লতার কণ্ঠে বিরাজমান ছিলেন রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ! মণিহার করেছিলেন আধাত্মিকতাকে
লতার কণ্ঠে বিরাজমান ছিলেন রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ! মণিহার করেছিলেন আধাত্মিকতাকে
গানকেই গলার হার করেছিলেন সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। আর তাঁর কণ্ঠে তিনি ধারণ করেছিলেন রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দকে। ভারতীয় সঙ্গীতের দেবী সরস্বতী লতা মঙ্গেশকর আধাত্মিকতাকে মণিহার করেই জীবন ও গানের তরণী ভাসিয়েছিলেন। ৯২ বছর বয়সে ইহলোক ছেড়ে অন্য সুরলোকে চলে যাওয়ার আগে তিনি বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন তাঁর জীবনটাই ছিল সাধনার।

বাংলাকে পরতে পরতে আঁকড়ে ধরেছিলেন লতা
প্রায় ৮০ বছর ধরে তিনি সঙ্গীত জগতে বিরাজ করছেন। তাঁর কণ্ঠ-মাধুর্যে তিনি মোহিত করে দিয়েছেন আসমুদ্র হিমাচলের মানুষকে। শুধু ভারতই নয়, বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছিল তাঁর। আর হিন্দি সঙ্গীত জগতের রানি হওয়া সত্ত্বেও বাংলার প্রতি ছিল তাঁর অনুরাগ। বাংলা সংস্কৃতির প্রতি তিনি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল। তাই বাংলাকে তিনি পরতে পরতে আঁকড়ে ধরেছিলেন তাঁর সঙ্গীত জীবনে।

রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখেছিলেন তাঁর হেমন্তদার কাছেই
সঙ্গীত জীবনের শুরুতেই তিনি বাঙালির সাহচর্য পেয়েছিলেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সহাত ধরে তিনি শুধু সাফল্যের শিখরে উঠেছিলেন তা নয়, বাংলা সঙ্গীত জগতেও তাঁর প্রবেশ হয়েছিল প্রবাদপ্রতিম সুরসাধক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্যের কারণে। তিনি বাংলা সঙ্গীত জগতে এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন। আর রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখেছিলেন সেই হেমন্তদার কাছেই।

লতার অনুপ্রেরণা ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ
বাংলা গানের পাশাপাশি সাহিত্য অনুরাগীও ছিলেন লতা মঙ্গেশকর। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যের মারাঠি অনুবাদ তিনি পড়েছিলেন। বাংলা সংস্কৃতিকে তিনি মিলিয়ে নিয়েছিলেন নিজের চিন্তাধারার সঙ্গে। সেই চিন্তাধারা থেকেই তিনি তাঁর জীবনকে আধ্যাত্মিক খাতে বইয়ে দিয়েছিলেন। সেই কাজে তাঁর অনুপ্রেরণা ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ।

লতা ঠাকুরঘরেও রেখেছিলেন রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ-সারদাদেবীকে
লতা মঙ্গেশকর ছিলেন রামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের একনিষ্ঠ ভক্ত। একথা অনেকে জানেন আবার অনেকে জানেন না। সেই কারণে সুকণ্ঠী লতা তাঁর গলার মণিহারে স্থান দিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ও স্বামী বিবেকানন্দকে। তাঁর গলার লকেটে ছিল দুই মহাপুরুষের প্রতিকৃতি। তাঁর গলায় জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ছিল রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের সেই ছবি। শুধু গলায় নয়, লতা তাঁর ঠাকুরঘরেও রেখেছিলেন রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দকে। রেখেছিলেন মা সারদাদেবীকে।

লতার গলায় লকেটে রয়েছেন শ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামীজি
লতা মঙ্গেশকর ছোটবেলা থেকেই ছিলেন বিবেকানন্দ-প্রেমী। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তিনি। কলকাতায় এসে এক অনুষ্ঠানে লতা মঙ্গেশকর বলেছিলেন, বিবেকানন্দের সমস্ত বই আমার কাছে আছে। ভগিনী নিবেদিতারও বইও আমার সংগ্রহে আছে। সেই ছোট থেকেই এই বই পড়ে বড় হয়েছি। এখনও পড়ি যখনই সময় পাই। বিবেকানন্দ আমার জীবনের আদর্শ। আমার ভাই হৃদয়নাথ রামকৃষ্ণ মিশনে দীক্ষিত। সে-ই আমাকে সব বই এনে দিয়েছে। আর আমি প্রথমবার কলকাতায় এসেই হেমন্তদা আর বেলা বৌদির সঙ্গে বেলুড় মঠে গিয়েছিলাম। সেই থেকেই আমার গলায় লকেটে রয়েছেন শ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামীজি।












Click it and Unblock the Notifications