পঞ্চায়েত ভোটের আগে সংগঠনে নজর, কোন কোন জেলাকে বেশি গুরুত্ব মমতা-অভিষেকের
পঞ্চায়েত ভোট আসন্ন। তার আগে জেলায় জেলায় দলকে পথ নির্দেশিকা দিতে জরুরি বৈঠকে বসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে থাকবেন অভিষেকও। বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক পদাধিকারীদের নিয়ে মূলত এই বৈঠক হবে।
পঞ্চায়েত ভোট আসন্ন। তার আগে জেলায় জেলায় দলকে পথ নির্দেশিকা দিতে জরুরি বৈঠকে বসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে থাকবেন অভিষেকও। বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক পদাধিকারীদের নিয়ে মূলত এই বৈঠক হবে। এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে কয়েকটি জেলাকে।

সবথেকে বেশি গুরুত্ব যে জেলায়
তৃণমূল যেসব জেলায় আসানুরূপ ফল করতে পারেনি বিগত লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে, সেই জেলাকে এবং সেই জেলার কেন্দ্রগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন তৃণমূল বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নদিয়ার রানাঘাট সাংগঠনিক জেলাকে, গুরুত্ব দিচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সংগঠনিক জেলাকেও।

রানাঘাটে পর পর সভা তৃণমূলের
রানাঘাট সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূলের দুর্বল সংগঠন নিয়ে বেশি করে ভাবছে তৃণমূল। সেই কারণে রানাঘাটে ইতিমধ্যে সভা করে গিয়েছেন তৃমমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকাকরী পাল্টা সভা করে যাওয়ার পর ফের তাঁর জবাবি সভা করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও।

নদিয়ায় দুর্নীতির বীজ, বেশি গুরুত্ব
আর এই নদিয়া জেলাতেই নিয়োগ দুর্নীতির বীজ রয়েছে। বিরোধীরা তাই এই জেলা নিয়ে বেশি সরব। এই জেলার পর্যবেক্ষক পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন এই জেলার বিধায়ক তথা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্য। ফলে এই জেলায় বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে তৃণমূল।

মতুয়া ভোট ফেরাতে গুরুত্ব বনগাঁয়
তৃণমূল কংগ্রেস তাই এই জেলাকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সাংগঠনিক বৈঠকে। উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের ফলাফল ভালো। সংগঠনও জোরদার। শুধু বনগাঁ সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূলের একটু সমস্যা রয়েছে। কেননা মতুয়া ভোট তৃণমূলের দিকে থেকে মুখ সরিয়ে নেওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে ভোটব্যাঙ্কে। তা মেটাতে নদিয়ার রানাঘাট ও উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

হুগলিতেও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাই এই জেলাকে সাংগঠনিক বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এছাড়া হুগলি গ্রামীণের আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল, পুরশুড়ার সংগঠন মজবুত করার বার্তা দিতে পারেন তাঁরা। বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াকেও।

জঙ্গলমহলে আদিবাসী ভোট ধরে রাখাও চ্যালেঞ্জ
তৃণমূলের কাছে মতুয়া ভোট ফেরানোর পাশাপাশি জঙ্গলমহলে আদিবাসী ভোট ধরে রাখাও চ্যালেঞ্জ। সে জন্য তাঁরা সর্বতোভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। জনসংযোগ থেকে শুরু করে বুথ সংগঠন শক্তিশালী করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এবারও সাংগঠনিক বৈঠকে সংগঠনের কাজ নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা দিতে পারেন মমতা-অভিষেক।

শুভেন্দুর জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব তৃণমূলের
দক্ষিণবঙ্গের আর একটি জেলায় বিশেষ নজর দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে, তা হল পূর্ব মেদিনীপুর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা। বিশেষ করে কাঁথি ও তমলুক লোকসভাকে এবার বিশেষ চোখে দেখা হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নন্দীগ্রামকে। কুণাল ঘোষকে এই জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলার সাংগঠনিক কাজকর্মের বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে প্রয়োজনীয় বার্তাও দেবেন।

অনুব্রতহীন বীরভূমের সংগঠনে জোর
আর রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের বীরভূম। বীরভূম জেলায় এবার অভিভাবকহীন। এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরে তাকাতে হত না এই জেলা নিয়ে। কিন্তু অনুব্রত জেলে। তাই এবার অনুব্রতকে ছাড়াই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে তাঁদের। অনুব্রতহীন বীরভূমের কাজকর্ম কীভাবে চলবে, তা নিয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হবে এই বৈঠকে।

উত্তরবঙ্গেও চোখ তৃণমূলের
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি নিয়েও আলোচনা হবে। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং দুই দিনাজপুর, এমনকী মালদহ নিয়েও স্বস্তিতে নেই তৃণমূল। উত্তরবঙ্গকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন মমতা-অভিষেক। তাঁরা ইতিমধ্যে সভাও করে এসেছেন। এবার সাংগঠনিক নেতাদের বিশেষ দায়িত্ব দেবেন সংগঠনকে আরও মজবুত করতে।












Click it and Unblock the Notifications