে সরকার।
দু-বছর আগে অর্থ দফতর নির্দেশিকা জারি করেছিল অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করার ব্যাপারে। কিন্তু এতদিন তা কার্যকর করা হয়নি। পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে তা কার্যকর করে রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অস্থায়ী সরকারি কর্মীদের কাছে কল্পতরু হয়ে উঠলেন। চাকরিতে স্থায়ীকরণের সঙ্গে সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিনিয়রিটির বিচারে বেতন বৃদ্ধি করা হবে।
বর্তমানে গ্রুপ ডি কর্মীরা সাত থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা বেতন পান। আর গ্রুপ সি কর্মীরা সাড়ে আট হাজার টাকা থেকে ১১ হাজার বেতন পান। এখন এক ধাক্কায় সেই বেতন তিন থেকে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়বে। এর পাশাপাশি অবসর নেওয়ার পর এককালীন দু-লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এবং সরকারি কর্মীদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাতেও আনা হবে। দেড় থেকে পাঁচলক্ষ টাকার চিকিৎসা পরিষেবা পাবে বিনামূল্যে।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই ঘোষণায় বিরোধী শিবির অন্য গন্ধ পাচ্ছে। কংগ্রেস, সিপিএম ও বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ, ভোটের দিকে চেয়েই এই ঘোষণা করা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, এসবই মুখ্যমন্ত্রীর ভোট চমক। ভোট এগিয়ে আসছে বলেই, তড়িঘড়ি এই ঘোষণা করা হল। আদৌ এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয় কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যায়।
সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন, এতদিন ধরে কিছু না করে, ভোটের আগেই ঘোষণা করা হল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব ভোটের আগে ধাপ্পা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আদৌ কার্যকরী হবে না এই সিদ্ধান্ত। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন। তাই চমকের ঘোষণায় মন জিততে চাইছেন। ভোটের দিকে চেয়েই এই ঘোষণা।












Click it and Unblock the Notifications