ওয়াকফ সংশোধনী আইনের দায় বিজেপির, রাজ্যে কারও সম্পত্তি স্পর্শ করতে দেওয়া হবে না, বললেন মমতা
বিজেপিই 'বিতর্কিত' ওয়াকফ সংশোধনী আইন এনেছে। তবে এ রাজ্যের সরকার কারও সম্পদ স্পর্শ করতে দেবে না। ধর্ম-ভিত্তিক রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী নন বলে উল্লেখ করে আজ মালদহ থেকে এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী "কিছু সাম্প্রদায়িক শক্তি"র বিরুদ্ধে ধর্মের নামে বিভেদ তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "ওয়াকফ সংশোধনী আইন বিজেপি তৈরি করেছে, আমরা নই। এটি আমরা আনিনি; এর বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করে সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলাম। আমি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি না; সব ধর্মকে ভালোবাসি।"

তাঁর মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন ওয়াকফ আইন নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান অনিশ্চিত। সম্প্রতি জেলাশাসকদের কেন্দ্রীয় পোর্টালে তথ্য আপলোড করার নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক মাস প্রতিরোধ সত্ত্বেও, রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর জেলাশাসকদের নির্দেশ দেয়, ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৮২,০০০ ওয়াকফ সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয় UMID পোর্টালে আপলোড করতে হবে। এই পদক্ষেপকে কার্যত আইনের প্রতি সম্মতি এবং কেন্দ্রের "সময়বদ্ধ পরিপালন আবশ্যকতা"র স্বীকৃতি হিসাবেই দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, সুতি ও ধুলিয়ানে আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলাকালে সংঘর্ষে অন্তত তিন জন নিহত হন। তখন মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাঁর সরকার পশ্চিমবঙ্গে এই নতুন আইন কার্যকর করবে না।
এই আপাত পিছু হঠা তৃণমূলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। মন্ত্রী ও জমিয়ত উলেমা-এ-হিন্দের বাংলার সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী জানান, "যদি ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে মুসলমানরা চুপ করে থাকবে না।" কেন্দ্র ও রাজ্যের পদক্ষেপের সমালোচনায় তিনি বলেন, "এসি রুম থেকে কথা বলা সহজ। কিন্তু গ্রামে গিয়ে কে বলবে যে ওয়াকফ জমি আর তাঁদের নয়?"
তিনি আরও যোগ করেন, "এটা মুসলমানদের উপর জোর করে চাপানো হয়েছে।" সিদ্দিকুল্লাহ সতর্ক করেন, সামনের সংগ্রাম "দীর্ঘ ও কঠিন" হবে এবং সম্প্রদায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
তাঁর এই মন্তব্য কেন্দ্রের রাজনৈতিক চাপ, আইনি বাধ্যবাধকতা ও মূল সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের উদ্বেগ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে শাসক দলের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে। প্রতিরোধ সত্ত্বেও রাজ্য আইনটি মেনে নেওয়ায়, AIMIM কলকাতায় প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। যা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু রাজনীতিতে তীব্র প্রতিযোগিতা বাড়াবে।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কঠোর বার্তা অস্থিরতা মোকাবিলা ও দলের অবস্থান স্থায়ীকরণের প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, "আমরা সব ধর্মের সঙ্গে ছিলাম ও ভবিষ্যতেও থাকব। আমরা কাউকে মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না।" তিনি বলেন, তাঁর তত্ত্বাবধানে কোনও ওয়াকফ সম্পত্তি স্পর্শ করা হবে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি পশ্চিমবঙ্গের পরিচিত রাজনৈতিক চিত্র। তৃণমূল নিজেদের সংখ্যালঘু অধিকারের রক্ষাকর্তা হিসেবে তুলে ধরে, বিজেপি তাদের তোষণের রাজনীতির অভিযোগ করে, ও AIMIM-এর মতো ছোট দলগুলো ফাঁকফোকর কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।
একজন পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেন, বিধানসভা নির্বাচন কয়েক মাস দূরে, কেন্দ্র ওয়াকফ তত্ত্বাবধানে পরিপালন ব্যবস্থা কঠোর করছে; এমন পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ক্ষমতা, জনমত ও সম্প্রদায়গত সংহতির উপর আরেকটি রাজনৈতিক ছায়াযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications