'আরশোলা' বিজেপিকে ভয় পান না মমতা, কড়া পদক্ষেপের হুমকি

সন্দেশখালির পর বীরভূমের ইলামবাজারেও গতকাল এসেছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। বলবীর পুঞ্জ, কীর্তি আজাদ প্রমুখ ছিলেন এই দলে। তাঁদের সঙ্গ দেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। এই ঘটনায় রেগে কাঁই হয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় আইন-শঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো বলে দাবি করেছেন তিনি। বলেছেন, "এখানে ওরা নিজেদের পাখি ভাবছে। কিন্তু আরশোলা কি কখনও পাখি হয়? এখানে আরশোলাকে পাখি বানানো হয়েছে। ৩৫ বছর যদি সিপিএমের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে পারি, তা হলে এই আরশোলাদের আমি ভয় করি না। মনে রাখবেন, আমাদেরও কিন্তু সাংসদ সংখ্যা কম নয়। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে চল্লিশের ওপর সাংসদ রয়েছে। বিজেপি-ও যে যে রাজ্যে সন্ত্রাস করবে, সেখানে আমরাও টিম পাঠাব। বাংলাকে আমরা উত্তরপ্রদেশ করতে দেব না। কড়া পদক্ষেপ নেব।"
রায়দীঘিতে চারজন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর খুনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেছেন, "আমাদের দলের চারজনকে কুপিয়ে খুন করেছে হার্মাদরা। সঙ্গে ডেফিনিটলি বিজেপির মদত আছে বলে আমি মনে করি। বোমা মেরে খুন করে দেহগুলোকে কুপিয়ে কুপিয়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করেছে। যা ওরা আগেও করত। দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সিপিএমের হার্মাদরা বিজেপির সঙ্গে চক্রান্ত করে এ সব করছে। এটা খুব অশুভ দিক। কড়া হাতে এর মোকাবিলা করব। বাংলায় বিজেপি বলে কিছু নেই এটা বুঝতে হবে। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। বাংলায় বাঙালি-অবাঙালি বিভাজন করতে দেব না।"
তিনি আরও বলেছেন, "হঠাৎ বাংলা দখলের খেলা দিল্লি কেন শুরু করেছে? মেরে খুন করে বাংলা দখল হয় না। কেন্দ্রের টিম পাঠানোর নাম করে এক-একটা এলাকায় গিয়ে নাটক করছে। পারিবারিক ঝামেলাতেও রাজনীতির রং লাগাচ্ছে। আমি অনেক সহ্য করেছি। সৌজন্য আমাদের দুর্বলতা নয়। এটার একটা লিমিট আছে।"
<blockquote class="twitter-tweet blockquote" lang="en"><p>The Centre should do their work. They should not interfere in the work of Bengal Govt: WB CM</p>— AITC (@AITCofficial) <a href="https://twitter.com/AITCofficial/statuses/478108555547906048">June 15, 2014</a></blockquote> <script async src="//platform.twitter.com/widgets.js" charset="utf-8"></script>এদিকে, গতকাল ইলামবাজারে বিজেপির প্রতিনিধি দলের সামনে কান্নার ভেঙে পড়ে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবার। সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত গ্রামের বাসিন্দারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা অভিযোগ করেন, শাসক দলের লোকজন এসে প্রায়ই হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিং বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে যদি বিজেপি কর্মীরা নিপীড়িত হন, তা হলে তার দায় নিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকেই। আমাদের ঘাড়ে দোষ না চাপিয়ে ওঁর উচিত রাজ্যের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া।" বলবীর পুঞ্জ বলেছেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি অগ্নিকন্যা! তা হলে আমরাও অগ্নিপুত্র।" তিনি জানান, বাংলার শোচনীয় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রিপোর্ট দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে। বিষয়টি জানানো হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেও লোকসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেছিলেন। তাতে যে তিনি আদৌ গদগদ নন, তা ফের বুঝিয়ে দিলেন।












Click it and Unblock the Notifications