মমতা ও অভিষেক একই মঞ্চে, দলনেত্রীর সামনেই সেনাপতির মুখে জনগণের কথা! দূরত্ব কি ঘুচল?

Mamata And Abhishek Share Stage: আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার পর থেকেই জল্পনা চলছে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি হওয়া নিয়ে। আজ দু-জনেই থাকলেন এক মঞ্চে।

আরজি করের ঘটনার পর মমতার প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটেননি অভিষেক। দলনেত্রীর উপস্থিতিতে আজ সেনাপতির বক্তব্যেও মিলল তাৎপর্যপূর্ণ কিছু ইঙ্গিত।

Mamata And Abhishek Share Stage

অভিষেক বলেন, ১৪ তারিখ মায়েরা, দিদিরা, বোনেরা মেয়েদের রাত দখলের ডাক দিয়েছিলেন। সেই লড়াইকে আমরা সম্মান জানাই। উল্লেখ্য, এর আগে মমতাও ডোরিনা ক্রসিংয়ে বলেছিলেন, মেয়েদের আন্দোলন নিয়ে তাঁর কিছু বলার নেই। অর্থাৎ মহিলাদের নিয়ে সাবধানী প্রতিক্রিয়াই ছিল মমতার।

অভিষেকের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যাচ্ছিল, আরজি কর কাণ্ডে রাজ্য় সরকার তথা প্রশাসনের ভুলকে ডিফেন্ড তিনি করবেন না। অভিষেক দলের মিডিয়া সামলানোর দায়িত্বও ছেড়ে দেন। মমতা এরপর মিডিয়া কমিটি গড়ে দিয়েছেন। তারপর অভিষেকের এদিনের রাত দখলের কর্মসূচিকে সম্মান জানানো তাৎপর্যপূর্ণ।

কলকাতা হোক বা জেলা, তৃণমূল নেতাদের পরিবারের অনেকেও মেয়েদের রাত দখলের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। অভিষেক এদিন আরও বলেন, যাঁরা সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতারের দাবি করছিলেন, তাঁদের বলব ১৪ দিন হয়ে গেল কেন সন্দীপকে গ্রেফতার করা হলো না, সে প্রশ্নের উত্তর সিবিআইকেই দিতে হবে।

অভিষেক যখন এ কথা বলছেন তখন মঞ্চে উপস্থিত দলনেত্রী মমতা। দলের মঞ্চে অভিষেক সিবিআইয়ের দিকে সন্দীপের গ্রেফতারির বিষয়টি ঠেলে দিলেও রাজনৈতিক মহলের অভিমত, চার দিন কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালানোর সময় সন্দীপকে কেন গ্রেফতার করেনি, ঠারেঠোরে সেদিকেও কি ইঙ্গিত করলেন অভিষেক?

আরজি কর হাসপাতালে ভাঙচুর হওয়ার পরই অভিষেক এক্স হ্যান্ডলে লিখেছিলেন, চিকিৎসকরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছেন। সরকারের কাছে নিরাপত্তা প্রত্যাশা করা তাঁদের ন্যূনতম চাহিদা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানান অভিষেক। উল্লেখ্য, পুলিশ তাতেও ব্যর্থ। ধরপাকড় নিয়েও রয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

রাজনৈতিক মহলের অভিমত, আন্দোলনরত চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষের মনের কথাই এদিন প্রতিফলিত হয়েছে অভিষেকের বক্তব্যে। অভিষেক যতটা আন্তরিক, ততটা আন্তরিকতা দেখাতে পারেনি রাজ্য সরকার বা পুলিশ-প্রশাসন। তাহলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। সন্দীপকে পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্য মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো মমতার বড় ব্লান্ডার বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অভিষেক ধর্ষণ-বিরোধী কঠোর আইনের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। আবার তিনি এমনও বলেছেন, প্রয়োজনে তিনিই এ বিষয়ে প্রাইভেট মেম্বার বিল আনবেন। এতেও কিছু ইঙ্গিত পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। প্রশ্ন, অভিষেক দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হয়েও কি আন্দোলনের বাস্তবতা নিয়ে সংশয়ে আছেন? দলনেত্রীই বা এই আন্দোলন নিয়ে কেন ঝাঁঝালো বার্তা দিলেন না?

মঞ্চে মমতার বাঁদিকে বসেছিলেন সাংসদ সৌগত রায়। সেই চেয়ার যতটা কাছে ছিল, মমতার চেয়ারের থেকে অভিষেকের চেয়ারের দূরত্ব ছিল অনেকটাই বেশি। এটাও কিন্তু ইঙ্গিতবাহী। আবার সভার শেষের দিকে যখন স্লোগান চলছিল, তখনও মমতার পাশে দেখা যায়নি অভিষেককে। ছাত্র, যুব নেত্রীরাই তখন মমতাকে ঘিরে। অভিষেক পিছনে। এইসব ছবিই প্রশ্ন রেখে গেল, মঞ্চে তো দেখা গেল দলনেত্রী ও সেনাপতিকে। দূরত্ব ঘুচল কি?

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+