পথ দেখিয়েছেন 'দিদি', মোদীকে 'দুষ্কৃতী', 'গুন্ডা' বললেন 'ভাইসকল', শ্রাদ্ধ মিডিয়ারও

হুগলী জেলার উত্তরপাড়ায় রবিবার একটি কর্মীসভায় আয়োজন করেছিল শাসক দল। নামেই কর্মীসভা। আসলে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদী এবং মিডিয়ার আদ্যশ্রাদ্ধ করাই ছিল উদ্দেশ্য। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বর্ষীয়ান নেতাও তাতে গলা মিলিয়েছেন।
কী বললেন তৃণমূলের মন্ত্রী, সাংসদরা?
পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, "বিজেপি সারা দেশে ৩০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশ মানুষ দাঙ্গাবাজ দলকে প্রশ্রয় দেয়নি। একজন দুষ্কৃতী এখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এখন তিনি ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে নেমেছেন। কিন্তু ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার আগে নিজের মনটা পরিষ্কার রাখতে হবে।" দলনেত্রী খুশি হবেন, এটা ভেবে এর পর ফিরহাদ ওরফে ববি হাকিম আরও বলেন, "চাঁদের কলঙ্ক রয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও কলঙ্ক নেই। মিডিয়া হল পুঁজিপতিদের দালাল। আমরা মিডিয়ার সামনে মাথা নোয়াব না।"
"বিজেপি হল কেউটে সাপ। ওরা মাথা তুলে দাঁড়ালে লাঠি নিয়ে তাড়া করতে হবে"
শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, "নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এরা গুন্ডা। একজন দাঙ্গাবাজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এটা ভারতের লজ্জা।" মিডিয়াকে তোপ দেগে কল্যাণবাবু বলেন, "সংবাদপত্রের মালিকদের জ্ঞানের বহর তো অনেক। তা হলে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন না কেন?"
মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, "তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম একজোট হয়েছে। মিডিয়ার একটা অংশ এদের সমর্থন করছে। বিজেপি হল কেউটে সাপ। ওরা মাথা তুলে দাঁড়ালে লাঠি নিয়ে তাড়া করতে হবে। একেবারে গর্তে ঢুকিয়ে দিতে হবে। মোদী এখন ঝাঁটা ধরছে। এটা অপদার্থতার লক্ষণ।"
শিক্ষামন্ত্রী তথা দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, "আমাদের শত্রু কে? শুধু সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি নয়। এক শ্রেণীর সংবাদমাধ্যমও রয়েছে। চতুষ্কোণের একটা কোণ হল এই মিডিয়া।"
এমনকী, কর্মীসভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের দিকে শীতল চাউনি দিয়ে পার্থবাবু বলেন, "এর পর থেকে আমাদের সভায় সংবাদমাধ্যম থাকবে না।"
প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের প্রচারপর্ব চলার সময় নরেন্দ্র মোদীকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে 'দাঙ্গাবাবু', 'গুজরাতের কসাই' ইত্যাদি অভিধা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, "নরেন্দ্র মোদীকে কোমরে দড়ি পরিয়ে জেলে নিয়ে যাওয়া উচিত।" এই মন্তব্য নিয়ে সেই সময় বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলছেন, 'দিদি' পথ দেখিয়েছিলেন। এখন তাঁর 'ভাইরা' সেই পথে হাঁটছেন!












Click it and Unblock the Notifications