বামেরা ধুয়ে মুছে সাফ বাংলায়, লোকসভার ইতিহাসে এই প্রথম ঘটল বেনজির ঘটনা
এক্সিট পোলই সত্যি হতে চলেছে। বাংলা থেকে কার্যত মুছে গেল বামেরা। ৪২ আসনের লড়াইয়ে খাতা খুলতে পারল না সিপিএম, খাতা খুলতে পারল না বামফ্রন্ট।
এক্সিট পোলই সত্যি হতে চলেছে। বাংলা থেকে কার্যত মুছে গেল বামেরা। ৪২ আসনের লড়াইয়ে খাতা খুলতে পারল না সিপিএম, খাতা খুলতে পারল না বামফ্রন্ট। শুধু খাতা খুলতে পারল না বললে ভুল হবে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র কোনও আসনে এক ও দুই নম্বর স্থানে নেই বামেরা।

এবার বামেরা ব্রিগেডে লোক জড়ো করেছিল। কিন্তু তার কিয়দংশও নিজেদের ভোটবাক্সে যায়নি। বাম-ভোট কার্যত গেরুয়া বাক্সে পড়েছে। সেই কারণেই বামেদের ভোট নেমে গিয়েছে ৭ শতাংশে। উল্টোদিকে বিজেপির ভোট বিপুল বেড়ে ৩৯ শতাংশ হয়েছে। তৃণমূল তাদের ৪৫ শতাংশ ভোট ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে। আর কংগ্রেস এখন পর্যন্ত পেয়েছে ৫ শতাংশ ভোট।
২০১৪-র নির্বাচনে বামেরা দুটি আসনে জয়ী হয়েছিল। প্রায় সমস্ত আসনেই বামেরাই ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। কিন্তু পাঁচ বছরের মধ্যে সিপিএম বা বামফ্রন্ট নেমে গিয়েছে এরেবারে তিন বা চার নম্বর স্থানে। এবার প্রায় সব আসনেই সম্মুখ সমরে তৃণমূল বনাম বিজেপি।
বামেরা আশা করেছিল উত্তরবঙ্গের কতকগুলি আসন, মুর্শিদাবাদের জেতা আসন আর যাদবপুরে সিপিএম ভালো ফল করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে শোচনীয় ব্যর্থ বামেরা। কোনও প্রার্থীই দ্বিতীয় স্থানে নেই। ৪২টি আসনেই হয় তৃতীয় স্থানে নতুবা চতুর্থ স্থানে বামফ্রন্ট।
পশ্চিমবঙ্গে ১৯৭৭ সালে থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৩৪ বছর শাসন করেছে বামফ্রন্ট। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটলেও ২০১৬ সালে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মতো জায়গায় ছিল বামেরা। কিন্তু শেষ তিন বছরে গেরুয়া ঝড়ের কাছে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে বামেদের ভোটব্যাঙ্ক।
গতবার বামেরা জিতেছিল রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ আসনে। এবার এই দুই আসনে কার্যত উড়ে গিয়েছে সিপিএম। মুর্শিদাবাদে এগিয়ে তৃণমূল, রায়গঞ্জে এগিয়ে বিজেপি। দুটি কেন্দ্রেই তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে বিজেপি। আর যাদবপুরেও সিপিএম পিছিয়ে গিয়েছে তৃতীয় স্থানে। ৩৪ বছরের শাসক দল বামেরা লিলিপুটে পরিণত হল। এই প্রথম রাজ্য থেকে কোনও আসন পেল না সিপিএম বা বামেরা।












Click it and Unblock the Notifications