ইডির পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, দাবি মমতার
রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আইপ্যাকের অফিস ও এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবনে ইডি হানার প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
আজ বাবুঘাটে গঙ্গাসাগর মেলার ট্রানজিট ক্যাম্প উদ্বোধনে গিয়ে এই প্রসঙ্গে সরব হন মমতা। নিশানা করেন বিজেপিকেই।

মুখ্যমন্ত্রী বললেন, "যদি আমাদের বিরুদ্ধে এসআইআর নিয়ে আক্রমণ করে, মিথ্যা মামলা তৈরি করে বা নথি চুরি করে, তবে কি আমি প্রতিরোধ করব না?" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "তারা সবকিছু চুরি করেছে, সমস্ত ডেটা, এসআইআর তালিকা।"
কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মমতা বললেন, "আগামীকাল যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা ক্রসিং পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেব।" জনসাধারণকে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মিছিলে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়ে মমতা বললেন, আক্রান্ত হলে জবাব তিনি দেবেনই।
ইডি সল্টলেকে আই-প্যাকের কার্যালয় ও লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে এদিন তল্লাশি চালায়। এটি কোটি টাকার কয়লা পাচার কেলেঙ্কারির অর্থ পাচার তদন্তের অংশ। আধা সামরিক বাহিনী নিয়ে প্রায় ১০টি ঠিকানায়, যার মধ্যে ৪টি দিল্লিতে ছিল, কেন্দ্রীয় সংস্থাটি অভিযান চালায়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর সাগরদ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে পাঁচ কিমি দীর্ঘ চার লেনের সেতু তাঁর সরকার নির্মাণ করছে। ১,৬৭০ কোটিতে এটি দুই-তিন বছরে শেষ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দশ বছরের অনুরোধ সত্ত্বেও কেন্দ্র গঙ্গাসাগরের জন্য "এক পয়সাও দেয় না", কিন্তু "কুম্ভ মেলার জন্য সব কিছু দেয়"।
মুখ্যমন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন, "তারা শুধু আমাদের দল (তৃণমূল কংগ্রেস) নয়, আমাদের সরকারের বিরুদ্ধেও আক্রমণ করে।" তিনি বলেন, "ইনসানিয়ত অউর ইনসাফ কে লিয়ে হামারা লড়াই জারি রহেগা" (মানবতা ও ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের লড়াই চলবে)।
সকল ধর্মের জন্য কাজ করেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষাকে স্মরণ করিয়ে দেন: "ধর্ম বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য নয়, বরং সকলকে একত্রিত করার জন্য।" গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ করে তার কথায়, "এঁরা এঁদের স্বামীজি নন, তিনি সমস্ত ভারতবাসীর স্বামীজি।" ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টিকারীদের তিনি গুরুত্ব দেন না বলেও জানান।












Click it and Unblock the Notifications