শাহজাহানের দুর্নীতির টাকা কোন তিন মন্ত্রীর কাছে? শুভেন্দুই খোলসা করলেন, চাকরিহারাদের প্রতি বড় বার্তা
Suvendu On SSC Scam: যে যোগ্যরা চাকরি হারিয়েছেন তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ ধনিয়াখালিতে তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শিক্ষা দুর্নীতি কাণ্ডের আরও এক খোলসাও তিনি করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। শেখ শাহজাহানের দুর্নীতির টাকায় কোন মন্ত্রীরা উপকৃত তাও খোলসা করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

শিক্ষা দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রায় সব নির্দেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির বিষয়ে সিবিআই তদন্তে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি হয়েছে আগামী সোমবার অবধি। শুভেন্দু বলেন, যোগ্য ও অযোগ্যদের ক্ষেত্রে রাজ্যকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী রায়ে রিয়্যাক্ট করতে চাই না।
এরপরই শুভেন্দু বলেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে চাই মন্ত্রিসভা জেলে যাক। বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই অতিরিক্ত ১ হাজার জনতে নিয়োগ করা হয়েছে। ২০২২-এর ৫ মে মন্ত্রিসভা মিটিং করে অতিরিক্ত শূন্যপদের রেজলিউশন ক্যাবিনেট নোটে রেখেছে, যা বিপজ্জনক।
শুভেন্দুর দাবি, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সব সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী। বাকি সব ল্যাম্পপোস্ট। অতিরিক্ত শূন্যপদ রেগুলারাইজ করা হয়েছে তাঁদের জন্য যাঁরা অযোগ্য, ওএমআরে শূন্য, এক, দুই, তিন পেয়েছেন কিংবা টাকার বিনিময়ে চাকরি কিনেছেন পার্থ ও ভাইপো-বাহিনীর যাঁরা বেচার কাজে ছিলেন তাঁদের থেকে।
শুভেন্দু বলেন, তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা, মন্ত্রী, বিধায়কের আত্মীয়দের চাকরি দেওয়া হয়েছে। এখানকার এমএলএ যিনি পুলিশের গাড়ি সামনে পিছনে নিয়ে ঘোরেন, আগে খেতে পেতেন না, এখন পাখিকে আখরোট খাওয়ান। তাঁর ভাইঝি রয়েছেন। তাঁর কুকুর যিনি বেড়াতে নিয়ে যান তাঁকেও চাকরি দিয়েছেন। এসএসসি নিয়ে জাজমেন্টের প্যারা ২৪২-এ উল্লেখ, যোগ্যদের তালিকা দেওয়া হয়নি। যতই তৃণমূল নেতা বা এসএসসি চেয়ারম্যান তালিকা দেওয়ার দাবি করুন না।
যাঁরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও চাকরি হারিয়েছেন তাঁদের উদ্দেশে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য বিরোধীরা দায়ী নয়, বিজেপির রোল নেই। আইনজীবীদের দায় নেই। প্রত্যেকে অযোগ্যদের নিয়োগের বিরোধিতা করেছেন। যোগ্যদের প্রতি সহানুভূতি আছে, ভবিষ্যতেও তাকবে। কেউ বলবে না যোগ্যদের চাকরি বাতিল করা হোক।
শুভেন্দু ফেসবুকে এদিনই নথি প্রকাশ করে দাবি করেন,"স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের প্যানেলে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৫,৭৫৩ জনের মধ্যে যাঁরা যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছিলেন, আজকে যে তাঁরা চোখের জল ফেলছেন, তার জন্য একমাত্র দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
In order to save those appointees who "purchased" teaching and non-teaching posts or got recruited in the 2016 School Service Commission (SSC) Panel, because they were relatives of TMC Leaders; Mamata Banerjee wilfully sacrificed the major chunk of the 25,753 Employees, despite… pic.twitter.com/hvyapN0W5J
— Suvendu Adhikari (Modi Ka Parivar) (@SuvenduWB) April 29, 2024
ইচ্ছাকৃত ভাবেই ওএমআর শিট ও অন্যান্য প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের বাঁচানোর জন্য। কারণ অযোগ্যদের বেশিরভাগই হয় তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের আত্মীয়, নয় তৃণমূল কর্মী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অযোগ্যদের বাঁচাতে যোগ্য মেধার ভিত্তিতেতে চাকরিপ্রাপ্ত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের বলি দিয়েছেন।
চাকরিরত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে যোগ্য আর অযোগ্যদের সংখ্যা এসএসসি যদি প্রকাশ করত তাহলে একপ্রকার স্বীকার করে নেওয়া হত যে দুর্নীতি হয়েছে এবং অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য দের চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ পুড়ত।"
শুভেন্দু এদিন ধনিয়াখালিতে বলেন, যোগ্য ও অযোগ্যদের ওএমআর শিট নষ্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রঞ্জিত গুপ্তর সংস্থাকে, যিনি বিল্ডিং তৈরি করেন। তথাকথিত কালীঘাটের কাকু সবাইকে মোবাইলে তথ্যপ্রমাণ মুছতে বলেছিলেন, তাঁর কল রেকর্ডে তার প্রমাণ মিলেছে। কালীঘাটের কাকু বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সিইও।
অযোগ্য হয়ে চাকরি কেনা, আত্মীয়, তৃণমূল কর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে মমতা যোগ্যদের বিড়ম্বনায় ফেলেছেন, তাঁদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারে পাঠিয়েছেন বলে দাবি শুভেন্দুর। তিনি বলেন, এ জন্য দায়ী ক্যাবিনেটে পৌরোহিত্য করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।
I addressed the Vijay Sankalp Sabha at Dhaniakhali; in support of our Hooghly BJP Lok Sabha Candidate; Smt. Locket Chatterjee, who has been renominated by the Party for her exceptional performance. @BJP4Bengal Karyakartas are working very hard to increase the margin in this… pic.twitter.com/rnMFghUG7G
— Suvendu Adhikari (Modi Ka Parivar) (@SuvenduWB) April 29, 2024
এদিকে, আদালতে ইডি দাবি করেছে, শেখ শাহজাহান দুর্নীতির টাকা অস্ত্র ব্যবসায় লাগিয়েছেন। দুর্নীতির টাকা মন্ত্রীদের কাছে গিয়েছে। শুভেন্দু বলেন, সেই মন্ত্রীদের একজন জেলে, আরেক লম্বা বসিরহাটে ঘুরছেন, আরেকজন ব্যারাকপুরের প্রার্থী। সুজিত বসু ও পার্থ ভৌমিকের নাম বলছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে বলেন, সমঝদারদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।












Click it and Unblock the Notifications