Weather Update: বাংলার উপকূলে হাজির নিম্নচাপ, অতিপ্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনায় জারি আবহাওয়া দফতরের লাল সতর্কতা
Weather Update: বাংলার উপকূলে হাজির নিম্নচাপ, অতিপ্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনায় জারি আবহাওয়া দফতরের লাল সতর্কতা
মায়ানমার উপকূলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত বাংলা অভিমুখী হয়ে বর্তমানে উত্তর-পূর্ব এবং সংলগ্ন পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে ঘূর্ণাবর্তও। পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় এই নিম্নচাপ আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে আবহাওয়া দফতর (Weather Office)। যার জেরে বাংলার বিভিন্ন জেলায় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে আবহাওয়া দফতর থেকে।

দক্ষিণবঙ্গে লাল সতর্কতা
নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী থেকে অতি প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা (২০ সেমির বেশি) ২৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারের জন্য পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও এইদিন ভারী থেকে অতিভারী (৭-২০ সেমি) বৃষ্টি হতে পারে উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং ঝাড়গ্রামে। এর জন্য জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও এদিন কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
২৯ সেপ্টেম্বর বুধবারের জন্য পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিন ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানে।

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া
এদিন আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলারই কোথাও না কোথাও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে জলপাইগুড়ি হোক কিংবা মালদহ, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
মঙ্গলবার বিকেলে দেওয়া কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে আগামী ২৪ ঘন্টায় আকাশ সাধারণভাবে মেঘলা থাকবে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ২৯ ও ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। কলকাতায়ও ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে আবহাওয়া দফতরের তরফে।

জেলায় জেলায় দমকা হাওয়া
আবহাওয়া দফতরের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ঘন্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাবে। যার সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘন্টায় ৬০ কিমি। উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়ায় হওয়ার বেগ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিমি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা
আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সমুদ্রে ঘন্টায় প্রায় ৪৫ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইছে। এই কারণে আপাততভাবে মঙ্গলবারের পাশাপাশি বুধবারেও মৎস্যজীবীরা যেন সমুদ্রে মাছ ধরতে না যান।

সাধারণ মানুষের ওপরে সম্ভাব্য প্রভাব
আবহাওয়া দফতরের তরফে, সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, একদিকে যেমন বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন পুরসভার নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হতে পারে। ক্ষতম হতে পারে জমিতে থাকা সস্যের। ভারী বৃষ্টির জেরে দৃশ্যমানতা কমতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় ঘরে থাকতে কিংবা পাকা কোনও পরিকাঠামোর নিচে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়ি থেকে বেরনোর আগে নির্দিষ্ট রুট সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে বলা হয়েছে। যেসব এলাকায় জল জমে, সেইসব এলাকা এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের উপকূল এলাকা এড়িয়ে চলতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা( ডিগ্রি সেলসিয়াস)
ব্র্যাকেটে আগের দিনের তাপমাত্রা
আসানসোল (৩৩.৪)
বালুরঘাট (৩১.৮)
বাঁকুড়া (৩৩)
ব্যারাকপুর (৩৩.৬)
বহরমপুর (৩৬.২)
বর্ধমান (৩৩.৪)
ক্যানিং (৩২.৬)
কোচবিহার (৩৭.৮)
দার্জিলিং (২২)
দিঘা (৩২.১)
কলকাতা (৩২.৬)
মালদহ (৩৬)
পানাগড় (৩৩.৫)
পুরুলিয়া (৩২.৩)
শিলিগুড়ি (৩৫.২)
শ্রীনিকেতন (৩৪.১)

দেশের আবহাওয়া
তেলেঙ্গানার ওপরে থানা নিম্নচাপ পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বর নাগাদ যা গুজরাত উপকূলের কাছে আরবসাগরে পৌঁছে যাবে। সেখানে গিয়ে সেটি ফের শক্তি সংগ্রহ করবে এবং বৃষ্টি হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর নাগাদ গুজরাত, উত্তর মধ্য মহারাষ্ট্র, মারাঠওয়াড়া, উত্তর কোঙ্কনে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর নাগাদ ভারী থেকে অতিভারীব বৃষ্টি হবে ওড়িশা, ঝাড়খ্ণ্ড, উত্তর মধ্য মহারাষ্ট্র, উত্তর কোঙ্কনে। ৩০ সেপ্টেম্বর নাগাদ ভারী থেতে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications