মুকুল বিজেপিতে চলে যাওয়ার পরে ভারসাম্যটাই মমতার বিরুদ্ধে ১-৩ হয়ে গিয়েছে
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের হতাশা জনক ফল করার পরে স্বভাবতই শুরু হয়ে গিয়েছে পোস্টমর্টেম।
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের হতাশা জনক ফল করার পরে স্বভাবতই শুরু হয়ে গিয়েছে পোস্টমর্টেম। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে বলতে শোনা গেল দলের কিছু সাংগঠনিক গাফিলতি, বিজেপির টাকার খেলা ইত্যাদির জন্যে তৃণমূলের এই ফল এবারে। তিনি বলেছেন পরের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই হতাশা কাটিয়ে ফিরবে পুরোনো মেজাজে এবং আশা করেছেন যে সমস্ত এলাকায় দল হেরেছে, সেখানকার মানুষের শুভবুদ্ধির সূচনা যেন তাড়াতাড়ি হয়।

হাকিমবাবুর এই কথাগুলির মধ্যে যেমন লুকিয়ে রয়েছে এক ধরনের ঔদ্ধত্য, তেমনই আসল সমস্যা বুঝতে না পারা। প্রবীণ এই নেতা কি বুঝছেন না এখনও যে মুকুল রায়ের বিদায় দলকে কতটা সমস্যায় ফেলেছে?
মোদীর যেমন অমিত শাহ, মমতার ছিলেন মুকুল
একসময়ে বলা হত নরেন্দ্র মোদীর যেমন রয়েছেন অমিত শাহ, মমতার তেমন রয়েছে মুকুল রায়। কিন্তু সেই মুকুল গত কয়েকবছর আগে বিরক্ত হয়ে তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। অনেকেই বলেছিলেন তখন তাতে কী হল? মুকুল থাকা না থাকা সমান। আসল তো নেত্র নিজেই। তিনি যেভাবে চাইবেন দল সেভাবেই জিতবে।
যুদ্ধ জেতায় সেনাপতি, রাজা নয়
অবাক লাগল দেখে যে এতদিনের পোড়খাওয়া নেত্রী মমতা নিজেও বিপদটি বুঝলেন না। হয়তো তিনি নিজেও ভেবেছিলেন কে আর ওনাকে হারাবে বঙ্গ রাজনীতিতে। কিন্তু কেন্দ্রে মোদীর দাপট দেখে মমতা কি একটিবারও আত্মসমীক্ষা করে দেখলেন না যে যুদ্ধ রাজা জেতায় না, জেতায় সেনাপতি বা রণপতি। ভালো স্ট্রাটেজি মাস্টার যে কোনও দলের নেতার সম্পদ আর বিশেষ করে তিনি যদি হন মুকুল রায়ের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতা যিনি বহুকাল থেকে দলের দেখাশোনা করছেন; এমনকি মমতা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকলে যিনি দলের স্বার্থ বুঝেছেন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। সেই মুকুলের সরে যাওয়া এবং মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরেক পুরোনো নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাতে রাশ এসে যাওয়াতে যে দলের অন্তিম ফলাফল অনুকূল হয়নি তা প্রমাণিত।
মুকুলের মতো সাংগঠনিক স্কিল জানা লোক তৃণমূল ছাড়ার পরে যে দলের সংগঠনে বড় ধাক্কা এসেছে, সে কথা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং মুকুলের ছেলে শুভ্রাংশুও। উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু স্বীকার করে নিয়েছেন যে দলকে যে 'লিড' তাঁর দেওয়ার কথা ছিল তা তিনি দিতে পারেননি এবং পিতার কাছে সোজাসুজি হেরেছে পুত্র।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে স্বয়ং দলের নেত্রী দলের পুরোনো সম্পদ যারা, তাঁদেরকে কাছে টানলেন না এবং তাঁর যে নব্য নেতৃত্ব দলকে পুরোনোদের মতো টেনে তুলতে পারছে না, সে কথা যেন বুঝেও বুঝতে চাইছেন না।
মুকুল রায় বিজেপিতে চলে যাওয়ার পরে ২-২ ভারসাম্যটাই মমতার বিরুদ্ধে ১-৩ হয়ে গিয়েছে, সেটা কি তৃণমূল নেত্রী উপলব্ধি করছেন?
মুর্শিদাবাদ জেলায় অধীর রঞ্জন চৌধুরীর ভোটিং মেশিনারি তৃণমূলের দিকে চলে এসেছে এবং অধীর এবারে গো-হারা হারবেন বলে আশা করেছিলেন তৃণমূলের অনেকেই। অধীর তবুও ম্যাচ বের করে নিয়েছেন। সারা রাজ্যের ছবিতে কিন্তু মমতা ম্যাচ বের করলেন কোনওরকমে।












Click it and Unblock the Notifications