বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাব পাশ বিধানসভায়, ব্যাপক বিরোধীতা বিজেপির
তুমুল হট্টগোলের মধ্যে পাশ হয়ে গেল বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাব। আজ মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত ভোটাভুটি ছিল বিধানসভাতে। তীব্র হই হট্টগোলের মধ্যেই মঙ্গলবার পাশ হয়ে যায় বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাব। বিজেপি বিধান পরিষদ গঠনের তীব্র প্
তুমুল হট্টগোলের মধ্যে পাশ হয়ে গেল বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাব। আজ মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত ভোটাভুটি ছিল বিধানসভাতে। তীব্র হই হট্টগোলের মধ্যেই মঙ্গলবার পাশ হয়ে যায় বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাব। বিজেপি বিধান পরিষদ গঠনের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই বিধান পরিষদ গঠনে বাড়তি অনেক টাকা খরচ হবে। আর সেজন্যে বিজেপি বিধায়করা বিধান পরিষদ গঠনের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। যদিও ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়করা। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে নিমেষে পাশ হয়ে যায় প্রস্তাব।
বিধানসভায় ২৬৫ বিধায়ক ভোটে অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৯৬ ভোট পড়ে বিলের পক্ষে। বিপক্ষে পড়ে ৬৯ ভোট। আর এই প্রস্তাব পাশ হয়ে যাওয়ার ফলে রাজ্যে বিধান পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে আর কোনও সমস্যা রইল না। তবে এখনই আইন হিসাবে মান্যতা পাচ্ছে না।
নিয়ম অনুযায়ী লোকসভাতে এই বিলটিকে পাশ করাতে হবে। এরপর সেটি রাজ্যসভাতে যাবে। দুটি আইনসভাতে এই বিল পাশ হয়ে গেলে সেটিকে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। সবদিক খতিয়ে দেখার পরে রাষ্ট্রপতি বিলের উপর চূড়ান্ত স্বাক্ষর করবেন। এরপরে সেটি বিল হিসাবে গ্রাহ্য হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১-তে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে বিধান পরিষদ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চেষ্টা শুরু করেছিলেন পরিশদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় সরকার ও বিরোধীদের নিয়ে অ্যাডহক কমিটি তৈরি করা হয়েছিল. তবে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে বিষয়টি গতি পায়।
ইতিমধ্যেই প্রস্তাব রাজ্য মন্ত্রিসভায় অনুমদিত হয়েছে। এবার বিধানসভাতেও পাশ হল প্রস্তাব। তবে এক্ষেত্রে বলা প্রয়োজন সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে রাজ্য বিধানসভায় বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাব তৃণমূল পাশ করিয়ে ফেলল ঠিক। কিন্তু এই বিল সংসদে পাশ করানোর ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বিজেপিকে। কেননা সেখানে বিজেপি তথা এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠ।
অন্যদিকে এবারের বিধানসভায় তাদের কোনও সদস্য না থাকলেও, বামেরাও আগের মতোই রাজ্যে বিধান পরিষদের বিরুদ্ধে সরব। সে ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিজেপির তরফে এই বিলের তীব্র বিরোধীতা করা হয়েছে।
সেখানে এই বিলের সমর্থনে বিজেপি সাংসদরা থাকবেন না তা একপ্রকার নিশ্চিত। উল্লেখ্য, একটা সময়ে এই রাজ্যে বিধান পরিষদ ছিল। ১৯৬৯ সালে রাজ্য বিধানসভায় সর্বসম্মতিতে তার অবলুপ্তি হয়। সেই সময় উদ্যোগটা ছিল সিপিএম-এর। তাতে মদ দিয়েছিলেন কংগ্রেস এবং যুক্তফ্রন্টের ২২২ জনের সবাই।
তৎকালীন আরএসপির যতীন চক্রবর্তীর প্রস্তাবে সমর্থন করেছিলেন কংগ্রেসের সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। তিনি বিধান পরিষদকে কটাক্ষ করে অ্যাপেনডিক্স নামে অবিহিত করেছিলেন।
বিধান পরিষদকে আর্থিক বিলাসিতার পাশাপাশি গণতন্ত্রের পক্ষে অস্বাস্থ্যকর বলেও কটাক্ষ করেছিলেন, সেই সময় বিধান পরিষদের বিরোধিতা করা বিধানসভার সদস্যরা।












Click it and Unblock the Notifications