২০২৪-এ বিজেপি আসবে না! ‘নিশ্চিত’ মমতার বার্তায় মিলল ‘বিরোধী ঐক্যে’র সূত্র
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে ফের উঠে এল জোটের কথা। তৃণমূল কংগ্রেস সর্বভারতীয় তকমা হারাতেই ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোট বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এখন মমতারও সুর নরম কংগ্রেসকে নিয়ে। তাহলে কি ২০২৪-এর নির্বাচনের মুখে বিরোধী ঐক্য গড়ে উঠবে।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যদ্বাণী করে জানান, নিশ্চিন্ত থাকুন, চব্বিশের ভোটে ওরা পাওয়ারে আসবে না। আমি বিরোধী দলগুলোকে আবার বলব- আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে মিলিত হই। আর আমরা সবাই যদি মিলিত হই, তাহলে আমি নিশ্চিত ২০২৪-এ বিজেপি আসবে না।

অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার বিজেপি বিরোধী সার্বিক জোট গড়ার ব্যাপারে উদ্যোগী হচ্ছেন। এতদিন কংগ্রেস ও বিজেপির সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রেখে আঞ্চলিক দলগুলির জোটের কথা বলছিলেন তিনি। কিন্তু হালে তার মুখে শোনা যাচ্ছে সবাই মিলে জোটের কথা।
অর্থাৎ এখন তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ার ব্যাপারেও নমনীয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় তকমা চলে যাওয়ার পর তিনি বিজেপি বিরোধী জোট গড়তে নমনীয় হয়েছেন। এমনকী কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়তেও তাঁর অনীহা নেই বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি রাজ্যে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে যান, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে ৩৫ আসন পেলেই রাজ্যে আর তৃণমূলের সরকার থাকবে না। অর্থাৎ ২০২৫-এর আগেই সরকার পড়ে যাবে বলে তিনি বিজেপিকে ২০২৪ লোকসভা ভোটের টার্গিট দিয়ে যান। তার প্রত্যুত্তরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যে চক্রান্তের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, ওরা আমাদের সরকার ফেলবে কি, ২০২৪-এ তো ওরা পাওয়ারেই থাকবে না। বিরোধীরা একজোট হলে বিজেপি সরকার গড়তে পারবে না। এবার সেই চেষ্টাই করব আবার।
প্রসঙ্গেত উল্লেখ্য, ২০১৯-এ লোকসভা ভোটেও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সচেষ্ট হয়েছিলেন বিরোধীদের ঐক্যমঞ্চ গড়ে তোলার ব্যাপারে। কিন্তু বিরোধী সমমনোভাবাপন্ন দলগুলিতে এক মঞ্চে নিয়ে আসার চেষ্টা করলেও জোটবদ্ধ হতে পারেননি তারা। তাই এবার তারা প্রত্যেকে এক মঞ্চে এসে জোট গড়ে এগোতে পারবে কি না, প্রশ্ন রয়েই যায়।
২০১৯-এ বিরোধীদের জোট গড়ার সদিচ্ছাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে বিজেপি বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। এবার সামলে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে। ফের বিরোধী ঐক্যে শাসন দিতে তৎপর বিরোধী অনেক দলই। কিন্তু কোথায় একটা অভাব রয়ে যাচ্ছে। যার ফলে বিরোধী জোট আর গড়ে উঠছে না।

এখন বিরোধীরা সবাই শসাক বিজেপির নেকনজরে। একসঙ্গে সমস্ত বিরোধী দলকেই কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে লেলিয়ে দিয়ে মমতা থেকে শুরু করে কেজরিওয়ালের দলকে নাকানি-চোবানি খাওয়াচ্ছে তারা। এমনকী রাহুল গান্ধীরও সাংসদ পদ খারিজ করিয়েছে তারা।
শুধু তাই নয়, বিআরএস থেকে আরজেডি সবাইয়ের বিরুদ্ধেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি লেলিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিই বিরোধীদের এক জায়গায় এনে দিয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। সবাই জোট বাঁধতে তাই মরিয়া। বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দিতে সমস্ত বিরোধী দলই কোমর বাঁধছে তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications