রাজ্যপাল ‘ছদ্মবেশী মরিচ’ কি না দেখা দরকার, ‘সোনার হরিণে’র তুলনায় বিঁধলেন মদন
রাম ভগবান ছিলেন। রাম জানতেন সোনার হরিণ হয় না। লক্ষ্মণও বলেছিলেন, ওটা সোনার হরিণ নয়, মরিচ।
বাংলার রাজ্যপাল পদ ছেড়ে জগদীপ ধনখড় উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুদিন সংঘাত স্তিমিত ছিল। আবারও রাজ্য-রাজ্যপাল সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে। রাজ্যপাল সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল তুলতেই তৃণমূল নেতারা রে-রে করে উঠছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন বিধায়ক মদন মিত্রও।

তৃণমূল আবার একহাত নিতে শুরু করেছে বাংলার রাজ্যপালকে
কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র নিশানা করলেন বাংলার বর্তমান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে। তিনি রাজ্যপাল হয়ে আসার পর কিছুদি্ন রাজ্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছিলেন। তখন গাত্রদাহ হচ্ছিল বিজেপির। বঙ্গ বিজেপি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে নানা কটূ কথায় বিদ্ধ করেছেন। এরপর বিজেপির সঙ্গে বৈঠক করার পর রাজ্য সরকারের সমালোচনা করতেই তৃণমূল আবার একহাত নিতে শুরু করেছে বাংলার রাজ্যপালকে।

রাজ্যপালকে মরিচ ছদ্মবেশে পাঠানো হয়েছে কি না, তা দেখতে হবে
তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে কামাহাটির বিধায়ক মদন মিত্র কেউই ছেড়ে কথা বলছেন না। এদিন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে ছদ্মবেশী মরিচ বলে কটাক্ষ করলেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, রাম ভগবান ছিলেন। রাম জানতেন সোনার হরিণ হয় না। লক্ষ্মণও বলেছিলেন, ওটা সোনার হরিণ নয়, মরিচ। রাজ্যপালকে মরিচ ছদ্মবেশে পাঠানো হয়েছে কি না, তা দেখতে হবে।

জগদীপ ধনখড়ের উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা তুলে কটাক্ষ
এখানেই শেষ নয়, মদন মিত্র রাজ্যপালকে কটাক্ষ করতে জগদীপ ধনখড়ের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, অনুরোধ করব, কালী পুজোয় পারলে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ি যাবেন। ওখানে গেলেই ডিরেক্ট আপনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন। জগদীপ ধনখড়ের উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা তুলে তিনি সিভি আনন্দ বোসকে কটাক্ষ করেন

রাজ্যপাল যদি বিজেপির দূতের মতো আচরণ করেন...
এর আগে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছিলেন, তৃণমূল রাজ্যপালকে কখনও রাবার স্ট্যাম্প ভাবেনি। রাজ্যপাল যদি বিজেপির দূতের মতো আচরণ করেন, তার জবাব দেবো। আবার বাংলার হয়ে বললে সেরকম প্রতিক্রিয়া দেবো। এটাই তো স্বাভাবিক, রাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান, তিনি তাঁর মর্যাদা রক্ষা করবেন।

রাজ্যপাল সংবিধান মেনে কাজ করবেন, এটই স্বাভাবিক
এদিকে রাজ্যপাল প্রসঙ্গে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যপাল রাজ্যপালের মতো আছেন। আমি কোনও ব্যতিক্রমী আচরণ, পরিবর্তন দেখছি না। রাজ্যপাল সংবিধান মেনে কাজ করবেন, এটই স্বাভাবিক। বিরোধের কোনও জায়গা নেই। আমাদের বিধানসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে তেমন কিছুই দেখিনি।

রাজ্যপাল স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাতেই পারেন
তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে রাজ্যপালের কোনও বিরোধ নেই। বিধানসভার কাজ বাদ দিয়ে তো আলোচনার জায়গা নেই। তাই কোনও বিরোধের প্রশ্নও নেই। রাজ্যপাল স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাতেই পারেন। এটা তাঁর কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। তিনি তাঁর মর্যাদা ও অধিকার মেনে কাজ করছেন।

রাজ্যপালের উচিত বিলগুলো ছেড়ে দেওয়া
অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অনেক বিল পাঠিয়েছি। রাজ্যপালের উচিত বিলগুলো ছেড়ে দেওয়া। ভারতবর্ষের সব বিধানসভায় বিতর্ক আছে। আমার মনে হয়, রাজ্যপালের কাছে যে বিল যাচ্ছে, সেটার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। এবং বিলগুলি পাস করিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তোলাই












Click it and Unblock the Notifications