বাংলায় কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না, লোকসভা ভোট মিটতেই ‘কল্পতরু’ মমতা
২০১৯-এ রাজ্যে ৪২-এ ৪২ প্রাপ্তির ডাক দিয়েও জবরদস্ত ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। বাংলায় বিজেপির উত্থানে ২০২১-এর আগে সিঁদুরে মুখ দেখছে তৃণমূল।
২০১৯-এ রাজ্যে ৪২-এ ৪২ প্রাপ্তির ডাক দিয়েও জবরদস্ত ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। বাংলায় বিজেপির উত্থানে ২০২১-এর আগে সিঁদুরে মুখ দেখছে তৃণমূল। তাই লোকসভার ভোট মিটতেই ৮ বছরের কাজের পর্যালোচনা করল তৃণমূল সরকার। এবং সাফ জানিয়ে দিল কোনও সামাজিক প্রকল্পের কাজ বন্ধ হচ্ছে না।

সোমবার নবান্নে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সামাজিক খাতে ব্যয় বেড়েছে নগুণ। এবছর ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ শোধ হয়েছে। পরিকল্পনা খাতে খরচ বেড়েছে ৮ গুণ। কৃষিতে বৃদ্ধি হয়েছে ৪০ শতাংশ। তিনি আরও জানান, ২০১৭-১৮ সালে জিএসটি খাতে আয় বেড়েছে ২৩ শতাংশ। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ৬ মাস রাজ্যকে কয়লা দিচ্ছে না কেন্দ্র।
মমতা কেন্দ্র সরকারকে একহাত নিয়ে বলেন, নীতি আয়োগের কোনও ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা ছিল প্ল্যানিং কমিশনের। নীতি আয়োগের নামে রাজ্যে নাক গলাচ্ছে কেন্দ্র। তাই শুধু ভাষণ শোনার জন্য দিল্লি যাব না। আমরা পরিকল্পনা রূপায়ণ করছি সামাজিক উন্নয়নের। পরিকল্পনা রূপায়ণের নজরদারিতে আলাদা সেলও করছি। মানুষ যাতে সমস্তরকম প্রকল্পের সুবিধা পায় দেখবে প্রশাসন।
এদিন পে কমিশন নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। তিনি বলেন, এখনও রিপোর্ট জমা দেয়নি পে কমিশন। তাই দেরি হচ্ছে। আমরা নিশ্চয় এই ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা করব। আমাদের সাধ্য মতো দেব আমরা। কেননা আমরা কন্যাশ্রী, সবুজশ্রী, খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী ইত্যাদি সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করতে পারব না। সেইসব চালু রেখেই আমরা পে কমিশনের ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা করব।
আমরা জানি, সব কিছু পেয়েও অনেকে আমাদের ভোট দেয়নি। তবু আমরা এই প্রকল্প থেকে বিরত থাকব না, সবাই পাবে এই প্রকল্পগুলির সুবিধা। কেননা আমরা আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য থেকে সরে আসব না। এইসব দিয়ে আমরা রাজ্য সরকার কর্মচারীদেরও বেতন ও পরিষেবা প্রদান করব।
এদিন বিজেপিকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, দার্জিলিংয়ের কাউন্সিলরদের কারা নেপালে নিয়ে গেল। পাহাড়কে কারা ফের অশান্ত করার চেষ্টা করছে আমি সব জানি। পাহাড়ে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, জঙ্গলমহলে হিংসার বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে। মোট কথা রাজ্যে অশান্তি বাধানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। লোকসভা ভোটের পরই এই অশান্তি পাকানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ২৭ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ভোট হয়েছে। নিচুতলার পুলিশের একাংশ ঠিকঠাক কাজ করছে না। তারপর সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলার বদনাম করা হচ্ছে। মিথ্যা রটনা হচ্ছে। টাকা খাইয়ে দলবদল করানো হচ্ছে। এইসবের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিছপা হবে না। সবাই বিক্রি হয়ে যেতে পারে, তিনি বিক্রি হবেন না। পৃথিবীতে এমন কেউ কেউ থাকে, যে সারাজীবন এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যায়। গণতন্ত্র বিক্রি হতে তিনি দেবেন না, তাঁর লড়াই চলবে।












Click it and Unblock the Notifications