সিপিএম ৩৪ বছর দিয়েছে, সুযোগ পেলেই তৃণমূলকর্মীদের চাকরি! ফেসবুকে বিস্ফোরক মদন
রাজ্যে যখন নিয়োগ দুর্নীতির কাঁটায় বিদ্ধ শাসক দল তৃণমূল, তখন তৃণমূলেরই বিধায়ক মদন মিত্র চাকরি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন। সম্প্রতি এক ফেসবুক লাইভে তিনি বলেছেন, নিয়ম মেনে তাদের চাকরি দেওয়া অন্যায় নয়। সুযোগ পেলে আমি তৃণমূলকর্মীদের আবারও চাকরি দেবো।
ফেসবুক লাইভে চাকরি নিয়ে মন্তব্য মদনের
মদন মিত্রের কথায়, আমাদের বহু ছেলে চাকরি পায়নি সিপিএমের ৩৪ বছরে। ৩৪ বছর ধরে তাদের ক্যাডারদের চাকরি দিয়ে এসেছে সিপিএম। দিল্লিতে বিজেপি একতরফা চাকরি দিচ্ছে তাদের কর্মীদের। তাহলে আমরা আমাদের কর্মীদের চাকরিদিলে দোষ হবে কেন। ফেসবুক লাইভে চাকরি নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়ালেন মদন মিত্র।

সিপিএম বাংলায় ১ কোটি বেকার উপহার দিয়েছে
তিনি বলেন, সিপিএম বাংলায় ১ কোটি বেকার উপহার দিয়ে বিদায় নিয়েছে। ৫৫ থকে ৫৬ হাজার কলকারখানা বন্ধ অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছিলেন। তারপর রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিপথে চালিত করছে বিরোধীরা। নিয়ম মেনে চাকরি দেওয়ার বন্দোবস্ত করতে হবে।

সিপিএম চাকরি দিয়েছে ৩৪ বছর, একতরফাভাবে বিজেপি
মদন মিত্র বলেন, বেকার কি চিরকার থাকবে? নিয়ম-নীতি মেনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় যোগ্যতমদের বঞ্চিত না করে যদি তৃণমূলকর্মীদের চাকরি দেওয়া হয়, সেটা অন্যায় নয়। সুযোগ পেলে আবার চাকরি দেবো। সিপিএম চাকরি দিয়েছে ৩৪ বছর ধরে, বিজেপি একতরফাভাবে করে যাচ্ছে আর তৃণমূলকর্মীদের চাকরি দিলে দোষ কেন?

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কথরা প্রতিধ্বনি মদনের গলায়
মদন মিত্রের এই ফেসবুক লাইভের কঠোর সমালোচনা করে সিপিএম। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, মদনবাবু নতুন আর কী বললেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু যা বলেছিলেন, তারই প্রতিধ্বনি করেছেন তিনি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তো তা-ই বলেছিলেন।

কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে রাখা উচিত ছিল, বললেন সুজন
সুজনবাবু বলেন, ব্রাত্য বসু বলেছিলেন যাঁরা তৃণমূলের হয়ে ঝান্ডা বয়েছে, প্ল্যাকার্ড লাগিয়েছে, তাদের চাকরি দেবো না, কাদের দেবো। সেটাই তো বলেছেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, চাকরি তো মিলছে টাকা দিয়ে। লাজ-লজ্জা থাকলে মাথা নীচু করে কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে রাখা উচিত ছিল আসলে দলে ক্ষমতা প্রমাণ করছে।

সিপিএমের তোষণ-শোষণ থেকে রক্ষা পেতে তৃণমূলকে আনা
বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যও মদন মিত্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মদন মিত্র হাস্যরস উদ্রেককারী এক চরিত্র। তিনি মাঝে মাঝে ফেসবুক লাইভ করবেন, উদ্ভট সব কথা বলবেন, হাসির খোরাক হবেন, এটাই তো। সিপিএম তো ৩৪ বছর ধরে তোষণ-শোষণ করে চলেছে। তাদের থেকে রক্ষা পেতে তৃণমূলকে আনা হয়।

৮-১০ লক্ষ নিয়ে চাকরি, মেধাকে প্রতারণাই তৃণমূলের নীতি
তিনি বলেন, মদন মিত্র যা বলেছেন, ঠিকই বলেছেন। তৃণমূলের নিয়ম নীতি হল, নিজেদের কর্মীদের থেকে ৮-১০ লক্ষ নিয়ে চাকরি দাও। মেধাকে প্রতারিত করো। সেই কাজই হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি-কাণ্ডে পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে মানিক ভট্টাচার্য, কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়- তৃণমূলের একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications