মমতা গোটা রাজ্যেই জিতে গেছেন, কর্মিসভায় এসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতানোর আহ্বান বামপন্থীর
ভবানীপুর উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার শুরু করে দিলেন বুধবার থেকে। ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরেছেন। সেই কারণে অহীন্দ্রমঞ্চে তাঁর প্রথম কর্মিসভা ঘিরে কর্মীদের উৎসাহ ছিল দেখার মতো।
ভবানীপুর উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার শুরু করে দিলেন বুধবার থেকে। ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরেছেন। সেই কারণে অহীন্দ্রমঞ্চে তাঁর প্রথম কর্মিসভা ঘিরে কর্মীদের উৎসাহ ছিল দেখার মতো। এরই মধ্যে কর্মিসভায় ঘটে গেল অভিনব ঘটনা। হঠাৎই এক অশীতিপর বৃদ্ধ হাতজোড় করে এগিয়ে এলেন মমতার দিকে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন সভামঞ্চে বক্তব্য রাখার জন্য তৈরি হচ্ছেন। তখনই সেই ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে সুব্রত বক্সি ও ফিরহাদ হাকিমও এগিয়ে আসেন। অসক্ত শরীরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে তিনি কিছু বলতে চান। তখন ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত বক্সি তাঁকে মাইক্রোফোনের সামনে পোডিয়ামে নিয়ে যান।
তখন গোটা কর্মিসভা থ বনে গিয়েছে। সবার কৌতুহলী দৃষ্টি তখন ওই বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া বৃদ্ধের দিকে। কে তিনি? তারপর জানা গেল তাঁর নাম বাদল চট্টোপাধ্যায়। বয়স ৮৪। একটা সময়ে বামপন্থী আন্দোলনের নেতা ছিলেন তিনি। বামপন্থী বাদল চট্টোপাধ্যায় হাতজোড় করে প্রণাম করতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিছু বলতে চেয়েছিলেন। মমতা তাঁকে প্রতি নমস্কার দানিয়ে মাইক্রোফোন এগিয়ে দেন। আপ ফরিহাদ হাকিম-সুব্রত বক্সি তাঁকে পোডিয়ামে নিয়ে গিয়ে কিছু বলার ব্যবস্থা করে দেন।
পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে অশক্ত শরীরে কাঁপা কাঁপা গলায় কিন্তু দরজা কণ্ঠে তিনি বলেন, মমতা একজন সংগ্রামী নেত্রী। মমতা তো গোটা রাজ্যে জিতে বসে আছেন। তাহলে ওঁর বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াবে কেন? সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং সংগ্রামী মানুষদের কাছে আমার অনুরোধ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়যুক্ত করুন।
এরপরই খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, বাদল চট্টোপাধ্যায় এলাকায় দীর্ঘদিনের বাম নেতা। তাঁর পরিবার বাম সমর্থক। তাঁর মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা এবং সকলের কাছে মমতাকে জয়যুক্ত করার আহ্বান এক অন্য বার্তা দিয়ে গেল এদিন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটে লড়বে না বলে জানিয়েছে কংগ্রেস। তারা কোনও প্রার্থীও দেবে না, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচারও করবে না। কিন্তু কংগ্রেস রণেভঙ্গ দেওয়ার পর সিপিএম জানা, কংগ্রেস প্রার্থী না দিলেও তারা প্রার্থী দিতে তৈরি। তারপর বামপ্রার্থী ঘোষণা হয়েও গিয়েছে। আলিপুর আদালেতর আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাসকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। বিজেপির প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দিল্লিতে ছ-জনের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications