খাগড়াগড়কাণ্ডে ধৃত নাসিরুল্লার সূত্র ধরে সালাউদ্দিনের খোঁজে এনআইএ, ঢাকায় যাচ্ছেন গোয়েন্দারা
বাংলাদেশ পুলিশ হাতকাটা নাসিরুল্লা-সহ চার জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতার করার পরই এনআইএ-র তপৎরতা তুঙ্গে। খাগড়াগড়কাণ্ডের মূল চক্রীকে জেরা করেই আরও বড় সাফল্য পেতে চাইছেন গোয়েন্দারা।
খাগড়়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত জেএমবি জঙ্গি নাসিরুল্লা ওরফে সোহেল মাহফুজকে গ্রেফতার করল বাংলাদেশ পুলিশ। সেইসঙ্গে আরও তিন জেএমবি জঙ্গি ধরা পড়েছে পুলিশের জালে। শনিবার ভোরে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতরা প্রত্যেকেই ঢাকার গুলশনের হলি আর্টিজেন বেকারি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিল।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআই নাসিরুল্লাকে ভারতে এনে জেরা করবে। তাকে জেরা করেই খাগড়াগড়কাণ্ডের অপর অভিযুক্ত সালাউদ্দিলের সন্ধান পেতে চাইছেন গোয়েন্দারা। অসম সীমান্ত ধরা পড়েও পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে গিয়েছিল সালাউদ্দিন। এবার তাকে ধরতে নাসিরুল্লাই টোপ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে এনআইএ।

বাংলাদেশে প্রশাসনের তরফে নাসিরুল্লাকে গ্রেফতারের সত্যতা স্বীকার করা হয় শনিবার। এবং ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ-র সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ প্রশাসন। বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, এদিন ভোরেই হাতকাটা নাসিরুল্লা-সহ চার জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও ভারতীয় গোয়েন্দারা মনে করছে খাগড়াগড়ের মূল চক্রীকে এক সপ্তাহ আগেই গ্রেফতার করা হয়। এনআইএ আলাদা করে জানায়, বৃহস্পতিবার নাসিরুল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নাসিরুল্লা ছাড়াও জেএমবির বর্তমান প্রধান সমন্বয়ক জামাল ওরফে মোস্তাফা, আইটি বিশেষজ্ঞ হাফিজুর রহমান ওরফে হাসান, সামরিক শাখার সদস্য ইসমাইল ওরফে জুয়েলকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সুপার এনআইএকে জানিয়েছেন। তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোপন ঘাঁটিতে বৈঠক করছিলেন। তখনই হানা দেয় বাংলাদেশ পুলিশ।
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজেন বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। নশংসভাবে খুন করা হয়েছিল ২০ জনকে। মৃতের তালিকায় তিন বাংলাদেশি ছাড়়া ছিলেন সবই বিদেশি। ছিলেন এক ভারতীয়ও। পাঁচজন জঙ্গিকে নিকেশ করলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ছিল হাতকাটা নাসিরুল্লা-সহ অন্যান্যরা।
তার আগে ২০১৪-র ২ অক্টোবর ঘটে খাগড়াগড়কাণ্ড। সেখানেই ঘাঁটি গেড়েছিল বাংলাদেশেকর জেএমবি সংগঠনের এই সব সদস্যরা। এখনও এই ঘটনায় খাগড়কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। গোয়েন্দাদের পরবর্তী লক্ষ্য সালাউদ্দিনকে জালে পোরা।












Click it and Unblock the Notifications