Lok Sabha Election Results 2024: ১৮ থেকে ১২! বাংলায় বিপর্যয় বিশ্লেষণে বিজেপি, অন্তর্তদন্তে চাঞ্চল্যকর কারণ
Lok Sabha Election Results 2024: লোকসভা নির্বাচনে এবার বাংলায় বিজেপির ভোটের হার বিগত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় কমেছে। তবে সামান্য বেড়েছে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায়।
আসন ২০১৯ সালে ছিল ১৮, এবার ১২। নরেন্দ্র মোদী চেয়েছিলেন ৪২, অমিত শাহ প্রথমে ৩৫ ও পরে অন্তত তিরিশের টার্গেট দেন। শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা বলছিলেন, তৃণমূলের থেকে একটা হলেও বেশি পাব, তা হয়নি।

বিজেপির জয়ী প্রার্থী থেকে শুরু করে নেতা-কর্মীরা মানছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুফল তৃণমূলের পক্ষেই পড়েছে ভোটবাক্সে। সংখ্যালঘু ভোটও এককাট্টা হয়ে পড়েছে তৃণমূলের পক্ষেই। তৃণমূল গ্রামের মানুষদের যেভাবে বুঝিয়েছে, বিজেপি নেতাদের জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার আবাস বা একশো দিনের টাকা আটকে রেখেছে, এই প্রচারের মোকাবিলায় জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ বিজেপি।
কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। নির্বাচন মোটের উপর নির্বিঘ্নেই হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় পর্যবেক্ষক বা বাহিনীর জওয়ানদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ভোট করাতে হয়- সেই ভাবনার জন্য বিজেপির যে সাংগঠনিক শক্তি প্রয়োজন ছিল তা যে নেই তা বোঝাই যাচ্ছে।
দিলীপ ঘোষ হারার পর কাঠিবাজির অভিযোগ করেছেন। বিজেপির অনেকেই এখন বলছেন, দিলীপ ঘোষ বা সুরিন্দর সিং অহলুওয়ালিয়ার কেন্দ্র বদল ব্যুমেরাং হয়েছে। দলীয় রাজনৈতিক সমীকরণেই কোনও কোনও নেতাকে খুশি রাখতে এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ক্ষোভ জন্মাচ্ছে বিজেপির অন্দরেই।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৭৭ আসন। তাও কয়েকজন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, এবারের লোকসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত আসন পাওয়া না গেলেও প্রায় ১০০ আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি।
উত্তরবঙ্গেও কোচবিহার বাদে আগে জেতা সব আসনই ধরে রেখেছে বিজেপি। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গে ২০১৯-এ জেতা ব্যারাকপুর, মেদিনীপুর, বর্ধমান-দুর্গাপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, আসানসোল (উপনির্বাচনে জিতেছিল তৃণমূল), হুগলি আসন ধরে রাখতে পারেনি গেরুয়া শিবির।
তৃণমূলের হাত থেকে বিজেপি ছিনিয়ে নিয়েছে কাঁথি ও তমলুক, ফলে শুভেন্দু-গড় অটুট। আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্র বিজেপি হেরেছে ৬৩৯৯ ভোটে। এই আসনটি তৃণমূল জিতবে অনেকেই ভাবেননি। কিন্তু এখানে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে বিজেপির বিভিন্ন শিবিরের ভূমিকা।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের ফল সংক্রান্ত রিপোর্ট জেলা থেকে চেয়ে পাঠিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও খুব ভালোভাবে বিষয়টিকে নেয়নি। বিজেপি সূত্রে খবর, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে অন্তর্ঘাতেই হারিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রার্থীদের। প্রার্থী নিয়ে লবিবাজি যার মূল কারণ।
বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এক সংবাদমাধ্যমে বলেই দিয়েছেন, রাজ্যস্তরে এমন অনেক নেতা সামনের সারিতে আছেন তাঁরা কোনওদিন জেতেননি। তাছাড়া অনেকের মধ্যে ভোটে জেতার পর অহংবোধ এসেছিল। যার ফল এবারের নির্বাচনে পেতে হয়েছে। তৃণমূলের জেতার কৌশলও বিজেপির রাজ্যস্তরের অনেকে ধরতে পারেননি।
জেলায় জেলায় বিজেপির আদি ও নব্য নেতা-কর্মী এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। অনুপম হাজরা কিছু আদি বিজেপি নেতা-কর্মীকে জেলায় জেলায় সংগঠিত করছিলেন। তাঁর সেই প্রয়াস রুখে দেওয়া হয়। জেলায় জেলায় বিজেপির পুরানো দিনের অনেকেই সক্রিয় ছিলেন না ভোটের কাজে।
বিজেপির জেলা ও রাজ্যস্তরের অনেকেই তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং করে চলছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে গেরুয়া শিবিরে অন্দরেই। এমনকী অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে দলের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তাঁদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও চলছে।
বিজেপির অনেকে বলছেন, মমতা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে দুর্নীতির প্রশ্নে নেতারা আঙুল তুললেও যেখানে হেমন্ত সোরেন বা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে জেলে ঢোকানো হয়েছে, সেখানে এই রাজ্যের শাসক দলের প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে সংশয় থাকছে। মানুষের মনে জন্মেছে বিরক্তিও। যদি কিছু দোষ না থাকে, তাহলে কেনই বা তাঁদের মিছে আক্রমণ? উঠছে প্রশ্ন।
বিজেপির সারা ভারতে রেজাল্ট ভালো হয়নি। প্রত্যাশার ধারেকাছে পৌঁছতে পারেনি। বিজেপির কেউ কেউ বলছেন, একদিকে ভালোই হয়েছে। বিপুল জনাদেশ নিয়ে এলে বিধানসভা নির্বাচনগুলিকে গুরুত্ব দিত না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ২০২৬ সালে এ রাজ্যে বিধানসভা ভোট। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিশ্চিতভাবেই এবার সংগঠনে ঝাঁকুনি দেওয়া হবে, বুথভিত্তিক সংগঠনে জোর দেওয়া হবে, সেটাই প্রত্যাশা। এবারও লোকসভা নির্বাচনে ছোট ছোট পথসভা না করে জাঁকজমকপূর্ণ সভা বা রোড শো যে জনমানসে প্রভাব ফেলেনি সেটাও স্পষ্ট।












Click it and Unblock the Notifications