'২০২৯-এর আগেই কেন্দ্রে উল্টে যাবে বিজেপি', অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একযোগে আক্রমণ মমতার
এসআইআর (SIR) ঘিরে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা রয়েছে। এই আবহের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও কেন্দ্রীয় সরকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপি-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি এই SIR প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে বাংলাকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন যে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
এদিন বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরের এক জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক বিষয়ে সরব হন। ডিটেনশন ক্যাম্প প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বলেন, "বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। এতদিন করিনি, যতদিন থাকব, করতে দেব না। কাউকে ঘরছাড়া হতে দেব না আমরা। ভয় পাবেন না।" তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এলেও কেন মণিপুর, মিজোরাম বা নাগাল্যান্ডে SIR হচ্ছে না, আর পশ্চিমবঙ্গে যেখানে বিরোধীরা আছে সেখানে মাত্র দু'মাসে এটি সম্পন্ন হচ্ছে। "অসমে কেন SIR হবে না? বিজেপি-র রাজ্য বলে?" মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন এদিন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বিজেপিকে মেরুকরণের রাজনীতি করার জন্য তীব্র ভর্ৎসনাও করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, "রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দু-মুসলিম ভাগাভাগি করতে বলেননি।" বিভাজনের রাজনীতি করে বিজেপি, এই বলে কটাক্ষও করেন তিনি। "একবার হল নোটবন্দি, এখন ভোটবন্দি," মন্তব্য করে মমতা অভিযোগ করেন যে, বিজেপি ভোট দখল করে বাংলা থেকে বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতিকে নির্মূল করতে চাইছে।
বাংলার মহাপুরুষদের অসম্মান করার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, বিজেপি বাংলাকে শেষ করে দিতে চাইছে। "খালি বাংলাকে শেষ করে দাও, ধ্বংস করে দাও, উঠিয়ে দাও! এত কিসের খিদে? এত খেয়েও হচ্ছে না? বাংলাটাকেও খেতে হবে?" ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাভাষীদের বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে বলেও দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন।
শাহের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, "সীমান্ত এলাকায় BSF-এর ধারেকাছে ঘেঁষবেন না। এখানে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, তিনি করতে পারেন না, এমন কাজ নেই।" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুই চোখকে 'ভয়ঙ্কর ও দূরভিসন্ধির বার্তা' হিসেবে উল্লেখ করে মমতা বলেন, "একচোখে, দুর্যোধন, অন্য চোখে দুঃশাসন। উনি বলে দেন, 'বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা বলে বাদ দিয়ে দাও'।" তিনি কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দেশ বিক্রির অভিযোগ তুলে রেল পরিষেবার বিলম্ব, ভাড়া বৃদ্ধি এবং বিমান চলাচলে আকস্মিক বাধার সমালোচনা করেন।












Click it and Unblock the Notifications