থিমের জোয়ার লক্ষ্মীপুজোয়, দেশপ্রিয় পার্কের অনুকরণে ৪০ ফুটের ‘বড়’ লক্ষ্মী খালনায়
শারদ বন্দনার রেশ ধরেই কোজাগরী পূর্ণিমায় এবারও থিমের জোয়ার ভাসছে 'লক্ষ্মীগ্রাম' খালনা। সাবেকিয়ানার পাশাপাশি মণ্ডপ ও প্রতিমাসজ্জার বিষয় ভাবনায় চমক এখানকার তিনদিনের লক্ষ্মীপুজোতেও। ডাইনোসরের মডেলে বিলুপ্ত প্রাণীর সন্ধান থেকে বৃক্ষ সংরক্ষণ, ইসকনের মন্দির থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল- খালনার লক্ষ্মীপুজোর থিমে জায়গা করে নিয়েছে এরকমই নানান বিষয় ভাবনা।
৪০ ফুটের লক্ষ্মী প্রতিমার আকর্ষণ তো আছেই, সেই সঙ্গে পদ্ম ফুলের আদলে মণ্ডপ সজ্জা কিংবা ঘাস বা পাটকাঠির তৈরি মণ্ডপে নিপুণ শিল্প কর্মের সাক্ষী এবারের লক্ষ্মীপুজোর খালনা। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে খালনার বড় উৎসব লক্ষ্মীপুজোয় গত ১৭-১৮ বছর ধরে থিমপুজোর রমরমা চলছে। বিষয় ভাবনা ও বৈচিত্রে নূতনত্ব এনে খালনার পুজো কমিটিগুলো বিশালাকার মণ্ডপ উপহার দিচ্ছে দর্শনার্থীদের।

১৫০ বছর পুর্তি উপলক্ষে খালনার ক্ষুদিরায়তলার কোহিনুর ক্লাবের লক্ষ্মীপুজোর থিম 'বিলুপ্ত প্রাণীর সন্ধানে' ডাইনোসরের যুগ থেকে জীবকুলের বিবর্তনের প্রতিটি ধাপ তুলে ধরা হয়েছে ক্ষুদিরায়তলার এই পুজোমণ্ডপে। পাশাপাশি কালীমাতা তরুণ সংঘের চমক ৪০ ফুটের লক্ষ্মী প্রতিমা। মা লক্ষ্মীর বিশালাকার এই রূপই কালীমাতা তরুণ সংঘের মণ্ডপ সজ্জার থিম। একেবারে দেশপ্রিয় পার্কের আদলেই ৪০ ফুট লক্ষ্মী প্রতিমা তৈরি করে চমক দিতে প্রস্তুত এই পুজো কমিটি।
বরাবরই সাবেকিয়ানায় বিশ্বাসী কৃষ্ণরায়তলা লক্ষ্মীপুজো কমিটি। এখানকার সাবেকি ধাঁচের লক্ষ্মী প্রতিমা এবার পুজিতা হবেন ইসকনের মন্দিরে। কৃষ্ণরায়তলায় লক্ষ্মীপুজোর মণ্ডপ তৈরি হয়েছে ইসকন মন্দিরের আদলে। বলাইস্মৃতি লক্ষ্মীমন্দির পুজো কমিটি তাদের থিমে তুলে ধরেছে বৃক্ষ সংরক্ষণের ইতিবৃত্ত। 'আমরা সবাই' খড়ের চালার মাটির বাড়িতে এবার লক্ষ্মী আরাধনায় মেতেছে। তাদের বিষয় ভাবনায় এবার স্থান করে নিয়েছে সাজানো গোছানো ছোট্ট একটি গ্রাম। গ্রামের সেই মাটির বাড়িতে আগমন দেবী লক্ষ্মীর।

সম্প্রীতির মেলবন্ধনে প্রতিবারই 'আমরা সকল'-এর লক্ষ্মী আরাধনা স্বতন্ত্র রূপ নেয়। এবার তাদের উপস্থাপনা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। পদ্মফুলের আদলে মণ্ডপ তৈরি করে চমকে দিয়েছে করুণাময়ী কিশোর সংঘ। একইভাবে আনন্দময়ী তরুণ সংঘ এবার লক্ষ্মীপুজোর মণ্ডপ গড়েছে ঘাসের শিল্পসুষমায়। মিতালী সংঘের উপস্থাপনা চারমিনার গেট। পাটকাঠি দিয়ে তৈরি হয়েছে তাদের এই মণ্ডপ। 'একতা'র মণ্ডপ সজ্জায় উঠে এসেছে আস্ত একটা রাজবাড়িই। এছাড়াও উল্লেখ্য বাদামতলা ইয়ং কর্নার, পূর্ব খালনা লক্ষ্মীপুজো কমিটি ও মালঞ্চ লক্ষ্মীমাতা কমিটির পুজোও।
আর যে পুজোর কথা না বললেই নয়, তা হল খালনার দুই শতাব্দী প্রাচীন চারুময়ী লক্ষ্মীমন্দিরের পুজো। বরাবরই এই পুজো হয়ে থাকে সনাতন ঐতিহ্যের ধারা মেনে। এবারও তার অন্যথা হয়নি।
খালনার পাশাপাশি বড় বাজেটের সর্বজনীন লক্ষ্মীপুজো হচ্ছে পাশের গ্রাম বাঁকুড়াতেও। বাঁকুড়ার সরস্বতী স্পোর্টিং ক্লাব ও বাঁকুড়া দক্ষিণপাড়া লক্ষ্মীপুজো কমিটির পুজোও বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এই গ্রামেও পুজোর সংখ্যা কালের নিয়মেই বেড়ে চলেছে। এবার দশটির বেশি পুজো হয় বাঁকুড়া গ্রামে।
খালনার রেশ ধরেই বাগনানের জোকা গ্রামও বিগত ২০-২৫ বছর ধরে লক্ষ্মী উৎসবে মেতে উঠেছে। নয় নয় করে ২২- ২৪টি বিগ বাজেটের পুজো হয় এই গ্রামে। এই গ্রামের পুজোতেও থিমের লড়াই শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরে। একইভাবেই শ্যামপুরের নাকোল গ্রামেও সর্বজনীন লক্ষ্মীপুজোর চল আরম্ভ হয়েছে। এবং দিনের পর দিন তা উৎসবের রূপ নিচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications