Abhijit Ganguly: অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কি বিজেপি প্রার্থী হচ্ছেন? কোন আসন চমকের অপেক্ষায়?
Abhijit Ganguly: অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মঙ্গলবার বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। তারপর তিনি রাজনীতিতেই যোগ দেবেন বলে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, তিনি বিজেপিতেই যোগ দেবেন এবং লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থেকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা জোরালো বলে সূত্রের খবর।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আজ জানিয়েছেন, কাল এজলাসে তাঁর হাতে থাকা কয়েকটি মামলা নিজের লিস্ট থেকে রিলিজ করবেন। এই মামলাগুলির আংশিক শুনানিও হয়েছে। ছুটি কাটিয়ে কালই তিনি কলকাতা হাইকোর্টে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি, দেশের প্রধান বিচারপতি ও কলকাতা হাইকর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ইস্তফা পাঠাবেন। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার হচ্ছে ৫ মার্চ। সেদিন তিনি সাংবাদিক বৈঠকে সব প্রশ্নের উত্তর দেবেন।
নিশ্চিতভাবেই তিনি কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, কিংবা এরপর কী করবেন তা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়েরই সিদ্ধান্ত। বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতিতে যোগদানের পথে সাংবিধানিক কোনও অন্তরায়ও নেই। ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ৭ মার্চ বড় চমক থাকবে।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় ৫ মার্চ ইস্তফা দেবেন এবং রাজনীতিতে যোগ দেবেন বলে জানানোয় জল্পনা জোরালো হচ্ছে, তাহলে কি তিনি বিজেপিতেই যোগদান করবেন? অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সেই ইঙ্গিত না দিলেও পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলের খবর, তিনি তমলুক কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হবেন।
কাঁথি আসনে বিজেপি সৌমেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছে। ফলে অধিকারী পরিবার থেকেই বিজেপি জেলার দুটি আসনে প্রার্থী দেবে না, এটি নিশ্চিত। দিব্যেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দিলে তাঁকে কোনও কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের মতো উচ্চ পদ দেওয়া হতে পারে, দিল্লিতে অফিস থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে বিজেপি তমলুক থেকে প্রার্থী করবে বলে জল্পনা গতি পেয়েছে, বিশেষ করে জাস্টিস গাঙ্গুলি নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করতেই। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে তমলুক কেন্দ্র থেকে সাংসদ হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে লড়ায় উপনির্বাচনে জিতে সাংসদ হন তাঁর ভাই দিব্যেন্দু।
তমলুকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রার্থী করার আলোচনা চলছে অনেক দিন ধরেই। তবে এমন ভাবনাও ছিল যে, বিচারপতি প্রার্থী হলে তাঁর রায়গুলিকে নিয়ে আসরে নামতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। উল্লেখ্য, বিচারপতির একাধিক রায় অস্বস্তি বাড়িয়েছে তৃণমূল তথা রাজ্য সরকারের। তবে তমলুকে যে চমক থাকবে তা কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে।
ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বিজেপি প্রার্থী হলে নিশ্চিতভাবেই তাঁকে নিশানা করা হবে। তাঁর দেওয়া রায়গুলির সঙ্গে রাজনীতি-যোগের মিশেল থাকার দাবিও উঠে আসবে। কিন্তু বিচারপতি থাকাকালীনও তাঁকে রাজ্যের শাসক দলের রাজনৈতিক আক্রমণ ও কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে।
সেক্ষেত্রে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর রাজনৈতিক আক্রমণে পরিস্থিতি খুব একটা বদলাবে না। তাছাড়া শুভেন্দু নিজের গড়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে জিতিয়ে তমলুক আসনটিও দল তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উপহার দিতে চাইতে যে রণকৌশল সাজাবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।












Click it and Unblock the Notifications