বীরভূমে মঞ্চে তোপ মমতার, ভোটাধিকার নিয়ে কড়া বার্তা বিজেপিকে
বীরভূমের দুবরাজপুরে নির্বাচনী মঞ্চ যেন পরিণত হল রাজনৈতিক আক্রমণ প্রতি আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে। পাণ্ডবেশ্বরের পর এদিন দুবরাজপুরে সভা করে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করার চেষ্টা চলছে। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, "মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে দিচ্ছে বিজেপি।"
ভোটারদের উদ্দেশে মমতার স্পষ্ট বার্তা, ভয় পেলে চলবে না। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, কেউ ভয় দেখালে তার জবাব দিতে হবে সাহসের সঙ্গে। প্রয়োজনে আইনজীবী সঙ্গে রাখার কথাও বলেন তিনি, যাতে কোনও অনিয়ম বা 'বজ্জাতি' রোখা যায়। তাঁর কথায়, যতই চক্রান্ত হোক, শেষ পর্যন্ত মানুষই জিতবে।

যতই করো হামলা, তৃণমূল জিতবে বাংলা।" এছাড়াও বিজেপিকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের পর অনেককেই নাকি নিজেদের অবস্থান বদলাতে হবে।
লকডাউন প্রসঙ্গ টেনেও তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের সময় মানুষকে আটকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, "মানুষের ভোটাধিকার কোনওভাবেই রুদ্ধ করা যাবে না।"
সভায় উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশে আবেগঘন আহ্বান জানান তিনি। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নাম উল্লেখ করে সকলকে একজোট হয়ে তৃণমূলের প্রার্থীদের সমর্থন করার ডাক দেন। একে একে রামপুরহাট, লভপুর, বোলপুর সহ একাধিক কেন্দ্রের প্রার্থীদের নাম তুলে ধরে তাঁদের জয়ী করার আবেদন জানান।
ভাষণের শুরুতেই বীরভূমের সঙ্গে নিজের আবেগঘন সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন মমতা। অন্নপূর্ণা পুজোর দিনে এই মাটিতে আসতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন বলে জানান। পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত হিসেবও দেন রাস্তা, সেতু, হাসপাতাল থেকে শুরু করে দেউচা-ষ পচামি কয়লাখনি প্রকল্প সবকিছুই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প ভবিষ্যতে বিপুল কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদাও মেটাবে।
সবশেষে ব্যক্তিগত আবেগের ছোঁয়ায়া বীরভূমকেই নিজের পিতৃভূমি ও মাতৃভূমি বলে উল্লেখ করে জানান, নির্বাচনের পর আবার এই মাটিতে ফিরে আসার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
রাজনৈতিক বার্তা, উন্নয়নের খতিয়ান আর আবেগ সব মিলিয়ে দুবরাজপুরের সভা থেকেই নির্বাচনের লড়াইকে আরও তীব্র করে তুললেন তৃণমূল নেত্রী।












Click it and Unblock the Notifications