অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতায় প্রাচীরে ফাটল, পার্শ্ববর্তী বাড়িতেও ছড়াচ্ছে আগুন! উৎকণ্ঠায় মুখ্যমন্ত্রী
ট্যাংরার গুদামে মজুত ছিল চামড়া, রেক্সিন ও প্রচুর পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ। ফলে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দমকল ঘিঞ্জি এলাকায় ঢোকার আগেই আগুনের গ্রাসে চলে যায় গোটা গুদাম।
ট্যাংরার গুদামে মজুত ছিল চামড়া, রেক্সিন ও প্রচুর পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ। ফলে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দমকল ঘিঞ্জি এলাকায় ঢোকার আগেই আগুনের গ্রাসে চলে যায় গোটা গুদাম। পাঁচ ঘণ্টা কেটে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।

বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে সেই আশঙ্কায় প্রতিবেশীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদে। জীবনের ঝুঁকিয়ে নিয়ে দমকলকর্মীরা এলাকার বাসিন্দাদের রক্ষা করতে আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। জখম কর্মীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গুদানের পাঁচিল ভেঙে পড়লে আরও সমস্যা তৈরি হবে। একাংশের পাঁচিল ভেঙে পড়েছে, বাকি পাঁচিল রক্ষা করাই এই এখন চ্যালেঞ্জ। তা না করতে পারলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে আগুন। আগুন প্রায় ২০ থেকে ২৫ কাঠা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। ওই প্রাচীর ও পার্শ্ববর্তী ঘরগুলো ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন।
এই অগ্নিকাণ্ডের পরই ঘটনাস্থলে যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁকে ফেন করে খোঁজ খবর নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সবারই আশঙ্কা, প্রাচীর ভেঙে পড়লে সাংঘাতিক রূপ নিতে পারে আগুন। প্রচণ্ড আগুনের তাপে তপ্ত হয়ে উঠেছে দেওয়াল। তার ফলে প্রাচীরে ফাটল দেখা দিয়েছে। ওই প্রাচীর ভেঙে পড়লেই বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়বে।
এছাড়া এলাকায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্লাসটিকের মজুত। ফলে এলাকায় যদি আগুন ছড়িয়ে পড়ে তবে গোটা এলাকায় আগুনের গ্রাসে চলে যেতে পারে। এই আতঙ্কের মধ্যে দমকলের জল ফুরিয়ে যাচ্ছে। সে অর্থে কোনও জলের জোগান নেই। স্থানীয়রাই বালতি করে জলের জোগান দিচ্ছেন। এলাকার মানুষও আগুন নেভানোর কাজে দমকলকর্মী, বিপর্যয় মোকাবিলাকর্মী, পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। জলের জোগান বাড়াতে পাম্পও আনা হয়েছে।
আগুন এতটাই বিধ্বংসী রূপ নেয় যে বড়সড় বিপত্তি এড়াতে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। দমকলের ইঞ্জিন রিফুয়েলিং করতে সেক্টর ফাইভ, হেড কোয়ার্টার ও ধাপা ভেড়িকে কাজে লাগানো হয়। জল সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। আগুনের উৎস খুঁজতেও গুদামের কাঁচ ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেন দমকলকর্মীরা। কিন্তু আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই তীব্র যে দমকলকর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ওই ঘিঞ্জির মধ্যে আগুন নেভাতে।
ট্যাংরার ওই গুদামে একের পর এক অংশ আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ওই গুদামে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। ফলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সে অর্থে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে দমকল আসার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকাতেই।












Click it and Unblock the Notifications