মুকুলকে ‘শিখণ্ডী’ করে তৃণমূলের পর্দা ফাঁস করলেন কুণাল! প্রকাশ্যে কালো টাকা বিতর্ক
দুদিন আগেই দুজনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরই কী এমন হল মুকুল রায়কে ফের কাঠগড়ায় তুললেন কুণাল? তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তৃণমূল ছেড়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। দুদিন আগেই দুজনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরই কী এমন হল মুকুল রায়কে ফের কাঠগড়ায় তুললেন কুণাল? তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আসলে মুকুল রায়কে শিখণ্ডি করে তৃণমূলকে 'নগ্ন' করাই ছিল দলের বহিষ্কৃত রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষের উদ্দেশ্য।

শনিবার মুকুলের বিরুদ্ধে যে পঞ্চবাণ হেনেছিলেন কুণাল ঘোষ, তাতে ধন্দ তৈরি হয়েছিল- সত্যিই কি তিনি মুকুল রায়কে আক্রমণ করছেন, নাকি তাঁর আক্রমণের মূলে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসই। রাজনৈতিক মহলের পর্যালোচনায় একপ্রকার পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, কুণালের মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূল কংগ্রেসই। তিনি নথিপত্র সহযোগে সাংবাদিক বৈঠক করে বেআব্রু করে দিলেন তৃণমূলকে। তৃণমূলের কালো টাকার সূত্র ফের সামনে এনে দিলেন তিনি।
মুকুল রায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই কথা উঠেছিল, তবে কি তিনি মুকুলের হাত ধরে বিজেপিতে নাম লেখাচ্ছেন? সে জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কুণাল জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি তৃণমূলেরই সৈনিক। কিন্তু তারপরই মুকুলকে আক্রমণের নামে তৃণমূলের এই পর্দা ফাঁস করা রাজ্য রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি এই বিতর্কিত ইস্যুকে সামনে এনে বিরোধীদের হাতেও অনেক অস্ত্র তুলে দিলেন। এখন বিরোধীরা তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেন কি না- সেটাই দেখার।
শনিবার তিনি য়ে পাঁচটি বিষয় উল্লেখ করেছিলেন, তার মধ্যে সবথেকে সাংঘাতিক অভিযোগ ছিল তৃণমূলের তহবিলে জমা হওয়া ৯ কোটি ১৮ লক্ষ ৮৪ হাজার ১১৫ টাকা কোথা থেকে এল। এই টাকার উৎস কী। মুকুল রায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীনই ওই টাকার বেশিরভাগ অংশ জমা হয়েছিল। তাই এর জবাব তিনি মুকুল রায়ের কাছ থেকেই চান।
মুকুল রায়ের কাছে জবাব চাইলেও, কুণালের এই অভিযোগ তৃণমুলের কালো টাকার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। এই কালো টাকার জন্য তৃণমূলকে সমস্যায় পড়তে হবে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি। আদতে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করছেন মনে হলেও, তিনি প্রকারান্তরে তৃণমূলের তহবিলে জমা টাকা নিয়ে বিতর্ক উসকে দিলেন।
এই টাকা ২০১১ থেকে ২০১৪-র মধ্যে তিনটি জায়গা থেকে তৃণমূলের তহবিলে জমা পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই টাকাকে তৃণমূল বলছে অনুদান, আর যে সংস্থাগুলি থেকে টাকা দেওয়া হয়েছিল, তারা বলছে ঋণ। এই বিতর্কের মধ্যেই বড় বিপদ লুকিয়ে রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন কুণাল। কী বিপদ হতে পারে, তার ব্যাখ্যাও দেন তিনি। মুকুল রায়ের কাছে জবাবদিহি চেয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধীদের হাতই তিনি শক্ত করে গেলেন।












Click it and Unblock the Notifications