Mamata Banerjee: চা-চপ তৈরি থেকে মোমো-ফুচকাতেও তাঁর হাতযশ, জনসংযোগের নয়া অভিধান মমতার
পঞ্চায়েত ভোটেও এবার প্রচারে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ভোট প্রচারে নেমেই একেবারে চেনা মেজাজে দেখা গিয়েছে বাংলার অগ্নিকন্যাকে। সভায় নিদান দিয়েছেন দুষ্টুমি করলেই কান মুলে দেওয়ার, পরক্ষণেই তিনি রণংদেহি মূর্তি ছেড়ে চা তৈরি করে খাইয়েছেন।
ভোটপ্রচারের ফাঁকে জলপাইগুড়ির মালবাজারের চালসায় চায়ের দোকানে ঢুকে পড়েন তিনি। একেবারে কাগজের কাপ সাজিয়ে নিজে হাতে কেটলি থেকে চা ঢালেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁক এই রূপে আগেও দেখা গিয়েছে। তাই এই দৃশ্য খুবই চেনা। এটাই যে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর চেনা রূপ। পাশের বাড়ির মায়-পিসিমার মতো তিনি।

তাই তো কখনো তাঁকে চা বানাতে দেখা যায়, কখনো দেখা যায় মোমো বানাতে। আবার চপ ভাজতেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার। শুধু কি তাই লেচি বেলে কচুরি বানাতেও তিনি সমান পারদর্শী। তাঁর এই পাশের বাড়ির মেয়ের রূপটিই তাঁকে বাংলার মানুষের কাছে আপন করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জনসংযোগের যে নয়া ধারা বের করেছেন, তা আগেও দেখা গিয়েছে, তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও দেখা গিয়েছে। কোনো সফরে গিয়ে কারো হেঁসেলে ঢুকে পড়ার ছবি বারবার ফুটে উঠেছে বাংলার বুকে। এমনকী উনুনে তরকারির কড়ায় খুন্তি নাড়তেও তাঁকে দেখা গিয়েছে।
সাম্প্রতিক অতীতেও এই ছবি স্পষ্ট হয়েছে বারবার। ২০১৯ সালে দিঘা সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় পাশে একটি দোকানে থেমে গিয়েছিলেন। সেখানে সবার জন্য চায়ের অর্ডার দিয়ে নিজেই ঢুকে গিয়েছিলেন দোকানে। ফুটন্ত চা নাড়িয়ে ছাকনিতে ছেঁকে কাপে ঢেলে দিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
তারপর ২০২২ সালে ঝাড়গ্রাম সফরে বেলপাহাড়িতে রাস্তায় ধারের এক দোকানে একই রূপে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সেখানে ভাজা হচ্ছিল চপ। হঠাৎ করে নিজেই চপ ভাজতে শুরু করেছিলেন তিনি। কাগজে মুড়ে নিজে হাতেই চা তুলে দিয়েছিলেন এলাকার মানুষের হাতে। আর সেই ফাঁকে ফাঁকে তিনি সবার খোঁজখবরও নিয়েছিলেন।
আর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বীরভূম সফরে গিয়ে সোনাঝুরিতে গিয়েছিলেন মমতা সেখানেও দোকানে নিজে হাতে চা বানিয়েছিলেন। চা বানিয়ে কাপে করে তিনি পরিবেশনও করেছিলেন। শুধু চা আর চপেই সীমাবদ্ধ ছিল না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসংযোগ পর্ব।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বানিয়েছিলেন মোমোও। সেটা ঘটেছিল গতবছর অর্থাৎ ২০২২-এর জুলাই মাসে। দার্জিলিং সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে রিচমণ্ড হিল থেকে সিংমারিতে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা পর্যন্ত হেঁটে ফেরার পথে তিনি ঢুকে পড়েছিলেন একটি দোকানে।
সেই দোকানে মোমো তৈরি হচ্ছে। এক মহিলার কাছে থেকে রুটি-বেলনা নিয়ে নিজেই বসে পড়েন মোমো তৈরিতে। লেচি কাটেন, তারপরে নিজেও পুর দিয়ে তৈরি করেন মোমো। তারপর পাহাড়ের রাস্তায় নিজেই ফুচকা তৈরি করে বাচ্চাদের খাইয়েছিলেন। এমন নানা রূপে তিনি ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছেন।
এমনকী একই মেজাজে তাঁকে দেখা গিয়েছে ভিনরাজ্যে। ত্রিপুরাতে গিয়েও তিনি শিঙাড়া-কচুরি দোকানে ঢুকে পড়েন। তাঁকে শিঙাড়া ও কচুরি তৈরি করতেও দেখা যায়। আবার পান সাজতেও দেখা যায় তাঁকে। মোট কথা একজন বাঙালি সাধারণ ঘরের মেয়ে হিসেবেই তিনি নিজেকে তুলে ধরেছেন তিনি। তাই তো ঘরের পুজোয় মা-দিদিদের মতো তিনি নিজে হাতে ভোগ রাঁধেন।












Click it and Unblock the Notifications