মমতার এক চালেই সুর বদলে গেল বাম-কংগ্রেসের, রাজ্য-রাজনীতিতে ভবিষ্যতের নয়া সমীকরণ
সিপিএমের এক সিদ্ধান্তই কাছাকাছি এনে দিয়েছিল কংগ্রেস ও তৃণমূলকে। এবার মমতার চালে একেবারে কিস্তিমাত। ভবিষ্যতের নয়া সমীকরণ তৈরি হল রাজ্যে।
সিপিএমের এক সিদ্ধান্তই অনেক কাছাকাছি এনে দিয়েছিল কংগ্রেস ও তৃণমূলকে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ ভট্টাচার্যকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করায় ভবিষ্যতের নয়া সমীকরণ তৈরি হল রাজ্যে। আসন্ন রাজ্যসভার ভোটের আগেই বাম-কংগ্রেস জোট একপ্রকার ভেঙেই গেল। সেইসঙ্গেই সুর বদলে গেল সিপিএম ও কংগ্রেসেরও। শুরু হল একে-অপরকে আক্রমণের পালা। শুক্রবার বিমান বসু ও অধীররঞ্জন চৌধুরীর কথাতেই প্রতিধ্বনিত হল পারস্পরিক বিরোধিতার সুর।

এদিন রাজ্যসভার সাংসদ পদপ্রার্থীরা মনোনয়ন পেশ করেন বিধানসভায়। রাজ্যের ছ'টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেয়। একটি আসন নিয়েই এতদিন দড়ি টানাটানি চলছিল সিপিএম ও কংগ্রেসের মধ্যে। সর্বভারতীয় কংগ্রেস সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী এই আসনে চাইছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে। কিন্তু ইয়েচুরির মনোনয়নে বাধ সাধে সিপিএমই।
সেই জটিলতা থেকে মুক্তির পর কংগ্রেস নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে প্রদীপ ভট্টাচার্যের নাম। প্রদীপ ভট্টাচার্য এরই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসেরও সমর্থন আদায় করে নিতে সমর্থ হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বিধানসভায় এসে ফলাও করে জানিয়েও দেন সেই সমর্থনের কথা। মমতারই এই চালেই একেবারে কিস্তিমাত হয়ে যায় সিপিএম।

বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবার কোমর বেঁধে নেমে পড়েন কংগ্রেসের সমালোচনায়। প্রদীপ ভট্টাচার্যের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। সেইসঙ্গে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, 'কংগ্রেস কখনও যৌথ প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবেইনি। সবসময় নিজেদের ইচ্ছাই চাপিয়ে দিতে চেয়েছে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের উপর। বামফ্রন্ট সবসময় যৌথ প্রার্থী দেওয়ার পক্ষেই ছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'কংগ্রেস সীতারাম ইয়েচুরির নাম প্রস্তাব করে স্ব-ইচ্ছায়। তারপর প্রদীপ ভট্টাচার্যের নাম চূড়ান্ত করার আগে কোনওরকম আলোচনা করা হয়নি আমাদের সঙ্গে। আমরা অ-রাজনৈতিক প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলাম। কিন্তু কংগ্রেসে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রার্থী করে প্রদীপ ভট্টাচার্যকে।' এরপরই রাজ্যসভার ওই পদে পাল্টা লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বামফ্রন্টের তরফে। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করা হয়। যদিও তাঁর মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সিপিএমের সমালোচনায় সরব হন। তিনি বলেন, 'রাজ্যসভার এই পদে সৌজন্যের নিরিখে সিপিএমের সমর্থন করা উচিত ছিল কংগ্রেস প্রার্থীকেই। কিন্তু তাঁরা চূড়ান্ত অসৌজন্যের রাজনীতি করেছেন। এতদিন কংগ্রেস রাজ্যসভার সাংসদ পদপ্রার্থী হিসেবে দিল্লির সিপিএমের নেতার নাম প্রস্তাব করে অপেক্ষা করেছিল। তাঁর নাম বাতিল করেছে সিপিএমই। তারপরই কংগ্রেস নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে। তাই সিপিএম তাঁকে সমর্থন না করে ঠিক কাজ করেনি।'
এদিন অধীর চৌধুরীর কথায় আগের সেই তৃণমূল বিরোধিতাও আর নেই। কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ ভট্টাচার্যকে তৃণমূলের সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা প্রার্থী দিয়েছি। কে সমর্থন করবে, সেটা তার ব্যাপার। তৃণমূল তাঁদের প্রার্থীকে সমর্থন করেছে। হয়তো হারের ভয়েই সমর্থন করাই শ্রেয় বলে মনে করছে।' আক্রমণ করলেও আগের সেই ঝাঁঝ উধাও অধীরের কথায়। উল্টে তিনি সিপিএমের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের প্রার্থীকে সমর্থন না করে প্রার্থী দিয়ে সিপিএম ঠিক করেনি বলেও মত অধীরের।












Click it and Unblock the Notifications