‘পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে আলোচনার রাস্তা খোলা’, গুরুংদের আর কী বার্তা মমতার

পাহাড়ে হিংসা শুরুর পর এটাই তার প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর। স্বভাবতই পাহাড় ও পাহাড়ের সমস্ত রাজনৈতিক দল মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের জনসভার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

আন্দোলন ছেড়ে আলোচনায় এলে মোর্চাকে স্বাগত জানাতে তৈরি তৃণমূল। মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় জনসভা থেকে পাহাড় তথা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার উদ্দেশ্যে পাহাড়ে শান্তি স্থাপনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানালেন, গুরুংদের জন্য আলোচনার রাস্তা তিনি খুলেই রেখেছেন। তবে এর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, পাহাড়ে মোর্চার জঙ্গি আন্দোলনের চাপে সিদ্ধান্ত বদল করবেন না তিনি।

অর্থাৎ পাহাড়ে যতই গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আন্দোলন করুক মোর্চা, কেনওমতেই রাজ্য ভাগ হতে দেবেন না মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এদিন ফের বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি অখণ্ড বাংলার পক্ষে। প্রাণ থাকতে পাহাড়কে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেবেন না। পাহাড়ে শা্ন্তি ফেরাতে তিনিও উদগ্রীব, কিন্তু তা কখনই বিচ্ছিন্নতার শর্তে নয়।

‘পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে আলোচনার রাস্তা খোলা’, গুরুংদের আর কী বার্তা মমতার

পাহাড়ে হিংসা শুরুর পর এটাই তার প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর। উত্তরবঙ্গ সফরে তিনি এদিন উত্তর দিনাজপপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। স্বভাবতই পাহাড় ও পাহাড়ের সমস্ত রাজনৈতিক দল মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের জনসভার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এদিন তিনি পাহাড় নিয়ে কী অবস্থান নেন, কী বার্তা দেন, তা জানার জন্য মুখিয়ে ছিলেন অনেকেই।

এদিন মোর্চার পাহাড় আন্দোলনের কড়া সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, পাহাড়ে ইচ্ছা করে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এর ফলে পাহাড়ের অর্থনীতি যে একেবারে ধ্বংস হতে বসেছে, সেদিকে দৃষ্টি নেই পাহাড়েরপ আন্দোলনকারীদের। পাহাড়ে সমস্ত শিল্প ধুঁকছে, স্কুল কলেজে পঠনপাঠনের পরিবেশ নেই, অফিস-আদালত বন্ধ। তাই সরকার আলোচনায় বসে পাহাড়কে স্বাভাবিক করতে চায় সর্বাগ্রে।

তিনি এদিন পাহাড়ে মোর্চার সহযোগী দলগুলির প্রতিও মুখ্যমন্ত্রী শান্তি ফেরানোর আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'কী দরকার অশান্তি করে? পাহাড়ে গন্ডগোল পাকিয়ে আখেরে কোনও লাভ হবে না। অতি শীঘ্র স্বাভাবিক জীবন, স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।' পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলিকে তাঁর আরও বার্তা, 'জঙ্গি আন্দোলনের মাধ্যমে সমাধান সূত্র মিলবে না, মোর্চাকে তা বোঝাতে হবে।'

মোর্চাকে আলোচনার পথে নিয়ে আসার সেই ভার তিনি ঘুরিয়ে চাপিয়ে দিয়েছেন পাহাড়ের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির উপরই। এখন গোর্খাল্যান্ড সমন্বয় কমিটিও চায় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে। শুধু বেঁকে বসে আছেন বিমল গুরুং ও তাঁর মোর্চা। তবে শোনা যাচ্ছে আগের থেকে অনেক সুর নরম করেছেন মোর্চা-সুপ্রিমো বিমল গুরুং। তিনি জানিয়েছেন, তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। তাই তাঁরা তাঁদের দাবি খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+