বাম ছেড়ে বিজেপি হয়ে লক্ষ্মণ কংগ্রেসে কাটালেন তিন বছর! এবার তিনি প্রদেশ সহ সভাপতি
লক্ষ্মণ শেঠকে এবার বড় পদে অভিষিক্ত করল কংগ্রেস। কিছুদিন আগেই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে বা আম আদমি পার্টিতে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। তারপর তাঁকে রাজ্য সহ সভাপতি পদ দিল কংগ্রেস।
লক্ষ্মণ শেঠকে এবার বড় পদে অভিষিক্ত করল কংগ্রেস। কিছুদিন আগেই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে বা আম আদমি পার্টিতে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। তারপর তাঁকে রাজ্য সহ সভাপতি পদ দিল কংগ্রেস। ফলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে গুরুত্ব বাড়ল লক্ষ্মণ শেঠের।

মঙ্গলবার কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মুস্তাক আলম চিঠি দিয়ে জানান, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী আপনারে রাজ্য সহ সভাপতি পদে নিয়োগ করতে পেরে আনন্দিত। আমরা এই দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম, আপনার কাছে থেকে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ মেনে সম্পূর্ণ সহযোগিতা ও সক্রিয় সমর্থন লাভ করব।
পূর্ব মেদিনীপুরের অবিসংবাদী নেতা লক্ষ্মণ শেঠ। এককালে তাঁর নামে বাঘে-বলদে এক ঘাটে জল খেত। তখন ছিল সিপিএমের জমানা। তারপর এক নন্দীগ্রাম-কাণ্ড লক্ষ্মণ শেঠের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। লক্ষ্ম শেঠের গড় তৃণমূলের হাত ধরে উত্থান হয় শুভেন্দু অধিকারী নামে এক তরুণ তুর্কি নেতার।
সিপিএমে কোণঠাসা হয়ে এক সময় বহিষ্কৃত হন লক্ষ্মণ শেঠ। তারপর সিপিএম ছেড়ে তিনি পাড়ি জমান বিজেপিতে। বিজেপিতে তিনি পসার লাভ করতে পারেননি। বিজেপি তাঁকে নিয়ে অনেক আশা করলেও লক্ষ্ম শেঠের হাত ধরে পূর্ব মেদিনীপুরে কল্কে পায়নি। তারপরই বিজেপিতেও তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েন।
তারপর থেকেই তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল না কখনই। লক্ষ্মণ শেঠকে নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। শেষে কোনও দল না পেয়ে তিনি কংগ্রেসে ভেড়েন। কিন্তু কংগ্রেস গিয়েও তাঁকে সক্রিয় ভূমিকায় বা সক্রিয় অংশগ্রহণে এতদিন দেখা যায়নি। তিনি আড়ালেই রয়ে গিয়েছেন এতদিন।
এই পরিস্থিতিতে ফের তিনি দলবদল করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি পাঞ্জাব নির্বাচনে আম আদমি পার্টির কাছে ক্ষমতা খুয়ানোর পর কংগ্রেস ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন লক্ষ্মণ শেঠ। তিনি বলেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করতে তিনি আগ্রহী। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে পাত্তা দিচ্ছে না। তাই আম আদমি পার্টিতে যোগ দিতে চান লক্ষ্মণ শেঠ। কিন্তু আম আদমি পার্টিতেও তাঁর যাওয়া হয়নি। কংগ্রেসেই থেকে গিয়েছিলেন তিনি।
কংগ্রেসে যোগদানের পর সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। এতদিন পর তাঁকে প্রদেশের বড় পদ দিল কংগ্রেস। এর আগে জেলায় কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তাঁর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। বলেছিলেন লক্ষ্মণ শেঠ এফেক্টে ভরাডুবি হচ্ছে জেলা কংগ্রেসে। তবে এবার তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি পদে।












Click it and Unblock the Notifications