প্রায় ১০০ ঘণ্টা! কুর্মিদের অবরোধে বাতিল ৭১ টি ট্রেন, স্তব্ধ সড়কপথ
প্রায় ১০০ ঘন্টা পার! স্বীকৃতি সহ একাধিক দাবিতে ধর্মঘট চালাচ্ছেন কুর্মিরা। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ গোটা পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে চলছে এই অবরোধ-বিক্ষোভ কর্মসূচি। দীর্ঘ এই কর্মসূচির কারণে একেবারে স্তব্ধ রেল এবং সড়ক যোগাযোগ। এই অবস্থায় চূড়ান্ত সমস্যায় সাধারণ মানুষ।

আজ শনিবার চতুর্থদিনে পড়ল আন্দোলন
কুর্মিদের বিক্ষোভ আজ শনিবার চতুর্থদিনে পড়ল। বিভিন্ন স্টেশনে এখনও আন্দোলনকারীরা শুয়ে বসে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যার ফলে আজও একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘুরপথে চালানো হচ্ছে দূরপাল্লার ট্রেনগুলিকে। এমনকি অনেকগুলি ট্রেন ছোট ছোট রুটে চালানো হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৭২ টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতল করা হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে।

আর্থিক ক্ষতির মুখে ভারতীয় রেল
এছাড়াও ভুবনেশ্বর-দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস, শালিমার, লোকমান্য তিলক সহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি দূরত্ব এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনটি আজ শনিবারও বাতিল থাকছে বলে জানা গিয়েছে। দিনের পর দিন এভাবে ট্রেন অবরোধে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে ভারতীয় রেল। যদিও রেলের তরফে ইতিমধ্যে আন্দোলনকারীদের বোঝানোর কাজ শুরু হয়েছে।

একেবারে স্তব্ধ জাতীয় সড়কও
অন্যদিকে একেবারে স্তব্ধ জাতীয় সড়কও। রাজ্য সড়কের পাশাপাশি ছয় নম্বর জাতীয় সড়ক গত চারদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অবরোধের কারনে দীর্ঘ রাস্তা জুড়ে পণ্যবাহী গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাড়িতেই নষ্ট হচ্ছে একাধিক জিনিস। এই অবস্থায় আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ানোর হুঁশিয়ারি কুর্মী আন্দোলনকারীদের। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার তাদের দাবির ব্যাপারে একেবারে উদাসীন। সি আর আই রিপোর্টের ওপর জাস্টিফিকেশন কেন্দ্রকে কেন পাঠানো হল না তা নিয়ে প্রশ্ন আন্দোলনকারীদের।

জঙ্গলমহল স্তব্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি
এরপরেও কোনও ব্যবস্থা না নিলে গোটা জঙ্গলমহল স্তব্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি আন্দোলনকারীদের। শুধু তাই নয়, আরও একাধিক রাজ্য সড়ক এবং জাতীয় সড়কগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি কুর্মিদের। আর তা করে দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বলে রাখা প্রয়োজন, তফশিলি উপজাতির তালিকাভুক্ত করতে হবে কুর্মিদে। এছাড়াও সারনা ধর্মকে স্বীকৃতি, কুড়মালি ভাষাকে প্রাধান্য সহ একাধিক দাবিতে এই আন্দোলন চলছে আধিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের।

নজর রাখছে নবান্ন
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের তরফে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক করা যায় সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে নবান্নও। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি তাঁদের সঙ্গে কেউ কথা বলেনি এখনও পর্যন্ত। ফলে আন্দোলন জারি থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications