সত্যিই কি তৃণমূলে মমতা বনাম অভিষেক, অনুব্রতের গ্রেফতারিতে ফের একবার প্রশ্ন
সত্যিই কি তৃণমূলে মমতা বনাম অভিষেক, অনুব্রতের গ্রেফতারিতে ফের একবার প্রশ্ন
তৃণমূল কংগ্রেস কি সত্যিই দু-ভাগে বিভাজিত? আরও একবার উঠে পড়ল প্রশ্ন। বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারি ফের একবার সেই প্রশ্ন তুলে দিল। রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেহালার ম্যান্টনের অনুষ্ঠান থেকে অনুব্রত ওরফে কেষ্টর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন, তারপরই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, তবে কি মমতা ও অভিষেক ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছেন?

দুর্নীতির প্রশ্নে তৃণমূল জিরো টলারেন্স নীতি
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পর দুর্নীতি-কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন বীরভূমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডল। গরু পাচার-কাণ্ডে তাঁকে গ্রেফতার করছে সিবিআই। তারপর সংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল ভবন থেকে মন্ত্রী তথা দলীয় মুখপাত্র চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্ধৃত করে বলেন, দুর্নীতির প্রশ্নে তৃণমূল জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে।

অনুব্রত মণ্ডলের পাশে সটান দাঁড়ালেন মমতা
কিন্তু রবিবার স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে যে বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাতে আবার তৃণমূলে বিভাজন-ভাবনা প্রকট হল। বেহালার ম্যান্টনে গিয়ে একবারও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথা উল্লেখ করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে থাকার বার্তা না দিলেও তিনি কিন্তু অনুব্রত মণ্ডলের পাশে দাঁড়িয়ে পড়লেন সটান।

অভিষেক ও মমতার ভিন্ন অবস্থান অনুব্রত-প্রশ্নে
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দুর্নীতির প্রশ্নে তৃণমূল জিরো টলারেন্স নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুব্রত মণ্ডলের পাশে দাঁড়িয়ে পড়া অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুগামী নেতাদের দুর্নীতি প্রকট হওয়ায়, নানা প্রশ্ন উঠছিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করতে শুরু করেছিল, তবে কি ধীরে ধীরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে উঠতে চলেছে তৃণমূলের কর্তৃত্ব।

সমষ্টিগত আন্দোলনের ডাক দিয়ে কী বোঝালেন মমতা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'জিরো টলারেন্স' বার্তার পর যখন মনে হচ্ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো অনুব্রত মণ্ডলকেও এই লড়াইটা একাই লড়তে হবে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুব্রত মণ্ডলের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, অনুব্রতকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাড়িতে ঢুকে লন্ডভন্ড করে দিয়ে অনুব্রতকে নিয়ে গিয়েছে সিবিআই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে গিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডলের লড়াইটা তাঁর একার নয়! তা দলেরও। তাই তিনি একপ্রকার সমষ্টিগত আন্দোলনের ডাক একপ্রকার তুলে দিলেন।

মমতা-অভিষেকের মতান্তর আসলে দুই রাজনীতির ধারা
মমতা-অভিষেকের এই মতান্তরের পরেই প্রশ্ন উঠে পড়েছে তৃণমূলে বিভাজনের সম্ভাবনা নিয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে অভিষেকের হাত কর্তৃত্ব চলে যাচ্ছে দলের, সেই বিতর্ক থেকে বেরিয়ে তৃণমূলে আড়াআড়ি বিভাজনের তত্ত্ব খাঁড়া করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তবে অনেকে আবার বলছেন, এই মতান্তর স্বাভাবিক। কেননা, অভিষেক তরুণ-তুর্কি নেতা। তাঁর রাজনীতির ধারা এক, আর পোড়খাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির ধারা আর এক!

মমতা-অভিষেকের বিভাজন-বার্তা বিরোধীদের উসকানি
তবে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শেষ কথা তৃণমূলের। তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা এখনও প্রশ্নাতীত। আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তা সর্বক্ষণেই মেনে নেন। তিনি নিজেকে দলরে সৈনিক বলে পরিচয় দেন। আবার দল তাঁকে ভাবে সেনাপতি আর মমতা বন্যোন।পাধ্যায় সর্বাধিনায়িকা। তাই মমতা-অভিষেকের মধ্যে বিভাজন-বার্তা বিরোধীদের উসকানি ছাড়া কিছু নয় বলেই মনে করেন দলের সিংহভাগ অংশ।












Click it and Unblock the Notifications