পদ্মশ্রী চান না গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, ফেরালেন কেন্দ্র সরকারের দেওয়া সম্মান
৯০-এর উপরে তাঁর বয়স। এখন আর তাঁর দিল্লিতে গিয়ে পদ্মশ্রী নেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। তার থেকেও বড় কথা তাঁর আর মন নেই এই সম্মান প্রাপ্তিতে। এতদিন যখন তাঁকে ওই সম্মানের উপযুক্ত মনে করা হয়নি, চাই না তাঁর সম্মান।
৯০-এর উপরে তাঁর বয়স। এখন আর তাঁর দিল্লিতে গিয়ে পদ্মশ্রী নেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। তার থেকেও বড় কথা তাঁর আর মন নেই এই সম্মান প্রাপ্তিতে। এতদিন যখন তাঁকে ওই সম্মানের উপযুক্ত মনে করা হয়নি, তাই চাই না তাঁর সম্মান। হতাশা আর আক্ষেপ ঝরে পড়ল তাঁর গলায়। কেন্দ্র সরকারের দেওয়া পদ্মশ্রী প্রত্যাখ্যান করলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।

দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবালয় থেকে ফোন এসেছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কাছে। সেই ফোনেই তাঁকে জানানো হয়েছিল, তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানের ভূষিত করা হবে। তা শুনেই অবাক গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তা শুনে পত্রপাঠ সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, তিনি চান না পদ্ম সম্মান।
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এরপর জানান, এভাবে কেউ পদ্ম সম্মান দেয়। এরা জানে না আমি কে, এরা জানে না আমার গান। আমার গান যদি ওরা না জানে তাহলে সেই সম্মানের কি মর্যাদা রয়েছে। তিনি বলেই দেন এটা আমরা আক্ষেপ নয়। আমি পদ্মশ্রীর থেকে ঢের বড় সম্মান পেয়েছি। তা নিয়েই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই।
প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীতশিল্পী স্বর্ণকণ্ঠী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি বড়ে গুলাম আলি খাঁ-র ছাত্রী। তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে গান গাওয়ার সম্মান পেয়েছি। আর কী চাই। এর থেকে বড় সম্মান ওরা আমাকে দিতে পারবে না। আর আমি গান গেয়ে বহু মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার শ্রোতারা আমাকে যে সম্মান দিয়েছে, তার থেকে বেশি কিছু পেতে চাই না।
পদ্মশ্রী ফিরিয়ে তার কোনও হতাশা নেই বলে ব্যক্ত করেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমাকে এই নব্বই বছরে এসে পদ্মশ্রী নিতে হবে? আর ফোন করে বললেই চলে যাব আমি। শিল্পীদের কোনও সম্মান নেই! শিল্পীদের যেখানে সম্মান নেই, শিল্পসত্ত্বার যেখানে সম্মান নেই, সেখানে আর পদ্ম সম্মান দিয়ে কী হবে!
এদিন হিন্দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবালয় থেকে যাওয়া ফোনের প্রত্যুত্তরে বাংলার 'দ্য লিজেন্ড' সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় হিন্দিতেই জানিয়ে দেন, আমার পদ্মশ্রীর কোনও দরকার নেই। শ্রোতারাই আমার সব। শাস্ত্রী সঙ্গীত থেকে আধুনিক বাংলা গানের সুর লহরীতে তিনি বাংলা তথা ভারতকে মাতোয়ারা করে দিয়েছিলেন। চল্লিশের দশক থেকে ৫০ বছরেরও বেশি সময় তিনি আবিষ্ট করে রেখেছিলেন বাংলা সিনেমাকে। তিনি বাংলার গুণমুগ্ধ শ্রোতার মরমে রয়েছে, মরমেই থেকে যাবেন, পদ্মশ্রী পরিচয় দিয়ে তাঁকে চেনানোর প্রয়োজন পড়বে না।












Click it and Unblock the Notifications